আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্যবস্থাপনার আওতা বা পরিধি।যা ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা ও নীতিসমূহ অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।
Table of Contents
ব্যবস্থাপনার আওতা বা পরিধি

ব্যবস্থাপনার পরিধি বা কার্যক্ষেত্র অত্যন্ত ব্যাপক। এর কার্যক্ষেত্র কেবল কারবারি প্রতিষ্ঠানেই সীমিত নয়। সকল প্রকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সুদক্ষ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্যে এর কার্যক্ষেত্রে ব্যাপকতা থাকে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ক্লাব, সমিতি, সরকারি দফতর প্রভৃতি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ব্যাতিরেকে কোন প্রতিষ্ঠানই তার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয় না। সাধারণভাবে নিম্নোক্ত বিষয়াদির নিরিখে ব্যবস্থাপনার আওতা নির্ধারণ করা সম্ভব—
১। কার্যাবলির ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার আওতা ঃ
বিভিন্ন অবস্থায় ব্যবস্থাপকগণ বহুমুখী কার্যসম্পাদন করে। আধুনিক কালের স্বনামধন্য ব্যবস্থাপনা বিশারদ পিটার, এফ, ড্রাকারের মতে- ব্যবস্থাপক একই সাথে তিনটি কার্য সম্পাদন করে, যথা-
(ক) কারবার পরিচালনা :
কারবার পরিচালনার অর্থ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন নিশ্চিতকরণ। একজন সফলকাম ব্যবস্থাপককে অর্থনীতির সৃষ্টি না হয়ে অর্থনীতির স্রষ্টা হতে হয়।
(খ) ব্যবস্থাপকদের ব্যবস্থাপনা ঃ
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক একজন নয়। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সকল নির্বাহীর কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং ভারসাম্য রক্ষা করা ব্যবস্থাপকদের কাজ।
(গ) শ্রমিক-কর্মী পরিচালনা ঃ
শ্রমিক-কর্মীরাই হলো প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষভাবে কার্যসম্পাদনে নিয়োজিত পক্ষ। তাদের নিকট হতে কাজ আদায় করে নেয়া এবং এ লক্ষ্যে তাদেরকে পরিচালনা করার যাবতীয় কার্যাবলি ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত।
২। কৌশল প্রয়োগের ভিত্তিতে আওতা :
প্রতিযোগিতাশীল বাজারে সফলতার সাথে টিকে থাকার জন্য একজন ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন ধরনের কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়।
৩। প্রয়োজন নিরিখে আওতাঃ
ওপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কার্য সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ খোলার প্রয়োজন পড়ে। এ সকল বিভাগ, উপ-বিভাগ পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত।
৪। স্তরভেদে ব্যবস্থাপনার আওতা ঃ
ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ স্তর হতে শ্রমিক-কর্মী তত্ত্বাবধানের স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। স্তরভেদে ব্যবস্থাপনাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা- (ক) সর্বোচ্চ স্তর (খ) মধ্যম স্তর (গ) নিম্ন স্তর। এ তিন স্তরে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকদের কার্যের প্রকৃতি, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও প্রতিষ্ঠানের জন্য। তাদের কার্যাবলি ব্যবস্থাপনার আওতার মধ্যে গণ্য হয়।

