ব্যবস্থাপনাকে দক্ষতা অর্জনের বিজ্ঞান বলা হয় কেন তা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনার পরিচিতি” বিষয়ক পাঠের অংশ। বিজ্ঞান হলো সংঘবদ্ধ জ্ঞান (Orgainsed knowledge)। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রাপ্ত জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে । এই জ্ঞান সর্বাবস্থায় প্রয়োগযোগ্য । ব্যবস্থাপনা প্রকৃত বিজ্ঞান না হলেও নানান চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে এতদসংক্রান্ত জ্ঞান বর্তমানকালে বিজ্ঞানের রূপ পরিগ্রহ করতে চলছে । কাজে কীভাবে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করা যায় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল গবেষণার এটিই মূল লক্ষ্য । এ কারণেই ব্যবস্থাপনাকে দক্ষতা অর্জনের বিজ্ঞান বলে ।
ব্যবস্থাপনাকে দক্ষতা অর্জনের বিজ্ঞান বলা হয় কেন

বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই । অইরিক ও কু বলেছেন, “ন্যূনতম পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করে উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারাই হলো দক্ষতা।” প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এই দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই । এ কারণেই এখন ব্যবসায়কে ‘দক্ষতার খেলা’ বলা হয়ে থাকে ।
একজন ব্যবস্থাপক কতটা যোগ্যতার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছেন তা তার দক্ষতার উপর নির্ভরশীল । ব্যবস্থাপনাকে সবসময় নতুন নতুন অবস্থা মোকাবেলা করে চলতে হয় বিধায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজে লাগানোর জন্য তাকে সবসময়ই দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট থাকার প্রয়োজন পড়ে ।

ব্যবস্থাপনা সমাজ বিজ্ঞানের অংশ হওয়ার কারণে সতত পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে তাকে তাল মিলিয়ে চলতে হয় । প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হলে সবসময়ই আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ব্যবস্থাপকদের সঙ্গতি বিধান করতে হয়। যে কারণে ব্যবস্থাপকদের সবসময়ই দক্ষতার উন্নয়নে সচেতন ও সচেষ্ট থাকার প্রয়োজন পড়ে । তবেই তাঁর পক্ষে কম খরচে অধিক কাজ ও সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা সম্ভব হয়। এ কারণেই ব্যবস্থাপনাকে দক্ষতা অর্জনের বিজ্ঞান বলা হয়ে থাকে।
