দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা

আজকের আলোচনার বিযয় দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, অধস্তন দিয়ে কাজ করাতে গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কর্তৃত্বাপণের প্রয়োজন পড়ে । কিন্তু নিয়ম-নীতি মেনে যথার্থভাবে এই কর্তৃত্বার্পণ করা না হলে সেক্ষেত্রে নানান সমস্যা দেখা দেয় ।

এক্ষেত্রে দূর্বল কর্তৃত্বাপণ বলতে কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িতকরণে ব্যর্থতা, কর্তৃত্ব বুঝে নিতে ও তার প্রয়োগে অধস্তনদের অনাগ্রহ, কর্তৃত্ব শৃঙ্খল অনুযায়ী কর্তৃত্বার্পণ না করা ইত্যাদিকে বুঝায় । দূর্বল কর্তৃত্বাপণ যে সকল সমস্যার সৃষ্টি করে তা নিম্নরূপ:

দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা

 

দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা
দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা

 

১. কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা সৃষ্টি (Creating authoritarian mentality):

যথাযথভাবে কর্তৃত্বার্পণের ব্যর্থতার কারণে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃত্বের সাথে দায়িত্বও যে অর্পিত হয়েছে তা বুঝতে পারে না ৷ অধস্তনদেরকে আদেশ দিতে ও জবাবদিহি করতে তারা স্বচ্ছন্দবোধ করে । এতে কার্যক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয় ।

২. দায় এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি (Creating the tendency to avoid responsibility):

কর্তৃত্বার্পণে অধস্তন নির্বাহীদেরকে যদি বুঝানো না যায় যে, কর্তৃত্ব হস্তান্তরযোগ্য কিন্তু দায়িত্ব নয়, সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃত্ব হস্তান্তর করে তার দায় এড়াতে চায় । প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ আদায় করে নেয়াতে সে আন্তরিক হয় না । এতে কার্যকর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি হয় ।

৩. কর্তৃত্ব বিষয়ক অস্পষ্টতা সৃষ্টি (Creating the indistinctness of authority):

কর্তৃত্ব হস্তান্তর করা আবশ্যক এটা স্পষ্ট হলেও কোন্ পর্যায়ে কতটা কর্তৃত্ব হস্তান্তর করা প্রয়োজন, কর্তৃত্বের সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে কি না এগুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠানে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও জটিলতা সৃষ্টি হয় । এটা সুষ্ঠুভাবে সমাধা করা না গেলে অধস্তন নির্বাহীগণ কর্তৃত্ব প্রয়োগে স্বচ্ছন্দবোধ করে না । ফলে কার্যক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয় ।

 

 

৪. সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে সমস্যা (Problem in coordination and control):

কর্তৃত্বাপণের দূর্বলতার কারণে অনেক সময়ই কার্যক্ষেত্রে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী তার বিষয়টা যে ভাবে অন্যের বিষয়টা সেভাবে ভাবতে চায় না । এ ধরনের মানসিকতা সমন্বয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে । জবাবদিহিতার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কার্যক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখা দেয় ।

৫. আনুগত্য ও শৃঙ্খলায় সমস্যা (Problem in loyalty and discipline):

দূর্বল কর্তৃত্বার্পণ আনুগত্য ও শৃঙ্খলাতেও অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি করে । অযোগ্য ও অসচেতন অধস্তন নির্বাহী কর্তৃত্বলাভে অনেক সময় নিজেকে অনেক বড়ো মনে করে। ঊর্ধ্বতন যে কোন সময় কর্তৃত্ব ফিরিয়ে নিতে পারেন বা কর্তৃত্বসম্পন্ন পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে এটা বুঝতে চায় না। ফলে অবাধ্যতা ও আনুগত্যহীনতা দেখা দিতে পারে । যা শৃঙ্খলার জন্য খুবই ক্ষতিকর হয় ।

৬. দ্বৈত অধীনতার সৃষ্টি (Creating dual subordination):

কর্তৃত্বাপণ বলতে আদেশ দানের ক্ষমতা নিচের স্তরের নির্বাহীদের অর্পণ করাকে বুঝায় । এরূপ ক্ষমতা প্রদানে আদেশের ঐক্য নীতি অনুসরণ করা না হলে বা একজন কর্মীর জন্য আদেশদাতা একাধিক হলে তা দ্বৈত অধীনতার সৃষ্টি করে । এরূপ দ্বৈত অধীনতা কার্যক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয় । এতে কাজের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয় ।

 

দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা
দূর্বল কর্তৃত্বার্পণের সমস্যা

 

৭. সুস্পষ্ট কর্তৃত্ব শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠায় বাধা (Obstacle in establishing clear chain of command):

কর্তৃত্বাপণের বৈশিষ্ট্য হলো এটি ঊর্ধ্বতন নির্বাহী হতে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এতে কর্তৃত্বের স্তরীয় বিন্যাসের সৃষ্টি হয়; যা বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও ব্যক্তিবর্গকে কর্তৃত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে। কর্তৃত্বার্পণে দূর্বলতা থাকলে এক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা ও ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়। এতে কর্তৃত্বার্পণের সুফল লাভ করা যায় না 

মোটকথা একটা প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত সকল পর্যায়ে সুষ্ঠু কার্য পরিবেশ সৃষ্টিতে কর্তৃত্বাপণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এতে সকল পর্যায়ে দায়িত্বসম্পন্ন যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু এক্ষেত্রে দূর্বলতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের জনশক্তির মাঝে নানান ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় । যা কার্যক্ষেত্রে মারাত্মক ধরনের সমস্যার জন্ম দেয় । তাই এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকেই যথেষ্ট সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ।

Leave a Comment