আজকের আলোচনার বিযয় রৈখিক নির্বাহী ও পদস্থ কর্মীর মধ্যে বিরোধের কারণসমূহ – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, রৈখিক কর্তৃত্বের সাথে সহযোগী কর্তৃত্বের বিরোধ কর্তৃত্ব শৃঙ্খলের স্তরীয় পদমর্যাদা থেকে প্রাপ্ত কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের রৈখিক নির্বাহী বলে ।
প্রতিষ্ঠানের মূল কর্তৃত্ব এরূপ নির্বাহীগণ ভোগ করেন । কিন্তু কর্তৃত্বপ্রাপ্ত নির্বাহীর জ্ঞান, দক্ষতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তার পক্ষে সকল সময়ে সব কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিষ্ঠানে সহযোগী কর্মী বা উপদেষ্টার ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়ে। কিন্তু এরূপ নিয়োগের পর কাজে সুবিধা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই রৈখিক নির্বাহী ও পদস্থ কর্মীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় । এরূপ বিরোধের কারণসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো:
Table of Contents
রৈখিক নির্বাহী ও পদস্থ কর্মীর মধ্যে বিরোধের কারণসমূহ

১. স্টাফের দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে অস্পষ্টতা (Vague in staff responsibility) :
সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় স্টাফের কর্তব্য হলো রৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করা এবং তার বা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পাদন করা । বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ কর্মীর কাজে ভিন্নতা থাকলেও তা তাদেরকে রৈখিক নির্বাহীর ইচ্ছা ও চাহিদা অনুযায়ী সম্পাদন করতে হয় । রৈখিক নির্বাহীর প্রতি এ ধরনের মুখাপেক্ষিতা অনেক সময়ই তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেয় । ফলে বিরোধের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় ।
২. ক্ষমতার রশি টানাটানি (Tug of war for power) :
নিয়মানুযায়ী সরলরৈখিক নির্বাহীগণ কার্যক্ষেত্রে সকল কর্তৃত্ব ভোগ করেন । ফলে ক্ষমতার একটা অহংকার তাদের মধ্যে ক্রিয়াশীল থাকে । অন্যদিকে যোগ্য পদস্থ কর্মী সুযোগ পেলেই নির্বাহীকে তার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলার চেষ্টা করে । এভাবে প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্ব নিয়ে এক ধনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় । যা প্রতিষ্ঠানে একটা বিরোধের আবহ সৃষ্টি করে ।
৩. চিন্তার পার্থক্য (Difference in opinion) :
দু’ ধরনের কর্মীদের মধ্যে চিন্তার পার্থক্য উভয়ের মাঝে প্রায়শই বিরোধের কারণ হয় । রৈখিক নির্বাহী নিজেকে সকল কর্তৃত্বের অধিকারী এবং পদস্থ কর্মীকে অনেক সময় ভৃত্যের মতো গণ্য করে । বিশেষজ্ঞ কর্মীগণ অনেক সময় নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে নিজ অবস্থানে সুদৃঢ় থাকতে চায় । ফলে প্রয়োজনে সহযোগিতা না পেয়ে অনেক সময় নির্বাহী ক্ষিপ্ত হয় । ফলে বিরোধ দেখা দেয় ।
৪. রৈখিক নির্বাহী কর্তৃক অবহেলা (Neglegency by the line executives) :
রৈখিক নির্বাহী কর্তৃক স্টাফ কর্মীকে অবহেলাও এরূপ বিরোধের অন্যতম কারণ । বিশেষজ্ঞ কর্মীগণ নির্বাহী অপেক্ষা অনেক ক্ষেত্রে অধিক জ্ঞানের অধিকারী হলেও তাদের কোনো কর্তৃত্ব থাকে না । তারা অনেক পরিশ্রম করে যে কর্মসূচি বা প্রস্তাবনা তৈরি করে অনেক ক্ষেত্রেই রৈখিক নির্বাহী তা বিশেষ আমলে না এনে প্রত্যাখ্যান করে । এতে স্টাফ কর্মী মানসিকভাবে আহত হয় । যা মানসিক দূরত্ব ও বিরোধের জন্ম দেয় ।

৫. অধস্তন নির্বাহীদের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি (Spreading misunderstanding among subordinates):
ব্যক্তিগত স্টাফ ব্যবহারের ফলে অনেক সময় অধস্তন নির্বাহীদের মাঝে স্টাফ কর্মীর কর্তৃত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত স্টাফ ঊর্ধ্বতনের ব্যাপক সাহচর্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অধস্তন নির্বাহীগণ তাকে ভয় পায় ও সমীহ করে। এরূপ অবস্থায় ব্যক্তিগত স্টাফ অধস্তনদের ওপর অধিক কর্তৃত্ব খাটানোর প্রয়াস চালায় । এতে ভুল বোঝাবুঝির পাশাপাশি অনেক সময়ই বিরোধের সূত্রপাত্র হয় ।
