বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ

বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, অধ্যায় ২ [Chapter 2] পাঠ।

 

বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ

 

বিনিয়োগ (Investment) হলো সঞ্চিত অর্থ অন্য কোনো মাধ্যমে রেখে নতুন মূলধন সৃষ্টি। বিনিয়োগ কি বা বিনিয়োগ কাকে বলে এই প্রশ্নের উত্তরে অন্য কথায় বলা যায় বিনিয়োগ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে উচ্চ লভ্যাংশ পাওয়া সম্ভব।

 

বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ

 

 

আপনার সঞ্চয় তখনই বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে যখন একটি নির্দিষ্ট সময় পরে আপনার সঞ্চিত অর্থ থেকে কিছুটা বেশি অর্থ পাবেন। বিনিয়োগকৃত অর্থ আপনি Emergency Fund (জরুরী তহবিল) কিংবা Retirement Corpus হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন অথবা এই অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনতে পারেন, গাড়ি কিনতে পারেন, সন্তানের লেখারপড়ার খরচ চালাতে পারেন ইত্যাদি।

যদি আপনার কাছে বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, তাহলে আপনি Leverage করতে পারেন। Leverage হলো একটি বিনিয়োগ কৌশল। কারও থেকে অর্থ ধার নিয়ে কোনো আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে লভ্যাংশের পরিমাণ করার প্রক্রিয়াই হলো Leverage. যদিও সময়ের সাথে মানুষের কাছে বিনিয়োগের ধারণা বদলে যাচ্ছে, তবে বিনিয়োগ উদ্দেশ্য সবসময়ই একই আছে।

আপনি হয়তো মাস শেষে আপনার বেতন পান এবং এই টাকা থেকে আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে চলার জন্য বিভিন্ন খাতে অর্থ খরচ করেন। আপনি আপনার বেতন থেকে যদি কিছু অংশ আলাদা করে রাখেন, তাহলে এটিই হবে আপনার সঞ্চিত অর্থ। আপনি যদি এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা সঞ্চয় করেন, তাহলে বছর শেষে ১ লাখ ২০ হাজার সঞ্চয় করতে পারবেন।

 

স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগ ও দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ

স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ বা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ:

স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ শব্দ থেকেই এর হালকা একটি ধারণা পাওয়া যায়। অল্প সময়ের জন্য যে খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তাকেই স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ বলে (Short Term Investment)। স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ মূলত ৩ বছরের কম অবধি মেয়াদের হয়। এই খাতে বিনিয়োগ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, সেই কারণেই স্বল্পমেয়াদের বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন অনেকে।

স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের কয়েকটি খাত:

  • মিউচুয়াল বন্ড
  • সরকারি বন্ড
  • স্বল্পমেয়াদী আমানত
  • শেয়ার
  • ট্রেজরি বিল

 

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ:

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ স্বল্প-মেয়াদী বিনিয়োগ থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। স্বল্প-মেয়াদী বিনিয়োগকৃত সম্পদ সম্ভবত বিক্রি করা হবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগগুলি বছরের পর বছর বিক্রি হবে না এবং কিছু ক্ষেত্রে কখনও বিক্রি করা যাবে না।

যেই বিনিয়োগগুলিতে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পার করার পর বিনিয়োগ করার অর্থের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের রিটার্ন পাওয়া যায়, সেগুলিই লং টার্ম বা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ (Long Term Investment)। ন্যূনতম ৫ বছরের হয় এই বিনিয়োগ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সর্বাধিক ২৫ বছর অবধি বিনিয়োগ করা যায়। এই বিনিয়োগের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এই বিনিয়োগে সুদের হার স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়। সেই কারণে মেয়াদ শেষের পর তুলনামূলকভাবে বেশি টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবে এই বিনিয়োগের ঝুঁকিও রয়েছে বেশ কিছু।

একদিকে যেমন মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজন পড়লেও, আগে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পূরণ হওয়ার পরে টাকা তুলতে দেওয়া হলেও, সেক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লগ্নিকারী সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে শেয়ারে পতনের কারণে বিনিয়োগ করা অর্থ ডুবে যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কয়েকটি খাত:

  • স্টক
  • বন্ড
  • রিয়েল এস্টেট

 

 

বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ এর বিষয়বস্তুঃ

 

 

Leave a Comment