পরিবেশ কী এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিবেশ হলো মূলত পারিপার্শ্বিক অবস্থা। সৃষ্টির সবকিছুই একটা পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে । বিশেষভাবে মানুষ তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় । মানুষের চারপাশে বিরাজমান প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক অবস্থাদি যা তার জীবন ও জীবিকার উপর প্রভাব বিস্তার করে তাকেই পরিবেশ বলা হয়ে থাকে । মানুষই শুধু পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয় না মানব সৃষ্ট বিভিন্ন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানও পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয় । প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বিভিন্ন শক্তিও তার পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে ।
পরিবেশ কী

S.P. Robbins (রবিন্স) এর মতে, “The environment as composed of those institutions or forces that affect the performance of the organization, but over which the organization has little control”। অর্থাৎ পরিবেশ হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যাকার্যে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা প্রভাব সৃষ্টিকারী শক্তি যার উপর ঐ প্রতিষ্ঠানের খুব সামান্যই নিয়ন্ত্রণ থাকে।
W.J. Kegan (কিগান) পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তৃত বর্ণনা দিয়ে বলেন, “Environment refers to the totality অর্থাৎ of politico-legal systems, the socio-cultural systems, the techno-infrastructural systems, the geo. natural systems, the economic systems, the demographic-entrepreneurial systems and the functioning of other business as competitors, as suppliers, as consumers and the like.. পরিবেশ বলতে একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নিম্নোক্ত সামগ্রিক বিষয়াদিকে বুঝায়-
- রাজনৈতিক ও আইনগত অবস্থা;
- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা;
- কারিগরি ও অবকাঠামোগত অবস্থা;
- ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা;
- অর্থনৈতিক অবস্থা;
- জনসংখ্যা ও উদ্যোগ গ্রহণ সংক্রান্ত অবস্থাদি এবং
- অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যা প্রতিযোগী, সরবরাহকারী, ভোক্তা ইত্যাদি হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত।

উপসংহারে বলা যায়, মানুষ বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ (যে সকল পারিপার্শ্বিক শক্তির দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় তাকে পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে বিশ্বায়নের প্রভাবে মানুষের পারিপার্শ্বিকতার চৌহদ্দি বাড়ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ন, নতুন নতুন আবিষ্কার এবং মানুষের বহুমাত্রিক কর্মতৎপরতাও পারিপার্শ্বিকতায় নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছে । ফলে পরিবেশের বিস্তৃতির সাথে সাথে বিভিন্নমূখী জটিলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
