আজকের আলোচনার বিযয় স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কাকে বলে – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব প্রাচীন মানসিকতা দোষে দুষ্ট এক ধরনের পরিচালনা কৌশল । যেক্ষেত্রে নেতা সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখে এবং নিজ ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত প্রদান করে তাকে স্বৈরাচারী বা স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে । এক্ষেত্রে নেতা প্রভুর ন্যায় আচরণ করে এবং অধস্তনদের নিজের চাকর বা দাস সদৃশ গণ্য করে ।
Bovee ও অন্যদের মতে, “ক্ষমতা নিজের কাছে কেন্দ্রীভূত রাখে এবং এককভাবে সকল সিদ্ধান্ত নেয় এমন ব্যবস্থাপককে স্বৈরাচারী নেতা বলে।” (Autocratic leader means a manager who tends to centralize authority and to make unilateral decisions.)
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব কাকে বলে

এ ধরনের নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো :
১. নেতা সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখে ;
২. সকল সিদ্ধান্ত সে এককভাবে গ্রহণ করে;
৩. নেতা অধস্তনদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে পরামর্শ বা আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করে না;
৪. সে নিজকে প্রভু হিসেবে গণ্য করে;
৫. কর্মীদের কাছ থেকে শর্তহীন আনুগত্য পাওয়ার প্রত্যাশা করে;
৬. নেতা সকল কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন ও জটিলতার সৃষ্টি করে এবং
৭. এতে কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয় ।

স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের সুবিধা হলো এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় এবং অধস্তনরা অজ্ঞ ও প্রাচীন মানসিকতার অধিকারী হলেও স্বল্প সময়ের জন্য এ পদ্ধতিতে কাজ আদায় সম্ভব হয়। এর বড় অসুবিধা হলো- এতে কর্মীরা মনোবল হারায় এবং নেতাকে সব সময়ই অপছন্দ করে । ফলশ্রুতিতে স্বতঃস্ফূর্ত কাজ আদায় এখানে কখনই সম্ভব হয় না। যে কারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এরূপ নেতৃত্বকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়। না।
