আজকের আলোচনার বিযয় বিকেন্দ্রীকরণের সুবিধা – যা কর্তৃত্বাপণ ও বিকেন্দ্রীকরণ এর অর্ন্তভুক্ত, বর্তমান বৃহদায়তন ব্যবসায় জগতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত অপরিহার্য বিষয়। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের পরিসর যতই বাড়ে কাজের সুবিধার্থেই উচ্চ নির্বাহীগণকে তাদের ক্ষমতার অংশবিশেষ নিচের নির্বাহীদের ওপরে ছেড়ে দেন । কাজের ক্ষেত্রে বিশেষায়ণ, অধস্তনদের মানোন্নয়ন ইত্যাদি কারণেও আজকে কেন্দ্রীকরণের বিকেন্দ্রীকরণই লাভজনক বিবেচিত হচ্ছে । নিম্নে বিকেন্দ্রীকরণের সুবিধাসমূহ আলোচনা করা হলো: চেয়ে
Table of Contents
বিকেন্দ্রীকরণের সুবিধা

১. উচ্চনির্বাহীর কর্মভার লাঘব (Reducing workload of the top executive) :
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আদেশ দান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অধস্তন নির্বাহীদের কাছে হস্তান্তরিত হয়। ফলে উচ্চনির্বাহীর কাজের চাপ কমে। এতে উচ্চনির্বাহী সংগঠনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অধির মনোযোগ দিতে পারেন; যা প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক লাভজনক হয় ।
২. সিদ্ধান্তের মানোন্নয়ন (Development of the quality of decision) :
সিদ্ধান্তের মান নির্ভর করে বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় যথাসময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারার ওপর । বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব অধস্তন নির্বাহীদের ওপর অর্পণ করা হয়; যারা কর্মকেন্দ্র (Working centre)-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে । এতে বাস্তব অবস্থার আলোকে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় ।
৩. নেতৃত্ব সৃষ্টি (Building-up leadership) :
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে অধস্তন নির্বাহীদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য, কর্তব্যবোধ ও জবাবদিহির মানসিকতা সৃষ্টি হয় । সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহীগণ যে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ লাভ করেন তাও ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দানের উপযোগী করে তোলে । এভাবে প্রতিষ্ঠানে একদল যোগ্য নেতা গড়ে ওঠে।
৪. মনোবল উন্নয়ন (Boosting the morale ) :
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে প্রতিষ্ঠানে অধস্তনদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় । এক্ষেত্রে অধস্তনরা শুধুমাত্র ‘হুকুমের দাস’ হিসেবে গণ্য হয় না বরং প্রয়োজনীয় বিষয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । ফলে কাজের সঙ্গে তারা অধিক সম্পৃক্ততা বোধ করে ও তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। এতে তাদের মনোবলও উন্নত হয় ।
৫. দলীয় প্রচেষ্টা জোরদার (Emphasizing team spirit) :
বিকেন্দ্রীকরণ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ সৃষ্টিকে উৎসাহিত করে । এর ফলে কার্যক্ষেত্রে বিশেষায়ণের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে একটি পরস্পর নির্ভরশীলতার সম্পর্ক জন্ম নেয়। এতে প্রত্যেক বিভাগই অন্যের সঙ্গে মিলে সমান তালে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । এতে প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রচেষ্টা জোরদার হয়।
৬. কাজের সম্প্রসারণ (Expansion of work) :
বিকেন্দ্রীকরণ প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করে। এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নিচের দিকের নির্বাহীদের হাতে অনেকাংশে ছেড়ে দেয়ার কারণে উচ্চনির্বাহী অনেকটা কর্মভারমুক্ত থাকেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের বিষয়ে অধিক নজর দেয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় । এ ছাড়া যেকোনো সময় নতুন বিভাগ খুলে তার দায়ভার নতুন নির্বাহীর ওপর অর্পণ করা যায় ।

৭. কার্যকর নিয়ন্ত্রণ (Effective control) :
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় বিষয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায় । এতে একদিকে যেমনি বিভাগসমূহে স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যদিকে উচ্চনির্বাহীগণও প্রত্যেক বিভাগের কাজ পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেন । এতে সর্বক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ।
উপরোক্ত সুবিধাবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আধুনিক ব্যবস্থাপনা দর্শনে বিকেন্দ্রীকরণ একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে গণ্য। ১৯৭৯ সালের Dun’s Review-এ বর্ণনা করা হয়েছে আমেরিকার অন্যতম পাঁচটি কোম্পানি যাদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে; যেমন-American Broadcasting Company. Digital Equipment Company. Union Pacific Corporation, Revlon Incorporation & Raytheon Company, এটা তারা অর্জন করতে পেরেছে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমেই ।
