সাংগঠনিক কাঠামো নির্ণয়ে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন” বিষয়ক পাঠের অংশ। কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সংগঠন কাঠামো কেমন হওয়া উচিত বিচার-বিবেচনা ছাড়া এক কথায় তা বলে দেয়া সম্ভব নয় । কারণ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদান বিবেচনা করেই প্রতিষ্ঠানের জন্য সংগঠন কাঠামে নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়ে। R.M. Hodgetts তার বইয়ে প্রভাব বিস্তারকারী নিম্নোক্ত উপাদানসমূহের উল্লেখ করেছেন :
Table of Contents
সাংগঠনিক কাঠামো নির্ণয়ে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ

Internal factors:
(i) The size of the organization;
(ii) The diversity of its operations, and
(iii) The characteristics of the personnel.
External factors :
(i) Environmental stability;
(ii) Technology, and
(iii) A variety of external pressures.
Mintzberg (মিনজবার্গ) সংগঠন কাঠামোর নিম্নোক্ত পাঁচটি উপাদানের উল্লেখ করেছেন।
The operating core – যারা কর্মক্ষেত্রে কর্মরত থাকেন।
The strategic apex — সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ে যারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
The middle line— যারা কর্মকেন্দ্র ও প্রশাসনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের দায়িত্ব পালন করেন।
The technostructure — বিশ্লেষক বা বিশেষজ্ঞ কর্মী; যারা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বা সেবার মান কীভাবে করা উন্নত যায় তা বিশ্লেষণ করেন ও উন্নয়নের চেষ্টা করেন ।
The support staff—যারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সেবা প্রদান কাজে নিয়োজিত থাকেন ।
সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো : (ক) অভ্যন্তরীণ উপাদানসমূহ (Internal factors) :
১. সাংগঠনিক উদ্দেশ্যাবলি (Organizational objectives) :
সাংগঠনিক উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানের বিভাগ ও পদ-পদবি নির্ধারণ এবং সকল কার্যাকার্য পরিচালনা করা হয় । উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয়ধর্মী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণেই সংগঠন কাঠামো ভিন্নতর হয়ে থাকে। একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো ও একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণেই পৃথক হয়ে যায় ।
২. সাংগঠনিক আয়তন (Organizational size) ;
সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হবে তা এর আয়তনের ওপরও বিশেষভাবে নির্ভরশীল । প্রতিষ্ঠানের আয়তন যখন ছোট থাকে তখন সংগঠন কাঠামো অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ মানের হয়। কিন্তু যখন প্রতিষ্ঠানের কাজ ও জনশক্তি বৃদ্ধি পায় তখন সংগঠন কাঠামোতে আনুষ্ঠানিকতা ও জটিলতা বাড়ে । আমলাতন্ত্রের প্রতি একটা স্বাভাবিক ঝোঁক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
৩. কার্য প্রকৃতি (Nature of function) :
সংগঠন কাঠামো এর কাজের প্রকৃতির দ্বারাও বিশেষভাবে প্রভাবিত হয় ।একটা প্রতিষ্ঠান যদি একই ধরনের পণ্য উৎপন্ন করে তখন কাজে জটিলতা কম থাকে। কিন্তু যখন একই সাথে অনেক ধরনের পণ্য উৎপন্ন করে তখন সংগঠন কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই জটিল হয় । তেমনিভাবে একটা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত থাকলে সংগঠন কাঠামো সহজ হয় । অন্যথায় তা জটিল হয়ে থাকে ।
৪. কর্মীদের মান (Qualities of the personnel) :
কর্মীদের মানও সাংগঠনিক কাঠামো নির্ণয়ে প্রভাব বিস্তার করে । কর্মীদের মান যদি ভাল হয় তবে একজন ঊর্ধ্বতন এক সাথে অনেকজন অধস্তনের কাজ তত্ত্বাবধান করতে পারে । ফলে নির্বাহীর সংখ্যা ও সেই সাথে সাংগঠনিক স্তরের সংখ্যা হ্রাস পায়। অধস্তনরা দক্ষ হলে কর্তৃত্বার্পণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণও সহজ হয় । অন্যদিকে কর্মীরা যদি কার্যক্ষেত্রে দক্ষ না হয় তবে তত্ত্বাবধান, যোগাযোগ ও সমন্বয়ে সমস্যা হয়। আর এরূপ সমস্যা সমাধানের জন্য সাংগঠনিক কাঠামোতে জটিলতা লক্ষ করা যায় ।
(খ) বাহ্যিক উপাদানসমূহ (External factors) :
১. পরিবেশের স্থায়িত্ব (Stability of environment) :
প্রতিষ্ঠানের কার্য পরিবেশের স্থায়িত্বও সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করে । কার্য পরিবেশ পরিবর্তনের যদি তেমন কোনো সম্ভাবনা না থাকে তবে সংগঠন কাঠামোকে একভাবে তৈরি করা হয়। আবার যদি সময়ের সাথে কার্যপ্রকৃতি ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হয় তবে সেখানে সংগঠন কাঠামোকে অবশ্যই নমনীয়তার গুণসম্পন্ন করে তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে। ফলে সংগঠন কাঠামোর মজবুতির বিষয়ে সেখানে অত্যাধিক নজর দেয়া সম্ভব হয় না ।
২. প্রযুক্তির ধরন (Nature of technology) :
প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ধরনের ওপরও প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো নির্ভর করে । প্রতিষ্ঠানে যদি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তবে কার্যক্ষেত্রে বিশেষায়ণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে থাকে । ফলে প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ আবশ্যক বিবেচিত হয় । কার্যক্ষেত্রে জটিলতার কারণেই সরলরৈখিক সংগঠন সেখানে ব্যবহার করা যায় না। আবার ব্যবহৃত প্রযুক্তির মান যদি সাধারণ মানের হয় তবে সেক্ষেত্রে সাংগঠনিক কাঠামো সহজ হতে পারে ।

৩. বাহ্যিক চাপ (External pressure ) :
সংগঠন কাঠামো অনেক সময় বাহ্যিক চাপ; যেমন- প্রতিযোগীদের অবস্থা, সরকারি নিয়ম-নীতি, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদির দ্বারাও প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে জনবল কাঠামো কী হবে তা সরকার নির্ধারণ করে । তাই কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলেও সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন সাধন করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে সাংঠনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে শ্রমিক সংঘ বাধা হয়ে দাঁড়ায় । আবার ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন কী আনা হচ্ছে তা দেখেও সংগঠন কাঠামো বিন্যস্ত করা হয় ।
Source:
- সাংগঠনিক কাঠামো নির্ণয়ে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ | সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা
