কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা

আজকের আলোচনার বিযয় কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা – যা প্রেষণা এর অর্ন্তভুক্ত, কর্মীদের কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রেষণার গুরুত্ব সর্বজনস্বীকৃত হলেও প্রেষণা দানের বিষয়টি বেশ জটিল। একটি প্রতিষ্ঠানে প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ যেমনি জটিল বিষয় তেমনিভাবে প্রেষণা প্রদানের ক্ষেত্রে নানারূপ সমস্যাও দেখা দেয়। নিম্নে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতাসমূহ উল্লেখ করা হলো :

কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা

 

কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা

 

১. কর্মীদের প্রয়োজনের ভিন্নতা (Variation in employee needs) :

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের অভাব বা প্রয়োজন একই ধরনের নয় । কেউবা আর্থিক দিকে বেশি সুবিধা পেতে চায়, কেউবা অনার্থিক প্রেষণার দ্বারা অধিক উদ্বুদ্ধ হয় । তাই প্রেষণাদানের সর্বজনগ্রাহ্য পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় না । এ জন্য অবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে কমবেশি প্রণোদিত করে-এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা প্রয়োজন ।

২. কর্মীদের মানসিক অবস্থার ভিন্নতা (Variation in employee mentality) :

কর্মীদের মনের বিচিত্রতা প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে । তদুপরি কর্মীদের মানসিক অবস্থা অনেক সময়ই পরিবর্তিত হয় । ফলে প্রেষণাদানের একই ধরনের পদ্ধতি সব সময়ই কার্যকর হয় না ।

৩. স্তরগত পার্থক্য (Hierarchical differences) :

প্রতিষ্ঠানের স্তর ভেদে কর্মীদের মান-মর্যাদা ও চাওয়া- পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় । নিচের স্তরের শ্রমিক-কর্মীরা ন্যায্য বেতনে বেশি উদ্বুদ্ধ হলেও উচ্চস্তরের নির্বাহীরা অধিক কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা পেতে চায় । সুতরাং এটাও প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে ।

 

৪. প্রবণতার পার্থক্য (Difference in aptitudes) :

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বা প্রতিষ্ঠানের একই স্তরে নিয়োজিত সকল কর্মীর প্রবণতা এক নয় । নিয়োজিত কার্যকে একজন কর্মী যেভাবে গ্রহণ করে অন্যজন তাকে সেভাবে গ্রহণ নাও করতে পারে । কেউবা নিজের কাজের ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করে, তাই সেক্ষেত্রেও প্রেষণাদান কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় ।

৫. ধ্যান-ধারণার ভিন্নতা (Difference in ideas) :

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের ধ্যান-ধারণার ভিন্নতাও অনেক ক্ষেত্রে প্রেষণাদানে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে । কর্মীদের প্রেষণাদানের ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা অনেক সময় এজন্যও নিরুৎসাহিত হয় যে, তাদের সুবিধা প্রদান বাড়তি সুবিধার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। অন্যপক্ষে কর্মীরা তাদের দেয় সুবিধাকে অপর্যাপ্ত মনে করে, যাও এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । 

৬. দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিন্নতা (Difference in experience and efficiency):

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এক নয় । ফলে তাদের চিন্তার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায় । তাই প্রেষণা প্রদানে জটিলতার সৃষ্টি হয় । 

৭. অবিচার ও স্বজনপ্রীতি (Injustice and nepotism) :

প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীর প্রতি যদি ঊর্ধ্বতন সুবিচার না করে বরং স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করে তবে কর্মীদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয় । সে অবস্থায় প্রেষণা দান জটিল হয়ে পড়ে ।

৮. শ্রমিক সংঘের আচরণ (Activities of labour unions) :

শ্রমিক সংঘ যদি প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে সহায়ক না হয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে সেক্ষেত্রে কর্মীদের ইতিবাচক উৎসাহ প্রদানও অনেক সময় সমস্যার কারণ হয় । আমাদের দেশের শ্রমিক সংঘগুলোর কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীদের কাজের প্রতি যথাযথ উদ্বুদ্ধ করে না বলে মনে করা হয়। 

 

কর্মীদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা

 

৯. নমনীয়তার বাধা (Limitation of flexibility) :

প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে অনমনীয়তার বিষয়টিও একটি সমস্যা। কর্মীদের কোনো সুবিধা একবার প্রদান করা হলে তা আর কমানো যায় না । তাই ঊর্ধ্বতনগণ কোনো সুবিধাদানের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে যথেষ্ট সাবধানতা ও কড়াকড়ি অবলম্বন করে। যা প্রকারান্তরে প্রেষণা দানের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহারে বলা যায়, প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের উপরোক্ত সমস্যাসমূহ বিবেচনা করা প্রয়োজন । অন্যথায় ‘হিতে বিপরীত’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুচিন্তিতভাবে সঠিক প্রেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ সম্ভব হলেই শুধুমাত্র কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা যায় ।

Leave a Comment