আজকের আলোচনার বিযয় কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণের মধ্যে পার্থক্য – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তর হতে নিম্নস্তরে কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় কর্তৃত্বার্পণ ও বিকেন্দ্রীকরণ দুটো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ।
কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণের মধ্যে পার্থক্য
কর্তৃত্বাপণ: নিজে কাজ করলে যতো আস্থার সঙ্গে তার ফলাফল প্রত্যাশা করা যায় কর্তৃত্বার্পণ করে অন্যের নিকট থেকে তা সঠিকভাবে প্রত্যাশা করা যায় না । এ ছাড়া কর্তৃত্বাপণে ভুল হলে তা প্রতিষ্ঠানে নানারূপ জটিলতার সৃষ্টি করে । অথচ যে কোন প্রতিষ্ঠানেই কৰ্তৃত্বার্পণ ছাড়া সুষ্ঠুভাবে কার্য সম্পাদন সম্ভব নয় । তাই কর্তৃত্বার্পণের ক্ষেত্রে একজন ঊর্ধ্বতনকে সবসময়ই সতর্কতার সঙ্গে কতকগুলো নীতি, আদর্শ বা পূর্বশর্ত মেনে চলতে হয় ।
বিকেন্দ্রীকরণ: সহজ অর্থে বিকেন্দ্রীকরণ বলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তর থেকে নিচের স্তরে অর্পণ করাকে বুঝায় । যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই সিদ্ধান্ত কে নেবেন বা সংগঠনের কোন্ স্তরে কোন্ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার থাকবে তা সকল প্রতিষ্ঠানে পূর্ব হতেই নির্ধারিত থাকতে হয় । যদি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আদেশ দান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সংগঠনের নিম্নস্তরে ধারাবাহিকভাবে বা পর্যায়ক্রমে অর্পণ করা হয় তবে তাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে। মূলত কেন্দ্রীকরণের বিপরীত অবস্থাই হলো বিকেন্দ্রীকরণ ।
উভয়কে অনেকে সমার্থক বলেও গণ্য করেন। অবশ্য বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে এর সঙ্গে কর্তৃত্বার্পণও ঘটে । নিম্নে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ তুলে ধরা হলো :


উপরোক্ত পার্থক্য হতে প্রতীয়মান হয় যে, বিকেন্দ্রীকরণ ও কর্তৃত্বার্পণের ক্ষেত্রে ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের নিচের স্তরে প্রদান করা হয় । তবে কর্তৃত্বাপণ করা হলেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে না কিন্তু বিকেন্দ্রীকরণের বেলায় আপনা-আপনি কর্তৃত্বার্পণ ঘটে থাকে । তাই এদের পার্থক্য সম্পর্কে Weinrich ও Koontz বলেছেন, “Decentralization implies more than delegation. It reflects a philosophy of organization and management “29 অর্থাৎ বিকেন্দ্রীকরণ কর্তৃত্বার্পণের চেয়ে ব্যাপক। এর দ্বারা সংগঠন ও তার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত দর্শনের প্রতিফলন ঘটে ।
