আজকের আলোচনার বিযয় তথ্য পরিচালনায় কম্পিউটারের ব্যবহার – যা নিয়ন্ত্রণ এর অর্ন্তভুক্ত, কম্পিউটারের কাজই হলো উপাত্ত আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে একে তথ্যে পরিণত করা । এই তথ্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পক্ষকে বিতরণ তথ্য পরিচালনার অন্তর্ভুক্ত।
আর এর সকল কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার অত্যন্ত ফলপ্রদ বিবেচিত হয়ে থাকে । আজকাল কম্পিউটার বলতে ডিজিটাল কম্পিউটারকেই বুঝায়। ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও হিসাবের জন্য ডিজিটাল কম্পিউটারে বর্ণনা (Word) ও অংক (Digit) ব্যবহৃত হয় এবং প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল সরাসরি মনিটর বা অন্য কোনো আউটপুট ডিভাইসে প্রদর্শিত হয়। নিম্নে তথ্য পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার আলোচনা করা হলো :

Table of Contents
তথ্য পরিচালনায় কম্পিউটারের ব্যবহার
১. মাইক্রোকম্পিউটার (Microcomputer):
ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি মাইক্রো কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা সংক্ষেপে PC বলে । এরূপ কম্পিউটার টেবিলে স্থাপন করে ব্যবহার করা হলে তাকে Desktop Computer এবং সহজে বহনযোগ্য ও যেকেনো স্থানে রেখে ব্যবহার করা গেলে তাকে Laptop Computer বলা হয়ে থাকে । আমাদের দেশে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাইক্রো কম্পিউটার কার্যত ব্যবহৃত হয় । এরূপ কম্পিউটারের ব্যবহার নিম্নে তুলে ধরা হলো :
ক) ডেটা প্রসেসিং (Data processing):
গাণিতিক ও পরিসংখ্যান বিষয়ক হিসাব-নিকাশ ও ডেটা প্রসেসিং; যেমন- Payroll বা বেতন তৈরি, বিক্রয়-মজুত ইত্যাদির হিসাব রাখা, মূল্য নির্ধারণকারী বারকোড নম্বর ও মূল্য নির্ধারণ ইত্যাদি কাজে কম্পিউটার ব্যবসায়ীদেরকে সহায়তা করে। এছাড়া ওয়ার্ড প্রসেসিং এর মাধ্যমে চিঠি-পত্র, বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন দলিল, ম্যাগাজিন, বই ইত্যাদি ডকুমেন্ট তৈরি ও প্রসেসিং করা হয় এবং তা দীর্ঘকাল সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায় । ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ভিত্তিতে এরূপ কম্পিউটার ব্যবহার করে । অনলাইন ব্যবস্থায় এরূপ সুবিধা বর্তমানে আরও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খ) নিয়ন্ত্রণ (Control):
বিভিন্ন ধরনের মেকানিকাল ডিভাইস ও প্রসেস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ । শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় চাপ, উত্তাপ ইত্যাদি মাপার প্রয়োজন দেখা দেয় । কোনো কারণে চাপ ও উত্তাপ বেড়ে গেলে কম্পিউটার তা নিজেই সংশোধন করে বা সেই সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে জানায় যা প্রসেস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া উৎপাদনের পরিমাণ ও মান সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ও নিয়ন্ত্রণে কম্পিউটার সহায়তা করে ।
গ) ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট (Design and development):
প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কোনো প্রজেক্টের ডিজাইন তৈরি, তার উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নের আগেই তা পরীক্ষা করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্রুটি সংশোধন সহজ হয় এবং কার্য বাস্তবায়নকালে অর্থ ও সময়ের সাশ্রয় করা যায় ।
ঘ) তথ্য আদান-প্রদান (Data communication) :
তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। কম্পিউটারের কারণেই ইন্টারনেট, ই-মেইল, ই-কমার্স ইত্যাদির ব্যবহার সম্ভব হয়েছে । এছাড়া স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, টেলিকমিউনিকেশন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে এরূপ কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষণীয় । ব্যাংক ব্যবসায়ে ফাইল ট্রান্সফার, ফান্ড ট্রান্সফার, ডকুমেন্ট ট্রান্সফার ইত্যাদি কাজে কম্পিউটার এক অভিনব সুযোগ সৃষ্টি করেছে ।
২. মিনিকম্পিউটার (Minicomputer):
মিনিকম্পিউটার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা ও বিশ্লেষণে এবং বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয় । মাইক্রোকম্পিউটারের তুলনায় মিনিকম্পিউটার অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এজন্য মিনি কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের জটিল কাজে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে একাধিক ইনপুট/আউটপুট যন্ত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে । টারমিনালের সাহায্যেও প্রায় শতাধিক ব্যবহারকারী একসঙ্গে মিনিকম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে ।
৩. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe computer):
মেইনফ্রেম কম্পিউটার মিনি কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন । মেইনফ্রেম কম্পিউটারে সব ধরনের পেরিফেরাল ব্যবস্থা, সব রকম হাইলেভেল ভাষা ও সব ধরনের সফটওয়ার ব্যবহৃত হয় । এদের দাম কয়েক কোটি টাকা । অনেক বড়ো শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উচ্চস্তরের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

৪. সুপার কম্পিউটার (Super computer):
সুপার কম্পিউটার হলো সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটার । সুপার কম্পিউটার মেইনফ্রেম কম্পিউটার থেকে আরও শক্তিশালী। যেখানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিরাট জটিল হিসাব করতে হয় সেখানে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মহাকাশযান চালনা, প্রতিরক্ষা
গবেষণা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের ডিজাইন, পরমাণু চুল্লীর ও সুপারসনিক বিমানের ডানার ডিজাইন তৈরি, সিমুলেশন ও মডেলিং ইত্যাদি । সুপারকম্পিউটারে অনেক প্রসেসর একত্রে কাজ করে বিধায় খুব দ্রুতগতিতে ডেটা প্রসেস করা যায়।
