ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ।যা ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা ও নীতিসমূহ অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।

 

ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ

 

ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ

 

নীতি হল কার্যপরিচালনার ব্যাপারে কতগুলো মৌলিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম-বিধি, যার উপর ভিত্তি করে সুষ্ঠু ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন মনীষিগণ বিভিন্ন অবস্থাদি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকারের নীতিমালা নির্দিষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছেন। তবে H. Fayol প্রদত্ত মূলনীতিসমূহকে অদ্যাবধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হিসাবে সর্ব মহলেই গ্রহণ করা হয়।
নিম্নে এই আলোকে ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ সংক্ষেপে সচিত্র আলোচনা করা হলো-
→ কার্যবিভাগ
→ ক্ষমতা ও দায়িত্বে সমতারক্ষণ
→ নিয়মানুবর্তিতা
→ আদেশের ঐক্য
→ নির্দেশনার ঐক্য
→ ব্যক্তিস্বার্থ সাধারণ স্বার্থের অধীন
ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ –
→ পারিশ্রমিক
→ কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ
→ জোড়ামই-শিকল
→ শৃঙ্খলা
→ ন্যায়পরায়ণতা
→ চাকরির স্থায়িত্ব
→ উদ্যোগ
→ একতাই বল

 

১। কার্যবিভাগ ঃ

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেয়াকে কার্যবিভাগ বলে। এতে প্রত্যেক কর্মী নিজ নিজ কার্যক্ষেত্রে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

২। ক্ষমতা ও দায়িত্বে সমতারক্ষণ :

ব্যবস্থাপককে প্রত্যেক কর্মীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। অন্যথায় উক্ত কর্মীর পক্ষে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে না।

৩। নিয়মানুবর্তিতা ঃ

প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়মনীতির প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনকেই নিয়মানুবর্তিতা বলে । সংগঠনের জনসম্পদ ও উপাদানগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনাই এর এক অত্যাবশ্যকীয় নীতি । ৪। আদেশের ঐক্য ঃ প্রত্যেক কর্মচারী নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির আদেশ মেনে চলবে। একাধিক আদেশ-দাতা থাকলেকর্মীর কাজ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। মিস্টার ফেয়ল এই জন্য দ্বৈত আদেশ পরিহার করতে বলেছেন ।

৫। নির্দেশনার ঐক্য ঃ

প্রতিষ্ঠানে কর্মীর কাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি কাজের জন্য কর্মীকে দুই ধরনের নির্দেশ দেয়া যাবে না।

৬। ব্যক্তিস্বার্থ সাধারণ স্বার্থের অধীন ঃ

কোন একক ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সমষ্টি বা সাধারণ স্বার্থ যেন
ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিতে হবে। ৭। পারিশ্রমিক ঃ কর্মীর কাজের মূল্যায়ন হল পারিশ্রমিক। সুষ্ঠু ও ন্যায্য বেতন এবং মজুরি কাঠামোর প্রবর্তন করে শ্রমিক-কর্মীদের সর্বাধিক সন্তুষ্টি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮। কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ ঃ

প্রতিষ্ঠানের কোন্ ধরনের সিদ্ধান্ত এর কোন্ পর্যায়ের ব্যবস্থাপক নিবে সেটা নির্ধারণ করাই এরূপ নীতির উদ্দেশ্য। সাধারণত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত এবং নিম্নস্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত থাকে ।

৯। জোড়ামই-শিকল ঃ

ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তর থেকে কর্তৃত্বের লাইন বা শিকল ধাপে ধাপে নিম্নস্তরে নেমে আসে। আবশ্যকীয় সংবাদ প্রবাহ বা যোগাযোগ উচ্চস্তর হতে নিম্নস্তরে অথবা নিম্নস্তর হতে উচ্চস্তরে প্রবাহিত হবে।

১০। শৃঙ্খলাঃ

এই নীতির লক্ষ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা এবংপ্রতিষ্ঠানের মানব শৃঙ্খলা ও বস্তুগত শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করা। ১১। ন্যায়পরায়ণতা ঃ সবার প্রতি সমান আচরণ প্রদর্শন করা এই নীতির লক্ষ্য। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কর্মসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়।

১২। চাকরির স্থায়িত্ব ঃ

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব বিধান করা হলে তাদের নিরাপত্তা ও মানসিকস্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পায়।

১৩।উদ্যোগ ঃ

নতুন কোন পদ্ধতি বা উপায় উদ্ভাবন ও আবিষ্কার করার জন্য কর্মীদেরকে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত ও যথোপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

১৪। একতাই বল ঃ

এরূপ নীতির মূল কথা হল প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত,যাতে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব হয়।

 

 

ব্যবস্থাপনার নীতিসমূহ

Leave a Comment