মূলধন যোগান বা সঞ্চয়ের হার ক্লাসটি পলিটেকনিকের ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ (৬৫৮৫৩) / উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগ (৬৫৮৫৩) (Innovation & Entrepreneurship, 65853) বিষয়ের, পাঠ।
মূলধন যোগান বা সঞ্চয়ের হার
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুণক হলো মূলধন যোগান। মূলধন ব্যতিরেকে বিনিয়োগ হয় না। আমরা মূলধন যোগান বলতে মূলধন সংগ্রহ বুঝে থাকি। সঞ্চয়ের হার বলতে কী হারে সঞ্চয় হচ্ছে তা বুঝায়। মূলধন যোগানের উদ হলো দুটি, যথা- অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বৈদেশিক উৎস। অভ্যন্তরীণ উৎস বলতে দেশীয় সঞ্চয় ও ব্যাংক কর্তৃক ঋণ হনন করাকে বুঝায়। বৈদেশিক উৎস বলতে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকে বুঝায়।

উদ্যোক্তাকে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন তার নিজস্ব ও ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে হয়। কোনো কোনো বিনিয়োগে যদি মূলধনের পরিমাণ বেশি হয় তাহলে নিজস্ব সঞ্চয় হতে যোগান দেয়া সম্ভব হয় না। এমন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাকে অন্যান্য বিনিয়োগকারীর সহযোগিতায় মূলধন সংগ্রহ করতে হয়। তাহলে একজনের স্থানে কয়েকজন লোক একত্রে মিলে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, এদেরকে প্রবর্তক’ বলা হয়। তারা নতুন কোম্পানি গড়ে তুলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। আর এভাবে বড় পরিমাণের মূলধন যোগান সম্ভব হয়।
মোটকথা, যৌগ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছোট ছোট সঞ্চয় একত্রিত করে বড় মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে অধিক উৎপাদন করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা এবং সর্বোপরি দেশের সার্বিক উন্নয়ন অর্জন করা।
কার্ল মার্ক্সের (Karl Marx) মতে, পুঁজিপতিদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাঁদের প্রাপ্য উদ্বৃত্ত মূল্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। তাঁর মতে, উদ্বৃত্ত মূল্যের (Surplus value) পরিমাণ বাড়ানোর জন্য পুঁজিপতিরা বেশি করে সঞ্চয় করে এবং উৎপাদনে নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ হয় এবং ফলশ্রুতিতে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আসে ও দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়।
পরিকল্পিত অর্থনীতিতে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য দেশের সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, মানব সম্পদ ও আর্থিক সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহারের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। উন্নয়নশীল দেশে মূলধনের পরিমাণ অপ্রতুল হওয়ায় সরকারের প্রয়োজনীয় খাতে মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানুষ সঞ্চয় করে কেন? মানুষ সঞ্চয় করে- (১) অনেক মানুষের সঞ্চয় করার প্রবণতা থাকে, (২) অনিশ্চিত
ভবিষ্যতের জন্য, (৩) বার্ধক্যকালীন সময়ের প্রয়োজন মেটানোর জন্য, (৪) আপদ-বিপদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য, (৫)
জিনিসপত্র কিংবা জমিজমা ক্রয়ের জন্য, (৬) সঞ্চয় যখন লাভজনক বিনিয়োগ বলে বিবেচিত হয়।
আধুনিক অর্থনীতিবিদগণের মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাঁরা মনে
করেন, মূলধন যোগানোর হার সরাসরিভাবে সঞ্চয়ের হারের সাথে সম্পর্কিত। তাঁদের মতে, সঞ্চয়ের হার সাধারণত দুটি
গুণকের উপর নির্ভর করে, যেমন- (১) আয়ের স্তরের উপর ও (২) ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত সুদের হারের উপর। মূলধন যোগানের অন্যতম পদ্ধতি হলো সঞ্চয়। সঞ্চয় প্রকৃতপক্ষে নির্ভর করে সঞ্চয়ের ইচ্ছা, আয়ের স্তর ও সফা বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়ের হারের উপর। উদ্যোক্তা কর্তৃক সঞ্চয়ের লাভজনক বিনিয়োগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের হার বৃদ্ধির পূর্বশর্ত। এতে করে কেবলমাত্র জনগণের আয়ের স্তরকে বাড়ায় না, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়।
যোগান ভিত্তিক উপাদান এর বিষয়বস্তুঃ
