আজকের আলোচনার বিযয় বিকেন্দ্রীকরণের চালিকা শক্তি হিসেবে কর্তৃত্বের পুনঃকেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংগঠনের উপর থেকে নিচের দিকে ছেড়ে দেয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে । অপর পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংগঠনের উপরিপর্যায়ে কেন্দ্রীভূত করা হলে তাকে কেন্দ্রীকরণ বলে ।
সম্পূর্ণ কেন্দ্রীকরণ যেমনি নিচের দিকের জনশক্তিকে হতাশ করে, স্বৈরতন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং কাজের গতিকে হ্রাস করে তেমনি সম্পুর্ণ বিকেন্দ্রীকরণ ঊর্ধ্বতনদের কর্তৃত্ব হ্রাস, অবাধ্যতা সৃষ্টি ও সমন্বয়হীনতার জন্ম দেয় । এজন্য হেনরি ফেওল তার প্রদত্ত ১৪টি মূলনীতির মধ্যে কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণে ভারসাম্য রক্ষার সুপারিশ করেছেন। অর্থাৎ ভারসাম্যই হবে বিকেন্দ্রীকরণের মূল চালিকা শক্তি ।
বিকেন্দ্রীকরণের চালিকা শক্তি হিসেবে কর্তৃত্বের পুনঃকেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা

বিকেন্দ্রীভুত ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিচের জনশক্তিকে ছেড়ে দেয়ার পর প্রয়োজন মাফিক কিছু কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আবার উপর পর্যায়ে ফেরৎ নেয়া হলে তাকে পুনঃকেন্দ্রীকরণ বলে। অনেকে পুনঃকেন্দ্রীকরণকে বিকেন্দ্রীকরণের ঠিক উল্টা অবস্থা গণ্য করেন। কিন্তু বাস্তবে বিকেন্দ্রীভূত ক্ষমতা নানান প্রয়োজনেই উচ্চ পর্যায়ে ফিরে আসে বা অংশবিশেষ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ অবস্থাকেই পুনঃকেন্দ্রীকরণ বলা হয়ে থাকে।
Weihrich, Cannice Koontz, “Recentralization is normally not a complete reversal of decentralization, as the authority delegation is not wholly withdrawn by managers who made it.”37 অর্থাৎ পুনঃকেন্দ্রীকরণ বলতে বিকেন্দ্রীকরণের সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থা বা কর্তৃত্ব যেই ব্যবস্থাপক অর্পণ করেছিলেন তার কর্তৃক এর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার বুঝায় না ।
বর্তমানকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে আগের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হওয়ার সুযোগ কমেছে । দূরের অবস্থানকারী উর্ধ্বতনও তথ্য প্রযুক্তি সুবিধার ফলে প্রতিটা তথ্য মূহুর্তে জানতে পারছেন । তাই আগে যে অবস্থা ছিল তা আর নেই । ফলে কাজের সুবিধা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থেই এখন বিকেন্দ্রীভুত ক্ষমতার অংশবিশেষ ওপরে ফিরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে ।

এছাড়া পুনঃপ্রকৌশল (Re-engineering) বা পুনঃকাঠামোবদ্ধকরণ (Restructuring) এর কারণে সাংগঠনিক স্তর ও জনশক্তি অনেকক্ষেত্রেই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে প্রদত্ত ক্ষমতা অনেক সময় আপনা-আপনিই ওপরে ফিরে আসছে । তাই এ পর্যায়ে পুনঃকেন্দ্রীকরণও ক্ষেত্র বিশেষে আবশ্যক বিবেচিত হচ্ছে। তাই বিকেন্দ্রীকরণে ভারসাম্য যেমনি জরুরি তেমনি পুনঃকেন্দ্রীকরণও ক্ষেত্রবিশেষে বিকেন্দ্রীকরণকেই স্বার্থক করে তোলে ।
