নিশ্চয়তা, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সিদ্ধান্ত গ্রহণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। Decision Making under Certainty, Uncertainty and Risk সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে অনিশ্চয়তা কম-বেশি জড়িত থাকে। কারণ যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে কিছুটা হলেও পারিপার্শ্বিকতার সম্পর্ক লক্ষ করা যায়।
Table of Contents
নিশ্চয়তা, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ

একটা ফাস্টফুডের দোকান কোনো পণ্যের মজুত ৫০ এককে আসলেই নতুন ফরমায়েশ দেয়। এখন নতুন ফরমায়েশের মাল দোকানে আসতে বিপদ হতে পারে। কোনো কারণে মাল সরবরাহ নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও তা সাধারণত ঘটে না তবে তার সম্ভাবনা একেবারেই নেই তা বলা যায় না । বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে এই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। নিম্নে বিভিন্ন অবস্থায় সিদ্ধান্ত- গ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. নিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত -গ্রহণ (Decision making under certainty):
নিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত- গ্রহণ বলতে এমন অবস্থাকে বুঝায় যেখানে সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হতে পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সিদ্ধান্ত নেয়াও সহজ হয়ে থাকে। পাশ্ববর্তী সকল কলেজে ছাত্র বেতন বাড়ানা হয়েছে- এ অবস্থায় যুক্তিসঙ্গত বুঝে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের ফলাফল হয় সাধারণ।
কাঠামোবদ্ধ সিদ্ধান্তের একটা অংশই মুলত এরূপ নিশ্চিত পরিপার্শ্বিকতায় গ্রহণ করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত- গ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য পর্যাপ্ত তথ্য থাকায় সিদ্ধান্তকারীর পক্ষে পরিমাণ ছাত্র বেতন বৃদ্ধি নিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত- গ্রহণ হিসেবে বিবেচিত।
২. অনিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত- গ্রহণ (Decision making under uncertainty) :
যে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তকারী পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়াই কোনো কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ করে তাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত -গ্রহণ বলে । এরূপ ক্ষেত্রে তথ্যের যেমনি অভাব থাকে তেমনি প্রাপ্ত তথ্য কতটা সঠিক এর ওপর আস্থা রাখাও কষ্টকর হয়।
ফলে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল কী দাঁড়াবে সেই সম্পর্কে সিদ্ধান্তকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সন্দিহান থাকে । যেমন- কোনো একটি কোম্পানি বিদেশে অপরিচিত একটা পরিবেশে তাদের ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে চায়। সেক্ষেত্রে ভিন্ন সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও আইনগত পরিবেশে কাজ করতে যেয়ে সংগৃহীত তথ্যের ওপর যেমনি আস্থা রাখা যায় না তেমনি গৃহীত সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে সে বিষয়ে অনেক সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা থেকে যায় । ফলে সে অবস্থায় সম্ভাবনার মাত্রা বিচার করে একজন সিদ্ধান্তকারী সিন্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
৩. ঝুঁকির মধ্যে সিদ্ধান্ত -গ্রহণ (Decision making under risk) :
সিদ্ধান্ত- গ্রহণ পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে নিশ্চিতভাবেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে তবে তারে ঝুঁকির মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে । একটা নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সেক্ষেত্রে যদি তথ্যের অভাব থাকে, পরিবেশের নানান চলক কতটা অনুকূল তা যদি সঠিকভাবে পরিমাপ করা না যায় তবে সেক্ষেত্রে উক্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক না হলে তা নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকির সৃষ্টি করে। কারণ সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই অনেক ব্যয় যুক্ত হয়ে যায় । তাই পণ্য বাজারে না চললে তা অবশ্যই আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্টি করে থাকে ।

একজন যোগ্য ব্যবস্থাপক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি সমেত অনিশ্চয়তার পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেন । তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে যথেষ্ট মনোযোগী হন । পরিসংখ্যানের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্যতার মাত্রাকে সঠিকভাবে যাচাই করতে চেষ্টা করেন । এছাড়া সিদ্ধান্ত- গ্রহণের পর বাস্তবায়ন পর্যায়ের সমস্যাগুলোকেও সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সেক্ষেত্রে সমাধানের বিভিন্ন বিকল্পগুলোকে সামনে নিয়ে আসেন । যাতে প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
