আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য

আজকের আলোচনার বিযয় আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য  – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, অধস্তনদেরকে লক্ষ্যপানে পরিচালিত করার কৌশলকেই নেতৃত্ব বলে । নানান বিচারে নেতৃত্বকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয় । আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব-এর দুটি প্রধান দিক । নিম্নে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরা হলো :

 

আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য

 

আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য

আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য

লক্ষার্জনের জন্য অধস্তন জনশক্তি বা অনুসারীদের সামর্থ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব বলে । পরিকল্পনা, সংগঠন ও কর্মীসংস্থানের পর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজই হয় নেতৃত্ব দান ৷ তাই নেতা কিভাবে জনশক্তিকে কাজে লাগাবেন তা নেতার নেতৃত্বদান সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে ।

একটা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকগণ শুধু নির্দেশই দেন না, নির্দেশনার বিষয়বস্তুও ঠিক করেন। নির্দেশনা দেয়া হয় পরিকল্পনার আলোকে । আবার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় লক্ষ্য অনুযায়ী । তাই নেতৃত্ব নেতার দৃষ্টিভঙ্গি ও সামর্থ্য দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয় । সেই বিচারে নেতৃত্ব বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে । আদান-প্রদানমূলক ও রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব তার মধ্যে অন্যতম ।

রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব আদান-প্রদানমূলক নেতৃত্ব থেকে আরেকটু অগ্রসর মানের। যিনি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনেই শুধুমাত্র অধস্তনদেরকে উৎসাহিত করেন না বা শুধুমাত্র সঠিকভাবে কাজ আদায়ের বিষয়টিই নিশ্চিত করেন না এর বাইরেও অধস্তনদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও আগ্রহ জন্ম দেন ।

 

যার ফলশ্রুতিতে অধস্তনরা সাধারণ প্রত্যাশার বাইরে কার্য সম্পাদনে সচেষ্ট হয় । অধস্তনদের মধ্যে এমন বোধের সৃষ্টি করতে তিনি সমর্থ হন যে, তারা প্রতিষ্ঠানের মিশন বা লক্ষ্যকে নিজের মিশন বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে । ফলে তাদের মধ্যে কাজের সাথে একাত্মতার অনুভূতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় ।

উপরোক্ত পার্থক্যের আলোকে বলা যায়, বৈশ্বিক পরিবর্তনের এ যুগে বৃহদায়তন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির কার্যকর পরিচালনায় রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব অধিক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে ।

Leave a Comment