আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ব্যবস্থা পরিচালনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব।
Table of Contents
ব্যবস্থা পরিচালনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা পরিচালনার একটি মৌলিক কাজ। ব্যবস্থাপক যে কাজই করেন না কেন, তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা করতে হয়। এজন্য অনেক লেখকও তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। কাজেই ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিম্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীতা সংক্ষেপে সচিত্র আলোচনা করা হল—
১। সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান (Best solution to problem) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা নির্দেশ করে। যে কোন সমস্যার কার্যকর সমাধানে সর্বোত্তম বা কাম্য সমাধান কোনটি তা নির্বাচন করাই হল এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য যথার্থ পন্থা। বস্তুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের এই পন্থা নির্ধারিত হয়।
২। সঠিক কার্যধারা অনুসরণ (Following the right course of action) :
সঠিক সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক কার্যকলাপেরসুস্পষ্ট রূপরেখা নির্দেশ করে, যা অধস্তন কর্মীদের জন্য পথনির্দেশিকাস্বরূপ। ফলে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত উপায়- উপকরণগুলো ব্যবহারে সঠিক কার্যধারা অনুসরণ করা যায় ।
৩। দক্ষতা বৃদ্ধি (Enhancement of efficiency) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপককে উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে যথেষ্ট মাথা ঘামাতে হয়, যা কার্যত তার মেধা, মননশীলতা, যুক্তি ও অনুসন্ধানী মনোভাবকে শাণিত করে থাকে। এমনিভাবে একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের বিচিত্র ধরনের সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করে থাকে ।
৪। উদ্দেশ্য অর্জন (Objective achievment) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সঠিক কার্যধারা নির্ধারণ সম্ভব হয়। ফলে উপকরণাদির কার্যকর ব্যবহার করে উদ্দেশ্যার্জন ত্বরান্বিত করা যায়
৫। গতিশীলতা সৃষ্টি (creating dynamism) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি নিয়মিত ও ব্যাপক বিস্তৃত ব্যবস্থাপকীয় কাজ । যথাপোযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের সব কাজেগতিশীলতা বৃদ্ধি পায় ।
৬। সম্পর্ক উন্নয়ন (Improvement of relation) ঃ
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে মতপরামর্শ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ফলে মানব সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও উত্তম কার্য-পরিবেশ নিশ্চিত করে।
৭। উপকরণাদির সুষ্ঠু ব্যবহার (Proper utilization of factors) :
উপকরণাদির সুপরিকল্পিত ও সঠিকমাত্রায় ব্যবহারের উপরই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে। ব্যবস্থাপনার সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উপকরণগুলোকে এমন কর্মপন্থা বা কার্যধারায় ব্যবহার করে যা থেকে সর্বোত্তম কার্যফল অর্জন করা যায় ।
৮। নিয়মিত প্রশিক্ষণ (Regular training) :
দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরের নির্বাহী ও কর্মীদের অংশগ্রহণের দরুন অধীনস্থরা ব্যবস্থাপকীয় সমস্যা সমাধানের কলাকৌশল রপ্ত করতে পারে। ফলে সব স্তরের নির্বাহী ও কর্মী নিজ নিজ ব্যবস্থাপনা স্তরে কার্যকর ও বাস্তবমুখী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।
৯। ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ (Growth and expansion of business) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি
ও সম্প্রসারণ ঘটায়।
১০। নেতৃত্বের বিকাশ (Growth of leadership) :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেতৃত্বের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তা ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সঠিক কর্মপন্থা নির্দিষ্ট করে ব্যবস্থাপক যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন তা তাকে নেতার আসনে উপনীত করে।
পরিশেষে বলা যায়, র্যবস্থাপনার মুখ্য কাজই হল সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং স্টুনার, ফ্রিম্যান ও গিলবার্টের ভাষায়— “The art of decision making is central to management”

