অনার্থিক উপাদান

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় অনার্থিক উপাদান।

অনার্থিক উপাদান

 

অনার্থিক উপাদান

 

 

১। ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও অধিকার ঃ

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন কর্মীর অধিকার, ক্ষমতা ও কর্তব্যের গণ্ডি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত। সুতরাং প্রতিটি কর্মীকে নিজ নিজ অধিকার, ক্ষমতা ও কর্তব্য সম্পর্কে পূর্বধারণা দিতে পারলে তারা কাজে প্রেষণা অনুভব করবে।

২। সুষ্ঠু কর্ম পরিবেশ ঃ

ফলপ্রদ কাজের পিছনে কর্মপরিবেশের প্রভাব রয়েছে। কর্মী যেখানে কাজ করে সেই স্থানের পরিবেশ যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পর্যাপ্ত আলো বাতাসযুক্ত ও হইচইমুক্ত হয় তবে তা কর্মীদের মনোবল উন্নত করে ।

৩। আনন্দদায়ক কাজ ঃ

কর্মীরা আনন্দদায়ক ও অবদানমূলক কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়। তাইকাজকে আনন্দপূর্ণ করা এবং কর্মী যে কাজ করছে তার গুরুত্ব তাদের নিকট তুলে ধরার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ।

৪। উত্তম ব্যবহার ও প্রশংসা ঃ

ভালো কাজে যেমন অর্থ ব্যয় হয় না, তেমনি এর ফলাফলও অত্যন্ত বেশি। এর প্রশংসা হলে কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে উদ্দীপ্ত হয়।

৫ । প্রশিক্ষণের সুবিধা ঃ

উত্তম প্রশিক্ষণ, কর্মীদের দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এটি কর্মীদের পদোন লাভে বা অধিক দায়িত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণে সক্ষম ও সাহসী করে তোলে।

৬। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ঃ

ব্যবস্থাপনা যদি স্বেচ্ছাচারী না হয়ে কর্মীদের চিন্তা-ভাবনার প্রতি মূল্য দেয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরামর্শ গ্রহণ করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত নেয় এবং অভাব অভিযোগের প্রতি সহানুভূতি প্রবন করে তবে নির্বাহী তথা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের সু-ধারণার সৃষ্টি হয়।

৭। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ঃ

প্রতিষ্ঠানের সুনামের সাথে কর্মীর মনোবল ও কাজে প্রেষণা বহুলাংশে নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানের সুনাম কর্মীদের আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি করে এবং তারা চাকরিতে আনন্দ ও নিরাপত্তা বোধ করে।

 

৮। ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি সহানুভূতি ঃ

প্রত্যেক কর্মীরই কতিপয় ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। এ সঙ্গ সমস্যার আশু সমাধানের উপরই কার্য সম্পাদনে কর্মীর আত্মনিয়োগ নির্ভর করে।

৯। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ঃ

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের সন্তানদের লেখাপড়ায় সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার মাধ্যমেও কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা যায়।

১০। সুবিচার প্রতিষ্ঠা ঃ

প্রতিষ্ঠানের কার্যাকার্যে অন্যায় অবিচার স্বভাবতই কর্মীদের ক্ষুদ্ধ করে, প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে ও সকল কার্যে যদি সুবিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় এবং সকল কর্মীদের সাথে সমান আচরণ করা যায়, তবে তা কর্মীদের প্রণোদিত করে।

 

অনার্থিক উপাদান

Leave a Comment