ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণের ভূমিকা

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণের ভূমিকা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। কোনো পৃথক সত্তাবিশিষ্ট অংশগুলোকে এতখানি সমন্বিত করা যার ফলে প্রত্যেক অংশের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সামগ্রিক (Whole) কোনো কিছুর সৃষ্টি হয় । শিশুরা যেমন কতগুলো প্লাস্টিকের বিল্ডিং তৈরির উপযোগী ছোট ছোট অংশকে একত্রে জুড়ে দিয়ে খেলনা বাড়ি তৈরি করে, একজন সংগঠকও তেমনি বিভিন্ন উপায়-উপকরণকে একত্রিত করে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে ।

খেলনার ছোট ছোট অংশ হতে কার্যত কোনো কিছুই অনুমান করা যায় না, কিন্তু যখন এগুলোকে একত্রে জুড়ে দিয়ে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, তখনই তা একটা বাড়ির রূপ ধারণ করে। ঠিক একইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে উপায়-উপকরণ যা থাকে তা আলাদাভাবে কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না ।

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণের ভূমিকা

 

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণের ভূমিকা | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

যখন এগুলোকে কাজ অনুযায়ী আলাদা ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক কাজের জন্য উপায়-উপকরণ নির্দিষ্ট করা হয় এবং এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের দায়-দায়িত্ব ও তাদের মধ্যকার সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় তখন তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য উপযোগী হয়ে যায় । তাই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজকে বিভাজন এবং কাজ অনুযায়ী উপায়-উপকরণকে সংহত করে তাদের মধ্যে সম্পর্ক নির্দিষ্ট করার কাজকেই সংগঠন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে ।

 

অর্থনীতিতে সংগঠনকে উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয় । মনে করা হয় ভূমি, শ্রম ও মূলধন থাকলেই উৎপাদন হয় না। এগুলোকে সঠিকভাবে সংহত করে কাজে লাগানোর প্রচেষ্টাকেই সেখানে সংগঠন নামে অভিহিত করা হয়। George R. Terry ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এরূপ উপকরণসমূহকে ও ‘M’ (Men, Machine, Materials, Money, Market & Method) নামে অভিহিত করেছেন । অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের কাজকে সঠিকভাবে বিন্যস্ত করে তার আলোকে এ সকল উপায়-উপকরণকে কার্যকরভাবে সংহত ও সমন্বিত করার কাজকে তাই সংগঠন নামে অভিহিত করা যায় ।

কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানের ওপর হতে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ, ব্যক্তি বা কাজের মধ্যকার সম্পর্ক নির্দেশকে সংগঠন বলতে চেয়েছেন। কেউ কেউ সংগঠন বলতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর বিভাগকেও বুঝিয়ে থাকেন। কার্যত এ সকল ধারণার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

 

ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণের ভূমিকা | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

কারণ প্রতিষ্ঠানের ওপর হতে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে বা পদে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতেই একটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্ণীত হয় । এর মধ্য দিয়ে কাজ, দায়-দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা বোঝা যায় । তাই কাজ ও উপায়-উপকরণকে বিন্যস্ত, সংহত ও সমন্বিত করার প্রক্রিয়াকেই সংগঠন বলা হয়ে থাকে ।

Leave a Comment