ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিকল্পনার অসুবিধা

ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিকল্পনার অসুবিধা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। স্থায়ী পরিকল্পনার অনেক ধরনের সুবিধা বলা হলেও এরূপ পরিকল্পনা একেবারে ত্রুটিমুক্ত এ কথা বলা যায় না । এর যে সকল অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা লক্ষণীয় তা নিম্নে তুলে ধরা হলো :

ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিকল্পনার অসুবিধা

 

ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিকল্পনার অসুবিধা | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতা (Failure in managing changing situation) :

পরিবির্তনশীল এ পৃথিবীতে সব কিছুই বদলায় । এই বদলের গতি কোথাও হয় দ্রুত আবার কোথাও দেরিতে । যে সকল ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত বদলায় সেখানে স্থায়ী পরিকল্পনা কখনই ব্যবহার করা যায় না। আবার যে সকল প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পরিকল্পনা ব্যবহৃত হয় সেখানেও এমন কিছু সমস্যা লক্ষ করা যায় যা সমাধানে এ জাতীয় পরিকল্পনার ব্যবহার না করে একার্থক পরিকল্পনার ব্যবহার করা হয় ।

২. অনমনীয়তার প্রতি ঝোঁক (Tendency toward regidity) :

স্থায়ী পরিকল্পনার একটা বড়ো অসুবিধা হলো এতে অনমনীয়তার প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন সেখানেও স্থায়ী পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন এনে মূল পরিকল্পনাকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয় । ফলে তা হতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না । নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির ঝামেলা এবং নতুন পরিকল্পনার ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও ঊর্ধ্বতনগণ নতুন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনায় নিরুৎসাহ বোধ করে । এতেও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

 

৩. সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল (Time consuming and expensive) :

স্থায়ী পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহৃত হয় বিধায় এরূপ পরিকল্পনা প্রণয়নে যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন পড়ে। এ জন্য বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিচার বিশ্লেষণ করতে হয় । ফলে তা প্রণয়ন যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও সেই সঙ্গে ব্যয়বহুল হয়ে থাকে । এ ছাড়া এ ধরনের পরিকল্পনার আওতায় প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণকে নির্দিষ্ট ছকে সাজানো হয়। ফলে এতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তাও যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে ।

৪. কর্মবৈচিত্র্যের অভাব (Lack of diversification) :

এ ধরনের পরিকল্পনাতে একই ধরনের কাজ, পদ্ধতি বা প্রতিক্রিয়া দীর্ঘকাল ব্যবহৃত হওয়ায় কার্যক্ষেত্রে কোনো বৈচিত্র্য থাকে না। ফলে কাজে একঘেয়েমির সৃষ্টি হয় । এতে কাজে-কর্মে এক ধরনের নিরুৎসাহের ভাব লক্ষ্য করা যায় ।

 

ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পরিকল্পনার অসুবিধা | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৫. মনোবলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া (Negative reaction on morale) :

স্থায়ী পরিকল্পনার আওতায় কাজে শুধুমাত্র একঘেয়েমিই দেখা দেয় না সংশ্লিষ্ট সকলের মনোবলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । ঊর্ধ্বতনগণ একই ধরনের পরিকল্পনার আওতায় চলতে গিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার শক্তি ও সাহস হারায় । নতুন কিছু শেখার সুযোগ থেকে সবাই বঞ্চিত হয়। উদ্যম ও উদ্যোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । এতেও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Leave a Comment