ব্যবস্থাপনার আওতা, ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু

ব্যবস্থাপনার আওতা, ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনার পরিচিতি” বিষয়ক পাঠের অংশ।  ‘Management is universal’- গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস-এর এ বক্তব্য থেকেই বুঝা যায় ব্যবস্থাপনার আওতা বা ক্ষেত্র কতটা ব্যাপক। সম্মিলিত যেকোনো কর্মপ্রচেষ্টায় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত অপরিহার্য একটা উপাদান বা শক্তি।

Table of Contents

ব্যবস্থাপনার আওতা, ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু

 

ব্যবস্থাপনার আওতা, ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু | ব্যবস্থাপনার পরিচিতি | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

মানবীয় প্রচেষ্টাকে লক্ষ্যাভিমুখী করে বস্তুগত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই ব্যবস্থাপনার কাজ । তাই যেখানেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতিপয় ব্যক্তি একত্রে কাজ করে সেখানেই ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি বিদ্যমান । যে কারণেই পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সর্বত্রই ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায় । নিম্নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবস্থাপনার আওতা তুলে ধরা হলো :

ক) প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক দিক থেকে আওতা (Scope from institutional or organizational point of view) :

বর্তমানকালে পরিবার থেকে রাষ্ট্র এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কার্যের অধীন। নিম্নে প্রতিষ্ঠানভেদে ব্যবস্থাপনার আওতা উল্লেখ করা হলো :

১. পারিবারিক জীবনে ব্যবস্থাপনা (Management in family life) :

সংঘবদ্ধ মানব জীবনে পরিবার একটা প্রাথমিক অথচ শক্তিশালী সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান । এখানে পরিবার প্রধান হিসাবে পিতা বা মাতা। পরিবারের অন্যদের লালন-পালন ও পরিচালনা করেন । সাংসারিক আরাম-আয়েশ বৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য তিনি পরিবারের সকল সামর্থ্যের সদ্ব্যবহার এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানে সবসময়ই সক্রিয় থাকেন ।

২. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনে ব্যবস্থাপনা (Management in political and social organization) :

সংঘবদ্ধ মানবজীবন পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের সংগঠন গড়ে উঠেছে । স্থানীয় প্রশাসন বা সংস্থা; যেমন-ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, হাসপাতাল, হাট-বাজার ইত্যাদি সামাজিক সংগঠন পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার সক্রিয় উপস্থিতি বিদ্যমান । এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটা পর্যায়েই ব্যবস্থাপনা কাজ করে ।

৩. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা (Management in business organization) :

বর্তমানকালে ক্ষুদ্র থেকে বৃহদায়তন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন গড়ে উঠেছে । একমালিকানা, অংশীদারি, কোম্পানি, সমবায় থেকে শুরু করে বহুজাতিক বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । এর পরিচালনার সকল পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা ক্রিয়াশীল ।

৪. রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা (Management in stat level) :

রাষ্ট্রীয় প্রশাসন দেশ ও সমাজ পরিচালনায় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং তাদের অধীনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মব্যস্ত থাকে। এ সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় ।

৫. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা (Management in international level) :

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘ ও এর অধীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা; যেমন – UNICEF, UNDP, FAO ইত্যাদি সারা বিশ্বব্যাপি কাজ করছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস, রেডক্রিসেন্টসহ IMF, ADB, IDB ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান কর্মরত রয়েছে। প্রতিটা ক্ষেত্রেই এর পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা অন্যতম শক্তি ।

খ) কাজের দৃষ্টিকোণ হতে ব্যবস্থাপনার আওতা (Scope of management from functional point of view) :

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকগণ সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ছাড়াও বিভি পর্যায়ের জনশক্তিকে পরিচালনা করেন । এ দৃষ্টিতেই স্বনামধন্য ব্যবস্থাপনাবিদ পিটার এফ. ড্রাকার ব্যবস্থাপনায় নিম্নোক্ত তিন ধরনের কাজের কথা বলেছেন; যা ব্যবস্থাপনার আওতাধীন

১. সংগঠন পরিচালনা (Managing organization) :

সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বলতে একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপায়-উপাদানের সুষ্ঠু পরিচালনাকে বুঝায় । তাই প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ নির্ধারণ এবং তা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত সংগঠন কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, যোগাযোগ, প্রেষণা, সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সকল কার্যই ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত ।

২. ব্যবস্থাপকদের ব্যবস্থাপনা (Administering managers) :

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্তরের ব্যবস্থাপকগণ কর্মরত থাকেন। এদের প্রত্যেকেই তাদের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন অধস্তনদের পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর হতে একেবারে নিচের স্তরের শ্রমিক কর্মীদের পরিচালনায় নিয়োজিত ফোরম্যান বা সুপারভাইজার পর্যায়ের সব লোকেরাই ব্যবস্থাপনার অধীন। যাদের পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কাজের আওতাধীন ।

 

৩. শ্রমিক-কর্মী পরিচালনা (Managing workers) :

শ্রমিক-কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কার্য সম্পাদনে নিয়োজিত পক্ষ । তাই তাদের কাছ থেকে যথাযথ কাজ আদায়ের নিমিত্তে পরিকল্পনা গ্রহণ, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশদান, তত্ত্বাবধান, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, পারিশ্রমিক প্রদান, অবসর প্রদান ইত্যাদির মতো সর্ববিধ কার্যাবলি গ্রহণ করতে হয় । এগুলোও ব্যবস্থাপনা কার্যের অধীন ।

গ) ব্যবস্থাপনার স্তরভেদে আওতা (Scope on the basis of management level) :

একটা প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার স্বার্থে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে এর কাজকে ভাগ করা হয়। যত ভাগই করা হোক না একেবারে নিচের পর্যায়ে কর্মরত শ্রমিক-কর্মী ছাড়া এর ওপরে সকল পর্যায়ের জনশক্তিই ব্যবস্থাপক হিসেবে গণ্য। স্তরভেদে ব্যবস্থাপনার আওতা নিম্নরূপ :

১. উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা (Top level management) :

ব্যবস্থাপনার যে অংশ প্রতিষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য ও নীতি নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি উপরিপর্যায়ের কার্যের সাথে জড়িত থাকে তাকেই উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে । চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ডিরেক্টরস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ক্ষেত্রবিশেষে জেনারেল ম্যানেজার এরূপ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের আওতাধীন ।

২. মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা (Mid-level management) :

উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার অধীনে থেকে তাদের গৃহীত লক্ষ্য, নীতি, কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণকে কাজে লাগানোর জন্য ব্যবস্থাপনার যে অংশ চেষ্টা চালায় তাদের মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, প্লান্ট ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ এ পর্যায়ের অধীন ।

৩. নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা (Lower level management) :

মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণের অধীনে যারা তাদের প্রণীত পরিকল্পনা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে শ্রমিক-কর্মীদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করে তারা নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার আওতাধীন। সুপারভাইজার, ফোরম্যান পরিদর্শক, শ্রম কর্মকর্তা, বিক্রয় কর্মকর্তা, শাখা কর্মকর্তা ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ এর উদাহরণ এবং তারা সবাই ব্যবস্থাপনার অধীন ।

ঘ) কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী (According to the nature of activity) :

একটা প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে কাজের প্রকৃতি এক ধরনের হয় না। আর যে কারণে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করতে যেয়ে ব্যবস্থাপনার প্রকৃতি ও পরিচয়েও ভিন্নতা আসে। যার সবটাই ব্যবস্থাপনার আওতাধীন। কাজের প্রকৃতির ভিন্নতা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার প্রধান শাখাসমূহ নিম্নরূপ :

১.অফিস ব্যবস্থাপনা (Office management) :

ব্যবসায় ও অব্যবসায় সকল ধরনের প্রতিষ্ঠানে অফিস বা প্রশাসনিক কার্যাবলি গুরুত্বপূর্ণ । একটা বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগেও অফিস থাকে । এখানে বসেই ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনা করেন। নির্দেশপত্র তৈরি ও প্রেরণ, যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ, সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি নানান কাজ অফিস বিভাগকে সম্পাদন করতে হয়। যার সবটাই ব্যবস্থাপনা কার্য হিসেবে গণ্য ।

২. কর্মী ব্যবস্থাপনা (Personnel management) :

প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তিই হলো কর্মীবাহিনী । কর্মীরা দক্ষ ও আন্তরিক হলেই মাত্র প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বস্তুগত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব । এ জন্য প্রতিটা বড় প্রতিষ্ঠানেই উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ, উন্নয়ন, পরিচালনা, সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পৃথক কর্মী বিভাগ খোলা হয় । যার প্রতিটা কাজই ব্যবস্থাপনা কর্মের অধীন ।

৩. অর্থ ব্যবস্থাপনা (Financial management) :

প্রতিটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অর্থ সংক্রান্ত কাজ গুরুত্বপূর্ণ । একটা বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বাজেট প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থ যোগানের উৎস নির্ধারণ, অর্থ সংগ্রহ ও পরিচালনা, হিসাব সংরক্ষণ, আয়-ব্যয় বা আগমন-নির্গমনের মধ্যে সমন্বয় বিধান, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি অর্থ সংক্রান্ত কাজ প্রতিনিয়ত সম্পাদন করতে হয়। অর্থসংস্থান সংক্রান্ত এ সকল কাজ ব্যবস্থাপনা কাজ হিসেবে বিবেচিত হয় ।

৪. উৎপাদন ব্যবস্থাপনা (Production management) :

উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ । এজন্য উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি বিন্যাস, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা, উৎপাদিত মালামাল সংরক্ষণ ইত্যাদি নানান ধরনের কাজ সম্পাদন করতে হয় । যার সকল কার্যই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত।

৫. বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনা (Marketing management) :

বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে পণ্য বা সেবার বিপণন অনেক কষ্টসাধ্য । ক্রেতা বা ভোক্তাদের চাহিদামাফিক পণ্য তাদের হাতের নাগালের মধ্য সুবিধাজনক মূল্যে পৌঁছে দিতে পারলেই তা বিক্রয়ের প্রত্যাশা করা যায়। এজন্য পণ্য গবেষণা, পণ্য উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ প্রসার কার্যক্রম গ্রহণ ইত্যাদি নানান কাজ সম্পাদন করতে হয় । যার সবটাই ব্যবস্থাপনা কাজ হিসেব গণ্য ।

ঙ) কৌশল প্রয়োগের ভিত্তিতে আওতা (Scope of management from strategic point of view):

একজন ব্যবস্থাপককে লক্ষ্যে পৌছার জন্য বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি কৌশল অবলম্বন করতে হয় । প্রতিযোগীশীল বাজারে সফলতার সঙ্গে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের রণকৌশল গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে । এরূপ কৌশল গ্রহণের জন্য তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয় । তাও ব্যবস্থাপনা কাজের আওতাধীন ।

 

ব্যবস্থাপনার আওতা, ক্ষেত্র বা বিষয়বস্তু | ব্যবস্থাপনার পরিচিতি | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

চ) প্রয়োজনের দৃষ্টিতে আওতা (Scope of management from the view point of needs):

প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কার্য সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ খোলার প্রয়োজন পড়ে। এ সকল বিভাগ, উপ-বিভাগ একটি সমন্বিত উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে কাজ করে । তাই এ সকল বিভাগ বা উপবিভাগ খোলা, পরিচালনা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের মতো কার্যাদিও ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত ।

উপসংহারে বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ব্যবস্থাপনার আওতা ও কার্য অত্যন্ত ব্যাপক। তদুপরি বাহ্যিক দিক থেকে বিবেচনা করলে রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে পরিবার পরিচালনা পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য । টেরি ও ফ্রাংকলিন তাই বলেছেন, “We are all managers of our own lives and practice of management is found in every fact of human .”22 অর্থাৎ আমাদের জীবনক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেই একজন ব্যবস্থাপক এবং বাস্তবে মানবীয় কর্মকাণ্ডের activity.’ প্রতিটা ক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব বিদ্যমান ।

Leave a Comment