প্রযুক্তিগত পরিবেশ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। প্রযুক্তিগত পরিবেশ, আধুনিক সভ্যতা ও চোখ ধাঁধানো উন্নয়নের পিছনে প্রযুক্তিগত পরিবেশের অবদান অনস্বীকার্য । আমরা কোনো কাজ যেভাবে করি সে সংক্রান্ত সামগ্রিক জ্ঞানকেই প্রযুক্তি বলে । Weihrich, Cannice ও Koontz তাই বলেছেন, ‘Technology refers to the sum total of the knowledge we have of ways to do things.5 -এই জ্ঞান প্রতিনিয়তই এতটাই পরিবর্তিত হচ্ছে যে, তার সাথে সঙ্গতি রেখে মানুষের কার্যধারাতেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে ।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ

আমরা যদি যোগাযোগের কথা ভাবি তাহলে দেখা যাবে এক সময় দূত পাঠিয়ে ও প্রশিক্ষিত কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে দূরে খবর পাঠানো হতো । পরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে অনেক দিন । ডাক হরকরা, টেলিগ্রাম, টেলিফোন, ফ্যাক্স, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট- এভাবে দেখলে দেখা যাবে এ সংক্রান্ত জান বাড়ার সাথে সাথে তা মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে । এভাবে প্রতিটা পদ্ধতিগ জ্ঞান ব্যবসা-বাণিজ্যে ও এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন সাধনে সক্ষম হয়েছে ।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ সম্পর্কে Kotler & Armstrong বলেন, “Technological environment includes the forces that create new technologies, creating new product and market opportunities.” প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলতে এমন শক্তিসমূহকে বুঝায়-যা নতুন পণ্য এবং বাজার সুবিধা উন্মোচনের জন্য নতুন প্রযুক্তির সৃষ্টি করে ।
প্রযুক্তিগত পরিবেশের এই ব্যাপক উন্নয়ন ব্যবসায় ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে পদ্ধতিগত পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে H. Weinrich এবং H Koontz, “A few of the benefits of technology are greater productivity, higher living standards, more leisure time, and a greater variety of products.” অর্থাৎ প্রযুক্তির কয়েকটি সুবিধা হলে উচ্চমাত্রার উৎপাদনশীলতা, জীবনযাত্রার উন্নততর মান, অধিক শ্রম-সংক্ষেপিত বিশ্রামের সময় এবং বিজি পণ্যের সমাহার। ব্যবসায় ক্ষেত্রে কাজের পদ্ধতিগত জ্ঞান বা প্রযুক্তি উন্নয়নের ধারাকে বিশ্লেষণ করলে এর তিনটা পর্যায় লক্ষণীয় ;
১. ভূমি ও শ্রমভিত্তিক অর্থননৈতিক কর্মকাণ্ড;
২. যন্ত্রনির্ভর ও বৃহদায়তন শিল্পকেন্দ্রীক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও
৩. জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
বিগত তিন দশকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারা এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এর উন্নয়নের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অচিন্তনীয় উন্নয়ন ঘটেছে। এর ফলে-
১. বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে;
২. সমগ্র বিশ্ব একটা বৈশ্বিক গ্রাম (Global village) এর রূপ লাভ করেছে;
৩. কম্পিউটারাইজড উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে;
৪. ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবসায়ের ধরন পাল্টে দিয়েছে;
৫. e-business, e-commerce, m-commerce ইত্যাদির প্রচলন ঘটেছে;
৬. উৎপাদন শিল্পের স্থলে সেবা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে;
৭. ব্যবসায় শিক্ষা সংক্রান্ত জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে;
৮. কর্মক্ষেত্রে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে;
৯. গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য কোম্পানিসমূহ নতুন নতুন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে;
১০. পুরাতন যন্ত্রপাতি, পদ্ধতি, চিন্তা-ভাবনা অকেজো হয়ে পড়েছে এবং
১১. মানুষের জ্ঞানের জগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ।

প্রযুক্তিগত পরিবেশের দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তনের এ ধারা বিশ্লেষণ করে উপসংহারে বলা যায়, আগামী দিনের ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষের জীবনযাত্রা এবং জীবনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে । তাই ব্যবসায়ীদেরকে সবসময়ই প্রযুক্তিগত পরিবেশের প্রতি খেয়াল রেখে অন্যান্য সকল কর্মকাণ্ডকে তার সাথে সমন্বিত করা প্রয়োজন ।
