আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শ্রমিক কল্যাণ সম্পর্কিত বিধানসমূহ ।
Table of Contents
শ্রমিক কল্যাণ সম্পর্কিত বিধানসমূহ

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য ১৯৬৫ সালের কারখানা আইনে
উল্লিখিত বিধানসমূহ আলোচিত হল-
১। ধৌতকরণের সুবিধা :
কারখানা আইনের ৪৩(১) ধারায় শ্রমিকদের ধৌতকরণ সুবিধা সম্পর্কে বিধান দেয়া হয়েছে।
(ক) প্রত্যেক কারখানার শ্রমিকদের হাত মুখ ধোয়া ও গোসলের জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।
(খ) এরূপ ধৌতাগার অবশ্যই পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ও পর্দায় ঘেরা হতে হবে।
(গ) ধৌতাগার অবশ্যই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২। প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি :
কারখানা আইনের ৪৪(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক কারখানায় বা প্রতিটি বিভাগের প্রতি ১৫০ শ্রমিকের জন্য নির্দিষ্ট সরঞ্জামাদিসহ প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স কাজ চলাকালীন সময়ে সহজ স্থানে। মুজদ রাখতে হবে। ৫০০ এর বেশি শ্রমিক থাকলে চিকিৎসক ও নামসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স কক্ষ রাখতে হবে।
৩। আহার ও বিশ্রামের স্থান :
সাধারণত এক শতাধিক শ্রমিক নিযুক্ত রয়েছে এরূপ কারখানায় শ্রমিকদের ব্যবহারেরউপযুক্ত বিশ্রাম কক্ষ এবং খাবার পানিসহ একটি আহারের ঘর থাকতে হবে, যেন শ্রমিকেরা সেখানে বসে তাদের আনীত খাবার খেতে পারে (৪৬ ধারা)। এছাড়া ৪৫ ধারায় বিধান রয়েছে যে, আড়াই শতাধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকলে কান্টিনের ব্যাবস্থা করার জন্য সরকার নির্দেশ নিতে পারেন।
৪। শিশুদের জন্য কক্ষ :
যে সকল কারখানায় ৫০ জনের বেশি মহিলা শ্রমিক রয়েছে, সেখানে এক বা একাধিক ঘর থাকবে এবং এখানে ঐ সকল মহিলার ৬ বছরের অনধিক ছেলে মেয়ে থাকবে। এ সকল ঘরে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস থাকবে। এবং স্বাস্থ্যকর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষপ্রাপ্ত মহিলার তত্ত্বাবধানে ঐ সকল শিশুরা থাকবে। এ সকল শিশুদের পরিচর্যার জন্য সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারেন। [৪৭ ধারা]
৫। ওয়েলফেয়ার অফিসার :
যে সকল কারখানায় ৫০০ বা ততোধিক সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে, সে সকল কারখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক কল্যাণ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। এ সকল অফিসারের যোগ্যতা, দায়িত্ব এবং শর্ত সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারেন। [৪৮ ধারা]
৬। পরিপূরক বিধিমালা প্রণয়ন :
৪৯ ধারায় শ্রমিকদের কল্যাণ সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে যে, শ্রমিকদের কল্যাণের বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োগ সাপেক্ষে কোন বিশেষ কারখানায় এ সকল বিধি প্রয়োগ হতে রেহাই দেয়ার উদ্দেশ্যে এবং কোন কারখানায় শ্রম কল্যাণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারেন।

