একটি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন্ ধরনের বিভাগীয়করণ সর্বোত্তম এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। বিভাগীয়করণের কোন ভিত্তি সর্বোত্তম এক কথায় তার উত্তর দেওয়া কষ্টকর । কারণ কারবারের প্রকৃতি ও অবস্থা সর্বত্র এক নয় । বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে এ সমস্যা আরো বেশি।
অইরিক ও কুঞ্জ এ সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেই বলেছেন, “At the outset, it must be emphasized that there is no single best way of departmentizing that is applicable to all organizations of to all situations : অর্থাৎ সাধারণভাবে এটা জোরের সঙ্গেই বলে দেওয়া যায় যে, বিভাগীয়করণের ক্ষেত্রে এমন কোনো একক সর্বোত্তম পদ্ধতি নেই যা সকল প্রতিষ্ঠানে সকল অবস্থায় একইভাবে ব্যবহার করা যায় । তাই প্রতিষ্ঠানভেদে বা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরস্থ অবস্থাভেদে বিভাগীয়করণের ভিত্তি নির্দিষ্ট করা হলেই এ থেকে সবচেয়ে উত্তম ফল লাভ সম্ভব। অর্থাৎ মিশ্র পদ্ধতিই সবচেয়ে উত্তম ।
একটি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন্ ধরনের বিভাগীয়করণ সর্বোত্তম

বিভাগীয়করণের যে সকল ভিত্তি প্রতিষ্ঠানসমূহে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে কার্যভিত্তিক বিভাগীয়করণ সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠান বড় হোক বা ছোট হোক এ ধরনের বিভাগীয়করণের ভিত্তি সহজেই ব্যবহারযোগ্য । এ ছাড়া এরূপ বিভাগীয়করণ সহজবোধ্য, সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সমন্বয় সহজতর । এর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞতাও অর্জন করা যায়। কিন্তু এরূপ বিভাগীয়করণের বড় অসুবিধা হলো বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র এরূপ ভিত্তি ব্যবহার করা যায় না ।
কোনো বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর দিকে কার্যভিত্তিক বিভাগীয়করণ উত্তম হলেও উৎপাদন বিভাগে কার্যভিত্তিক বিভাগীয়করণ সুবিধাজনক হয় না। সেখানে অবস্থা অনুযায়ী দ্রব্যভিত্তিক বা প্রক্রিয়াভিত্তিক বিভাগীয়করণ উত্তম বিবেচিত হয়। আবার একই বিভাগের নিচের দিকে শ্রমিকদের সময়ভিত্তিক বা সংখ্যাভিত্তিক বিভাগীয়করণ করা যেতে পারে। বিক্রয় বিভাগের কাজে গতিশীলতা আনার জন্য প্রয়োজনে একে অঞ্চলভিত্তিক, দ্রব্যভিত্তিক বা ক্রেতাভিত্তিক বিভাগীয়করণ করা যায় ।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল স্তরে একই ধরনের বিভাগীয়করণের ভিত্তি ব্যবহার করা যায় না। তাই সেখানে উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান বৃহদায়তন কারবারি জগতে বড় ধরনের বিভাগীয়করণের ভিত্তি হিসেবে মিশ্র পদ্ধতিই সবচেয়ে উত্তম । প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ধারণা (The balance approach) থেকে মূলত এরূপ পদ্ধতির ব্যবহারের বিষয়টি অগ্রাধিকার লাভ করে থাকে।
