সংগঠন কাঠামো বলতে কী বুঝায়এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন” বিষয়ক পাঠের অংশ। সংগঠন কাঠামো হলো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীবৃন্দের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি কাঠামো চিত্র । এটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হবে এমন বিভিন্ন ব্যক্তি এবং দলের মধ্যে একটি সুসংবদ্ধ সম্পর্কের আগাম রূপরেখা প্রদান করে ।
সংগঠন কাঠামো বলতে কী বুঝায়

সংগঠন কাঠামোকে যখন একটি চিত্রে উপস্থাপন করা হয় তখন ঐ চিত্রকে সংগঠন চার্ট নামে অভিহিত করা হয় । একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের স্বার্থেই এর সকল কাজকে বিভিন্ন বিভাগও উপরিভাগে ভাগ করার এবং কে কোন্ কাজ করবে ও তাদের দায়িত্ব-কর্তৃত্ব কী হবে তা নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন পড়ে। প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত যে যেখানেই কাজ করুক না কেন প্রত্যেকেই প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনে সচেষ্ট থাকে । ফলে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্পর্কের একটা রূপরেখা সৃষ্টি হয় । সম্পর্কের এরূপ রূপরেখাকেই সাংগঠনিক কাঠামো বলে । নিম্নে সংগঠন কাঠামোর কয়েকটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা হলো :
Stoner (স্টুনার) ও অন্যরা বলেছেন, “Organizational structure refers to the way in which an organization’s activities are divided, grouped and co-ordinated into relationships between managers and employees, managers and managers, and employees and employees. “1 অর্থাৎ সংগঠন কাঠামো হলো এমন একটি পন্থা যেখানে ব্যবস্থাপক ও কর্মী, ব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক এবং কর্মী ও কর্মীর মধ্যকার সম্পর্ক নির্দেশপূর্বক প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে ভাগ করা হয় এবং সংগঠিত ও সমন্বিত করা হয় ।
Bartol 3 Martin-, “Organization structure is the formal pattern of interactions and coordination designed by management to link the tasks of individuals and groups in achieving organizational goals. “2 অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য ব্যক্তি ও দলের কাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের যে আনুষ্ঠানিক রূপ ব্যবস্থাপনা নির্দিষ্ট করেন তাকেই সংগঠন কাঠামো বলে ।
Albert K. Wickesberg 4, “The set of interpersonal relationships which operates in the context of position, procedure, process, technology and social environment comprises what is known as the organization structure. অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের পদমর্যাদা, কার্যপদ্ধতি, কার্য প্রক্রিয়া, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে যে আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক লক্ষ করা যায় তাকেই সাংগঠনিক কাঠামো বলে ।
John Child সাংগঠনিক কাঠামোর চারটি প্রধান উপাদানের উল্লেখ করেছেন যা নিম্নরূপ :
১. প্রত্যেক ব্যক্তি বা ইউনিটের কাজ বোঝা যায়; কাজ এবং দায়িত্বকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করা;
২. কতকগুলো ব্যক্তির অবস্থান মিলিয়ে একটা ইউনিট (কর্মক্ষেত্র) এবং কতকগুলো ইউনিট মিলিয়ে বিভাগ এভাবে বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরে কাজকে বিন্যস্ত করা;
৩.ওপর হতে নিচের দিকে সমন্বয়ের লক্ষ্যে একজন উর্ধ্বতনের অধীনে ক’জন অধস্তন থাকবে এবং কর্তৃত্ব কীভাবে ওপর থেকে নিচের দিকে অর্পিত হবে তা নির্ধারণ করা; ও
৪. সমান্তরাল বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ব্যবস্থা কী হবে তা ঠিক করা ।

উপসংহারে বলা যায় যে, সংগঠন হলো উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের উপায়-উপকরণ এবং দায়িত্ব ও ক্ষমতা সুবিন্যস্ত করার কৌশল যখন সংগঠন কাঠামো এ কৌশলের অধীনে প্রতিষ্ঠানের উপর হতে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, পদ ও বিভাগের অবস্থান নির্ণয় ও তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া । এর ফলে প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়ের এমন একটি সুসংবদ্ধ রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে কে কার উর্ধ্বতন, কে কার অধস্তন এবং কে কার সাথে প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ।
