শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি (The characteristics and qualities of an entrepreneur)

শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি (The characteristics and qualities of an entrepreneur) গুনাবলি নিয়ে আলোচনা করে হবে আজকে।

শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি (The characteristics and qualities of an entrepreneur)

[ শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি ]

শিল্পোদ্যোক্তা বা উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য:

বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য নিরূপণের চেষ্টা করেছেন। সে প্রেক্ষিতে একজন উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্যকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা:

শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

১। মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য :

মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, সাহস, অধ্যবসায়, সহিষ্ণুতা, সাফল্য লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মানসিক শক্তি ও সামর্থ্য, আক্রমণাত্মক স্পৃহা, স্বীকৃতি, বদান্যতা, ঝুঁকি গ্রহণের মনোবৃত্তি, দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা, জানার আগ্রহ, উদ্ভাবনী শক্তি, গ্রহণযোগ্যতা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ়সংকল্প, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস, অঙ্গীকার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

 

২। অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য:

পুঁজির যোগান ও তা ব্যবহারের ক্ষমতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, সুযোগের সদ্ব্যবহার, অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান ইত্যাদি একজন উদ্যোক্তার অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের পর্যায়ে পড়ে।

 

৩। সামাজিক বৈশিষ্ট্য :

উদ্যোক্তার সামাজিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে নেতৃত্বসুলভ যোগ্যতা, কাজকর্মে পৈত্রিক গুণাবলির প্রতিফলন, সামাজিক বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞান, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও উদ্যোগী ভূমিকা পালন, বংশমর্যাদা ও পারিবারিক মর্যাদা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

 

৪। সাধারণ বা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

একজন উদ্যোক্তাকে আকর্ষণীয়, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা, বিক্ৰয়িক গুণের অধিকারী, নৈতিকতা ও সাধুতা, সহজ-সরল, কর্মতৎপরতা, ত্যাগ স্বীকার, প্রতিপত্তি লাভের আকাঙ্ক্ষা, পরিশ্রমী, কাজের প্রতি একাগ্রচিত্রতা, শারীরিক সুস্থতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, আন্তরিকতা ইত্যাদি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয়।

 

 

 

শিল্পোদ্যোক্তার বা উদ্যোক্তার গুণাবলি:

একজন উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও গুণাবলির উপর ব্যবসায়ের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে। অধিকতর দক্ষ ও গুণাবলিসম্পন্ন উদ্যোক্তার তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও বৃহদায়তন ব্যবসায়ের রূপ নিয়ে থাকে। ব্যবসায়ের সফলতার জন্য একজন উদ্যোকার যে-সব গুণাবলি থাকা প্রয়োজন নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:

 

১। সাংগঠনিক ক্ষমতা:

ব্যবসায়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য উদ্যোক্তার সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও কার্যকর সংগঠনের উপরই ব্যবসায়ের সাফল্য ও কার্যকারিতা নির্ভর করে। উদ্যোক্তাকেই উৎপাদনের উপকরণগুলোকে একত্রিত করে সুসংগঠিত করতে হয়।

 

২। সাফল্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা:

নিজের কাজে সাফল্য অর্জনের অদম্য স্পৃহা বা আকাঙ্ক্ষা উদ্যোক্তার একটি বড় গুণ। ব্যবসায়ের ঈঙ্গিত লক্ষ্য হাসিলের জন্য তাকে হতে হবে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, সুদৃঢ় মনোবল ও আত্মপ্রভায়ের অধিকারী।

 

৩। উদ্যম ও সাহস:

একজন সফল উদ্যোক্তার প্রচণ্ড উদ্যম ও সাহস থাকা বাঞ্ছনীয়। উদ্যম ও সাহস উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সমস্যার মোকাবিলা করতে শক্তি যোগাতে সহায়তা করে।

 

৪। বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা :

সাধারণ যে-কোনো লোকের চেয়ে একজন উদ্যোক্তার অধিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ হওয়া প্রয়োজন। উদ্যোক্তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা তাকে সফলতা লাভে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে থাকে।

 

৫। সতর্কতা:

একজন উদ্যোক্তাকে সব বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। উদ্যোক্তার সামান্যতম অসতর্কতার কারণে ব্যবসায়ের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হতে পারে। তাকে ব্যবসায়ের গতি-প্রকৃতির প্রতি সর্বদা সতর্কদৃষ্টি রাখতে হয়।

 

৬। উদ্ভাবনী ক্ষমতা:

একজন সফল উদ্যোক্তাকে উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। ব্যবসায়ের নিত্যনতুন ক্ষেত্র ও কলাকৌশল উদ্ভাবন, নতুন নতুন পণ্য আবিষ্কার, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

 

৭। সুযোগের সদ্ব্যবহার:

সুযোগ বার বার আসে না। উপস্থিত সুযোগকে তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানো সফল উদ্যোক্তার একটি বিশেষ গুণ।

 

৮। আকর্ষর্ণীয় ব্যক্তিত্ব:

ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্য উদ্যোক্তাকে আকর্ষর্ণীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিত্বহীন মানুষকে কেউই পছন্দ করে না। উদ্যোক্তার ব্যক্তিত্ব এমন হওয়া উচিত যেন তা শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্রেতাদেরকে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে।

 

৯। পরিশ্রমী :

প্রবাদ আছে যে, ‘পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি’। যে-কোনো কাজের চেয়ে ব্যবসায়ের কাজে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই সাফল্যের জন্য উদ্যোক্তাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী।

 

১০। কাজের প্রতি একাগ্রচিত্ততা:

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ও জটিল ব্যবসায় কার্যে উদ্যোক্তাকে একাগ্রচিত্রে নিরলসভাবে লেগে থাকতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

 

উপরোক্ত গুণাবলিগুলো ছাড়াও শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বসুলভ যোগ্যতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা ইত্যাদি গুণগুলো উদ্যোক্তার মধ্যে থাকতে হবে। উল্লিখিত গুণাবলি ও যোগ্যতা থাকলে একজন অত্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারে।

 

শিল্পোদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য এর বিষয়বস্তুঃ

 

 

শিল্পোদ্যোক্তার গুণাবলি এর বিষয়বস্তুঃ

 

Leave a Comment