আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মাসলোর প্রেষণা তত্ত্ব।
মাসলোর প্রেষণা তত্ত্ব

প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে সম্পর্ক (Relationship Between Motivation And Morale) :
প্রেষণা হচ্ছে কর্মীদের কাজে অনুপ্রাণিত করার প্রক্রিয়া। আর মনোবল হচ্ছে কর্মীর মানসিক অবস্থা ও অনুভূতি, যা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে কর্মীর ইচ্ছাশক্তিকে প্রভাবিত করে। প্রেষণা ছাড়া যেমন উন্নত মনোবল আশা করা যায় না, তেমনি কর্মীর মনোবল উন্নত না হলে কাজের প্রতি কর্মীর আগ্রহ সৃষ্টি হয় না।
অতএব, দেখা যাচ্ছে শ্রমিক কর্মীদের কাজের ইচ্ছার সাথে মনোবলের পরিধি এবং প্রেষণা শক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কর্মীরা প্রেষিত হলে কাজের প্রতি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়লে কর্মীদের মনোবলও ধীরে ধীরে উন্নত হয়। প্রেষণা ছাড়া যেমন উন্নত মনোবল আশা করা যায় না, তেমনি কর্মীদের মনোবল উন্নত না হলে প্রেষণা দেওয়াও সম্ভব হয় না। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রেষণা ও মনোবলের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
মাসলোর প্রেষণা তত্ত্ব (Motivation theory of Maslows) :
প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলো প্রেষণা ও মানুষের প্রয়োজনের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে একটি তত্ত্ব দিয়েছেন, যা ‘মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। এ তত্ত্ব হতে মানুষের চাহিদা বা প্রয়োজনগুলোকে পাঁচটি স্তরে বা সোপানে সাজানো যায়। এগুলো হল-
১। দৈহিক প্রয়োজন (Physical needs) : ন্যূনতম বাঁচার প্রয়োজনকে দৈহিক প্রয়োজন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন এ শ্রেণির অভাবের অন্তর্ভুক্ত।
২। নিরাপত্তার প্রয়োজন (Safety needs) : দৈহিক প্রয়োজন পূরণের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে নিরাপত্তার, সে নিজেকে ও তার পরিবারকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির হাত হতে রক্ষা করতে চায় । এই জন্য সে চায় চাকরির স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও বাঁচার সুযোগ ।
৩। প্রতিপত্তি ও ভালোবাসা বা সামাজিক প্রয়োজন (Social needs) : মানুষ যখন নিরাপত্তাবোধে তৃপ্ত হয়, তখন সে বন্ধুবান্ধব ও অন্যদের মাঝে নিজ প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ও অন্যদের ভালোবাসা পেতে চায়। এ পর্যায়ে সে বিভিন্ন সামাজিক ক্রিয়াকর্মে উৎসাহিত হয় ও নিজেকে সমাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে চায়।
৪। আত্মতৃপ্তির প্রয়োজন (Esteem needs) ঃ অতঃপর মানুষ কাজের মধ্যে আত্মতৃপ্তির প্রয়োজনীয়তা বোধ করে। আত্মতৃপ্তির প্রয়োজন একজন ব্যক্তির সুনাম-সুখ্যাতি, যশ, অহংবোধ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট। এ পর্যায়ে সে বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, বড় চাকরি ইত্যাদির অভাব বোধ করে।
৫। আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজন (Self-actualisation needs) : উপরোক্ত অভাব পূরণ হলে যে প্রয়োজন মানুষকে আকর্ষিত করে তা হল আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। এ পর্যায়ে সে তার প্রতিভার সর্বাত্মক রূপায়নে অগ্রসর হতে চায়, শিল্প সাহিত্য, রাজনীতি, সভা-সমাবেশ ইত্যাদির মাধ্যমে সে মৃত্যুর পরও নিজেকে অমর করে রেখে যেতে চায়।

