পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পরিবেশ হলো পারিপার্শ্বিকতা। এরূপ পারিপার্শ্বিকতার মধ্যেই কোন ব্যক্তি, প্রাণী, গাছপালা, প্রতিষ্ঠান বা নানান কিছু জন্মলাভ করে ও বিকশিত হয় । তাই কোন কিছু গড়ার আগে পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে যেমনি জানতে হয় তেমনি পরিবেশকে অনুকূলে রেখে ও প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব এ সম্পর্কেও জানার প্রয়োজন পড়ে। আর এ কারণেই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে । নিম্নে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো :
Table of Contents
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

১. পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি (Creating awarness about environment) :
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার প্রধান কাজটা হলো পরিবেশের উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করে প্রত্যেক উপাদানের প্রভাব মূল্যায়ন করা । এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায় পরিবেশের কোন কোন দিক অনুকূল হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা বিরাজ করে। এরূপ বিচার-বিশ্লেষণে যে সচেতনতার সৃষ্টি হয়। তাতে প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়ে থাকে ।
২. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা (Help to take proper decision) :
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকলে তা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজই হলো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিবেশ ও ভবিষ্যত পরিবর্তন সম্প জ্ঞানদানের পাশাপাশি এক্ষেত্রে তথ্য প্রদান করা । এছাড়া পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের বর্তমান অবস্থা ও ে সাথে তার উন্নয়নের উপায় ও সম্ভাবনা সম্পর্কেও এরূপ ব্যবস্থাপনা পরামর্শ দেয়। যা ব্যবস্থাপনাকে উত্তম সিদ্ধ গ্রহণে কার্যকর সহায়তা প্রদান করে ।
৩. সম্ভাবনাকে কাজে রূপদান (Depicting possibility into action) :
পরিবেশ ব্যবস্থাপন পারিপার্শ্বিকতার সম্ভাবনাময় দিকগুলোকে বিশেষভাবে খুঁজে বের করে তাকে কাজে লাগানোর বিশেষ প্রয়াস চালায় । অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগানো সহজ হলেও অনেকসময় দেখা যায়, পরিবেশের এ দিকগুলোরে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয় । এতে সামর্থ্য অধিক ব্যয় হলেও কার্যকর ফললাভ সম্ভব হয় না।
৪. প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা (Facing adverse environment) :
বর্তমানকালে ব্যবসায় পরিচালনায় প্রতিনিয়তই প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয়। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যির পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রতিকূল পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয় এক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে বা এড়ানো সম্ভব হবে তারও দিকনির্দেশনা থাকে । য প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে ।
৫. পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি বিধান (Maintaining unity with change) :
বর্তমানকালে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানে পরিবর্তনশীলতার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রযুক্তিগত পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনগত পরিবেশ ইত্যাদিতে অনেকসময়ই পরিবর্তন সাধিত হয় । প্রতিযোগীরা দ্রুত কৌশল বদলাতে থাকে। ভোক্তাদের চাহিদা সতত পরিবর্তিত হয় । এরূপ পরিবর্তন সম্পর্কে যথাসময়ে জানা না গেলে বাজার হারানোর বা সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য দিয়ে এবং সঙ্গতি বিধানের পন্থা নির্দেশ করে কার্যকর সহায়তা দিয়ে থাকে ।

উপসংহারে বলা যায়, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানান ধরনের পরিবেশ বা এর উপাদান সম্পর্কে খোঁজ খবর ও বিশ্লেষণ করে পরিবেশকে অনুকূলে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পন্থা নির্দেশ করে। যে কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা সহজ হয়। তাই বর্তমানকালে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির ন্যায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনাও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ।
