একজন ব্যবস্থাপককে কেন ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়

একজন ব্যবস্থাপককে কেন ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয় তা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” পরিবেশ” বিষয়ক পাঠের অংশ।মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন নিশ্চিত করাই একজন- ব্যবস্থাপকের কাজ। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একজন- ব্যবস্থাপককে এ কাজ করতে যেয়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন অবস্থা বা পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। ভবিষ্যৎ সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো বুঝতে হয় । আর এজন্য ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সবসময়ই সচেতন থাকার প্রয়োজন পড়ে । নিম্নোক্ত দু’ধরনের পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে তার জানা অপরিহার্য :

একজন ব্যবস্থাপককে কেন ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়

 

একজন ব্যবস্থাপককে কেন ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয় | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

ক) ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ প্রভাব সৃষ্টিকারী পরিবেশ (Direct action environment) :

এর উপাদান হলো-মালিক বা শেয়ারহোল্ডার, শ্রমিক-কর্মী, ভোক্তা, প্রতিযোগী, পণ্য বা ঋণ সরবরাহকারী, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি, সরকারি সংস্থা, কৌশলগত মিত্র ইত্যাদি ।

খ) ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট সাধারণ পরিবেশ (General environment) :

এর বিষয়বস্তু হলো-প্রাকৃতিক বা ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত বা কারিগরি, রাজনৈতিক, আইনগত ও আন্তর্জাতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ । নিম্নোক্ত কারণে একজন -ব্যবস্থাপককে ব্যবসায় পরিবেশের উপরোক্ত উপাদানসমূহ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয় :

১. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Taking proper decision) :

ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নির্ভর করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারার উপর। একজন -ব্যবস্থাপক কোথায় ব্যবসায় গড়বে, কখন, কোথায়, কোন ধরনের উদ্যোগ নিবে, কখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে-এজন্য ব্যবসায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ও এর পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তাকে জানতে হয় ।

 

২. সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার (Maximum use of opportunities) :

একজন- ব্যবস্থাপককে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ব্যবসায়ের সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে সবসময় ওয়াকিবহাল থাকতে হয় । সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো না গেলে কোনভাবেই ব্যবসায়কে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না।

৩. অসুবিধা বা দূর্বলতা দূরীকরণ (Removing limitations and weakness ) :

একজন- ব্যবস্থাপককে তার ব্যবসায়ের দূর্বল দিক এবং প্রতিকূল পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হয় । দূর্বল দিকগুলো কাটিয়ে উঠে এবং প্রতিকূল পরিবেশকে যথাসম্ভব বাগে রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন পড়ে ।

৪. পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধান (Meeting with the changing situation) :

বর্তমান ব্যবসায় জগতে পরিবেশ-পরিস্থিতি সবসময়ই পরিবর্তনশীল। ক্রেতা বা ভোক্তাদের পছন্দ, প্রতিযোগীদের কৌশল, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় পরিস্থিতি ইত্যাদির পরিবর্তন নতুন পরিস্থিতির জন্ম দেয় । একজন ব্যবস্থাপককে এ সম্পর্কে সচেতন থেকেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে হয় ।

 

একজন ব্যবস্থাপককে কেন ব্যবসায় পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয় | পরিবেশ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

উপসংহারে বলা যায়, একজন দক্ষ ব্যবস্থাপককে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক এবং সেই সাথে সাধারণ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে সবসময়ই সচেতন থাকার প্রয়োজন পড়ে । অন্যথায় তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায় জগতে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না ।

Leave a Comment