ব্যবস্থাপনায় একার্থক পরিকল্পনার অসুবিধা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। একার্থক পরিকল্পনার অনেকগুলো সুবিধা বলা হলেও সাধারণ, নিয়মিত ও অবিরাম কর্মপ্রবাহের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া এর তেমন কোনো প্রয়োগ নেই বললেই চলে। এরূপ পরিকল্পনার যে সকল অসুবিধা লক্ষণীয় তা নিম্নরূপ:
Table of Contents
ব্যবস্থাপনায় একার্থক পরিকল্পনার অসুবিধা

১. প্রয়োগ ক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা (Limited scope of application) :
সাধারণ মানের কাজ যা নিয়মিত সম্পাদিত হয় বা যেখানে অবিরাম প্রক্রিয়ায় মোটামুটি একই ধরনের কাজ সম্পাদিত হয় সেখানে একার্থক পরিকল্পনা ব্যবহার করা যায় না। ফলে এরূপ পরিকল্পনার প্রয়োগ ক্ষেত্র সীমিত। এ সকল প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজনে বা বিশেষ উদ্দেশ্যেই এর ব্যবহার করা হয়।
২. সময়সাপেক্ষ (Time consuming) :
বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এরূপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিধায় পরিকল্পনা প্রণয়নে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। কারণ তা একবার কার্যক্ষেত্রে অকার্যকর প্রমাণিত হলে এতে সংশোধন করে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না । তাই এরূপ পরিকল্পনার পিছনে অধিক সময় ব্যয় হয় ।
৩. ব্যয়সাপেক্ষ (More expensive):
এক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণ সময়সাপেক্ষ বিধায় এতে নির্বাহীদের অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় হয় । এতে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ে অন্যদিকে এরূপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে ফলাফল মূল্যায়ন এবং কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন ও সময় ব্যয় করতে হয় । ফলে সামগ্রিক ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যায় ।
৪. যোগ্য কর্মী ও নির্বাহীর অভাব (Lack of capable employees and executives):
একার্থক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কাজের প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে নতুনধর্মী হওয়ায় তা বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য কর্মী ও নির্বাহী খুঁজে পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া এরূপ পরিকল্পনার আওতায় কাজের ধরন সাময়িক প্রকৃতির হওয়ায় স্বভাবতই যোগ্য ব্যক্তিবর্গ এখানে কাজ করতে নিরুৎসাহ বোধ করে ।
৫. সুষ্ঠু কর্ম নিয়মাবলির অভাব (Lack of effective rules of business):
এক্ষেত্রে পরিকল্পনা সাধারণভাবে বিশদ বর্ণিত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু কর্ম নিয়মাবলির অভাব পরিলক্ষিত হয় । কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা, কাজের রুটিন, ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতি কার্যত এক্ষেত্রে থাকে না । ফলে ঊর্ধ্বতনদের খেয়াল-খুশির ওপর সবাইকে নির্ভর করতে হয় ।

৬. কর্মীদের কাজ হারানোর সম্ভাবনা (Possibility of termination) :
এ ধরনের পরিকল্পনার আওতায় কাজ অনেকটা সাময়িক প্রকৃতির হওয়ায় উদ্দেশ্য অর্জিত হলে বা কোনো কারণে প্রোগ্রাম বা প্রজেক্ট বাতিল হলেও কর্মীরা কাজ হারায় । যে কারণে কর্মীরা সব সময়ই কাজ হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন থাকে । ফলে তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ।
