সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা

সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সিদ্ধান্ত গ্রহণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। পুরো কাঠামোবদ্ধ নয় এমন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারকেই সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা (DSS) বলে । সাধারণভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর বিচার ক্ষমতা, প্রজ্ঞা বা দূরদৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।

সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা

 

সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিভিন্ন উৎস থেকে বিশ্লেষণে কম্পিউটার প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হয় । কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর বিচার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তার বিচার-বুদ্ধির প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন । এক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ক্ষমতার উপরই নির্ভর করে ।

সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও এর ব্যবহার সহজ হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবস্থাপকদের অনুমান নির্ভরতা যেমনি কমেছে একই সাথে দ্রুত তথ্য প্রাপ্তির কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সহজ হয়েছে । তাই কম্পিউটার নির্ভর বর্তমানে বিভিন্ন মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটার এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় তথ্য সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা DSS সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা

 

হিসেবে কাজ করছে । তবে ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থায় মাইক্রো কম্পিউটার পরিচালনার মতো কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ সেখানে কাজ করে । সেক্ষেত্রে তথ্য ব্যবস্থা শুধু তথ্যই দেয় না ক্ষেত্রবিশেষে করণীয়ও নিদের্শ করে থাকে। ত ব্যবস্থাপকের নিজস্ব চিন্তা ও বিচার-বুদ্ধির আবশ্যকতা সেখানে গৌণ হয়ে যায়।

MIS এর প্রয়োজন কাঠামোবদ্ধ ও নিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । যেমন- কাঁচামালের ফরমায়েশ দিতে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য কম্পিউটারে রয়েছে । প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে তাকে আপগ্রেড করা হচ্ছে । তাই নির্দিষ্ট সপ্তাহে কাঁচামালের ফরমায়েশ কত দিতে হবে তা MIS থেকে সঠিক তথ্য বা সিদ্ধান্ত লাভ সম্ভব ।

কিন্তু পুরো কাঠামোবদ্ধ নয়, তথ্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা যায় না এমন অনিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর বিচার শক্তি ও প্রজ্ঞা মুখা ভূমিকা রাখে । সেক্ষেত্রে DSS প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে সহায়তা প্রদান করে থাকে।

 

সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

মূলত এরূপ তথ্য যাতে দ্রুততার সাথে সহজ, সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় এজন্য বিজ্ঞি সফটওয়্যারের উদ্ভব ঘটেছে। এরূপ সফটওয়্যারের ব্যবহার করে একজন ব্যবস্থাপক নিজে বা সহযোগীর সহায়তা নিয়ে মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহার করেই তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পারে । ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার বিচার বুদ্ধির কার্যকর ও দ্রুততর ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে থাকে । 

Leave a Comment