কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা

আজকের আলোচনার বিযয় কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, কর্তৃত্ব (Authority) ও ক্ষমতা (Power) কে অনেকেই সমার্থক গণ্য করে থাকেন । কিন্তু ক্ষমতার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক । ক্ষমতা হলো অন্যের আচরণে প্রভাব বিস্তার করার সামর্থ্য। (Power refers to a capacity to influence the behaviour of others.)। যেক্ষেত্রে আদেশদান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের সঙ্গে কর্তৃত্ব সম্পর্কিত ।

Weihrich ও Koontz লেখনীর মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রচনা করেছেন । তিনি বলেছেন, “Power, a much broader concept than authority, it is the ability of individuals or groups to induce of influence the beliefs or actions of other persons or groups.”  অর্থাৎ কর্তৃত্ব অপেক্ষা ক্ষমতা একটি বৃহত্তর ধারণা যা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সামর্থ্যকে নির্দেশ করে যার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিশ্বাস বা কাজকে প্ররোচিত ও প্রভাবিত করা যায় ।

কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা

 

কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা | কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ

 

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, কর্তৃত্ব হলো আদেশ দানের ক্ষমতা যা সাধারণত সাংগঠনিক পদমর্যাদা থেকে সৃষ্ট হয় । অন্যদিকে ক্ষমতাও অনুরূপ পদমর্যাদা থেকে সৃষ্ট আদেশ দানের অধিকার । তবে ক্ষমতার ক্ষেত্রে কর্তৃত্ববান ব্যক্তির আরও কিছু সামর্থ্য জড়িত থাকে; যার বলে সে তার এই অধিকারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন- এরিয়া সেলস ম্যানেজাররা তাদের টার্গেট বিক্রয় অধস্তন সেলস সুপারভাইজারদের বুঝিয়ে দিয়ে তাদের কাজ তত্ত্বাবধান করেন ।

এ জন্য প্রয়োজনে তিরস্কার ও বাধ্য করার চেষ্টা করেন । এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা সমার্থক । তবে একজন এরিয়া সেলস ম্যানেজার তার কাজে খুবই দক্ষ । তার ব্যক্তিত্বের কারণে অধস্তনরা তাকে একই সাথে সম্মান ও ভয় করে । এক্ষেত্রে উক্ত ম্যানেজারের ক্ষমতা তার কর্তৃত্ব অপেক্ষা অধিকতর গণ্য হবে । ফলে সে তার কাজে অধিক ফল লাভে সমর্থ হবে । French 3 Revan তাদের গবেষণায় একজন ব্যক্তির ক্ষমতার ভিত্তি বা উৎসকে পাঁচ ভাগে চিহ্নিত করেছেন । যা নিম্নরূপ:

 

১. আইনানুগ ক্ষমতা (Legitimate power) :

আইনানুগ বা বৈধ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পদমর্যাদা থেকে উদ্ভূত হয় । প্রতিষ্ঠানের একজন সাধারণ ব্যবস্থাপক বিভাগীয় ব্যবস্থাপকদের ওপর ক্ষমতা ভোগ করেন । এরূপ ক্ষমতাকে আইনানুগ ক্ষমতা বলা যায় ।

২. দমনমূলক ক্ষমতা (Coercive power) :

অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মনে ভীতি সৃষ্টির সামর্থ্যকে দমনমূলক ক্ষমতা বলে। এক্ষেত্রে অধস্তন মনে করে, যদি সে ঊর্ধ্বতনের কথা না মানে তবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে বা সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।

৩. পুরস্কার প্রদানের ক্ষমতা (Rewarding power) :

এরূপ ক্ষমতা দমনমূলক ক্ষমতার বিপরীত। এ ধরনের ক্ষমতা অধস্তনদের পুরস্কার প্রদানের সামর্থ্য থেকে উদ্ভূত হয় । এক্ষেত্রে অধস্তন মনে করে, যদি সে ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করে বা তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে তবে তাকে ভাল গ্রেড প্রদান করা হবে, পদোন্নতি দেয়া হবে ইত্যাদি ।

৪. দক্ষতা প্রদর্শনের ক্ষমতা (Power of skill) :

এরূপ ক্ষমতা কোনো বিশেষ কাজে ঊর্ধ্বতনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত হয় । এক্ষেত্রে অধস্তনরা তার ঊর্ধ্বর্তনের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে । ফলে তাদের ওপর ঊর্ধ্বতনের প্রভাব পড়ে | 

 

কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা | কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ

 

৫. প্রশংসা অর্জনের ক্ষমতা (Reference power) :

কেউ যদি অন্যের মনে সুধারণা সৃষ্টি করতে পারে বা প্রশংসা অর্জন করতে সমর্থ হয় তবে এর ফলে অন্যদের ওপর তার ক্ষমতার বা প্রভাবের সৃষ্টি হয় । ঊর্ধ্বতন যদি তার ব্যবহার, সততা, জ্ঞান ইত্যাদির মাধ্যমে অধস্তনের মনে সুধারণা সৃষ্টি করতে পারে তবে তা এক ধরনের ক্ষমতায় রূপ লাভ করে। অধস্তন ও তার সততা, আন্তরিকতা ও আনুগত্যের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতনের ওপর এ ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যা ক্ষেত্র বিশেষ এক ধরনের ক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয় ।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ক্ষমতা কর্তৃত্ব অপেক্ষা অনেক বেশি বৃহত্তর ধারণা। ক্ষমতার প্রভাব ব্যক্তির মনের ওপর বিভিন্নমুখী ক্রিয়ার সৃষ্টি করে । ফলে নির্দেশনাকে বাস্তবে রূপায়ণ অধিক সহজতর হয়। একজন আইনানুগ কর্তৃত্বশালী বা ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি যদি প্রকৃত অর্থে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে তাহলেই তার পক্ষে কর্তৃত্বের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হয় ।

Leave a Comment