স্থায়ী পরিকল্পনার সুবিধা

স্থায়ী পরিকল্পনার সুবিধা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিকল্পনা” বিষয়ক পাঠের অংশ। ফরমায়েশ অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পরিকল্পনার ব্যবহার কিছুটা কম হলেও এর বাইরে অন্যান্য সকল ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পরিকল্পনার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষণীয় । এবং পরিকল্পনা হতে ব্যবস্থাপকগণ যে সকল সুবিধা লাভ করতে পারে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো :

স্থায়ী পরিকল্পনার সুবিধা

 

স্থায়ী পরিকল্পনার সুবিধা | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. পরিকল্পনা ব্যয় হ্রাস (Reducing planning expenses) :

যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্য সংগ্রহ বিচার-বিশ্লেষণ, বিকল্প উদ্ভাবন, বিকল্প মূল্যায়ন, পরিকল্পনার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ইত্যাদি কারণে যথেষ্ট অর্থ ও সময় ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ে। স্থায়ী পরিকল্পনা একবার প্রণীত হলে পরবর্তী অবস্থা বা প্রয়োজন সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তা বারে বারে ব্যবহৃত হয় । ফলে ফলাফলের তুলনায় পরিকল্পনা ব্যয় অত্যন্ত কম হয়ে থাকে ।

২. নির্বাহীর কর্মভার হ্রাস (Reducing work load of the executive) :

একটা নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নে যেমনি নির্বাহীদের যথেষ্ট সময় লাগে তেমনি ঐ পরিকল্পনা কাজে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যথেষ্ট কাঠ-খড় পোড়াতে হয় । অধস্তনদেরকে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হয়, কার্যক্ষেত্রে ভুল হলে তা শুধরাতে হয় এভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তত্ত্বাবধান কার্যে নির্বাহীদের যথেষ্ট বাড়তি শ্রম দিতে হয় । স্থায়ী পরিকল্পনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন পড়ে না ।

 

৩. সর্বোত্তম পন্থার ব্যাপক ব্যবহার (Extensive use of the best way) :

স্থায়ী পরিকল্পনার আওতায় একই ধরনের ধারাবাহিক কর্মপন্থা (Procedure) এবং প্রত্যেকটি কর্মের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার ঘটে । এর ফলে একদিকে কর্মপন্থা ও কর্মপদ্ধতির যেমনি উন্নয়ন ঘটে সেই সঙ্গে একই পদ্ধতির আওতায় কাজ করতে গিয়ে কর্মীরাও বিশেষ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায় । এর ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিকাশক্তি বৃদ্ধি পায় ।

৪. কর্মী সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস (Reducing the labour cost) :

স্থায়ী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একই ধরনের পদ্ধতির আওতায় কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা দক্ষতা অর্জন করে। ফলে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞান ও মানের লোক নিয়োগের বদলে দক্ষ কর্মীরাই মুখ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এতে কম বেতনের লোক দিয়েই দক্ষতার সঙ্গে কাজ পরিচালনা করা যায়। এ ছাড়া এক্ষেত্রে অধিক তত্ত্বাবধানেরও প্রয়োজন পড়ে না। যে কারণে কর্মী সংক্রান্ত ব্যয় হ্রাস পায়।

৫. ক্ষমতা হস্তান্তরে সুবিধা (Advantages in delegation of power) :

স্থায়ী পরিকল্পনার ব্যবহারের ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরেও যথেষ্ট সুবিধা হয়। একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে কার্যক্ষেত্রে একটা স্বাভাবিক গতিধারার সৃষ্টি হয় । ফলে কার্যক্ষেত্রে সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের সবটাই জানা থাকে । কাকে, কোথায়, কীভাবে, কোন্ ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে তাও বুঝা যায়। অধস্তনরাও একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে দক্ষতা অর্জন করে । ফলে অধস্তনদের কাছে ক্ষমতা অর্পণ সহজ হয়।

৬. সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা (Establishment of organizational discipline):

স্থায়ী পরিকল্পনার আওতায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি বিভাগ, উপ-বিভাগ ও ব্যক্তি তাদের কাজের অবস্থা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে । কার্যক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক গতিধারা সৃষ্টি হওয়ায় কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্কেরও একটি স্বাভাবিক রূপরেখা সৃষ্টি হয়ে যায়। কাজের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকায় সর্বত্র কার্যকর শৃঙ্খলা বজায় থাকে ।

 

স্থায়ী পরিকল্পনার সুবিধা | পরিকল্পনা | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৭. নিয়ন্ত্রণে সহায়তা (Aid to controlling) :

স্থায়ী পরিকল্পনার আওতায় নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয় । নির্ধারিত পদ্ধতির আওতায় কাজ করতে গিয়ে কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তা সহজেই ধরা পড়ে । কার্যফল পরিমাপ এবং পূর্ব নির্দিষ্ট মানের সঙ্গে তার তুলনা ও বিচ্যুতি নিরূপণের ক্ষেত্রেও একটি সহজ পদ্ধতি গড়ে ওঠে। একই ধরনের কাজ সব সময় সম্পাদিত হওয়ায় বিচ্যুতির কারণগুলোও প্রায় একই ধরনের হয় । ফলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণও সহজ হয়ে থাকে । প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট হওয়ায় জবাবদিহিতাও অনেক সহজ হয়।

Leave a Comment