সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি

সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সিদ্ধান্ত গ্রহণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য সকল কাজ সম্পাদিত হয়। তাই গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্ভুল, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া আবশ্যক । সিদ্ধান্তকে ভুল-ত্রুটিমুক্ত ও বাস্তবায়ন উপযোগী করার জন্য যাচাই বা পরীক্ষা করে প্রয়োজন পড়ে । সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে করে অবদান রাখবে তা মূল্যায়ন করা হয়।

সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি

 

সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

সিদ্ধান্তের সঠিকতা মূলত ব্যবস্থাপকের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, বিচারক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, সুসংবদ্ধ জ্ঞান ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। এসব সত্ত্বেও কোনো সিদ্ধান্ত একবার গৃহীত হওয়ার পর তা যাচাই করার নানাবিধ কৌশল বা পদ্ধতি রয়েছে। নিম্নে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের ফল কৌশলগুলো আলোচনা করা হলো :

১. বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য পুনঃপরীক্ষা (Re-examine the analysis and evidence) :

অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর মনস্তাত্ত্বিক ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিশেষ করে অ-কর্মসূচিভিত্তিক সিদ্ধান্তই এভাবে গৃহীত হয়ে থাকে । এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা যাচাইকরণের পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ :

ক) অন্যের মতামত শোনা (Listen to devil’s advocate) :

এ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সমস্যা সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করে তার নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার দায়িত্ব অন্যের ওপর অর্পণ করে । দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সিদ্ধান্তের ভুল-ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে এবং মতামত দেয় । অতঃপর সেসব মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন করা হয় ।

 

খ) সিদ্ধান্তকে বিশদ পরিকল্পনায় রূপান্তর (Project a decision into detailed plan )

বিশদভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের কোনো প্রকার দুর্বলতা বা ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ণয় করা যায়। বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দ্বারা সিদ্ধান্তের কোনো মারাত্মক ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে সিদ্ধান্তকে সংশোধন কিংবা বাতিল করা হয়ে থাকে। সিদ্ধান্তকে

গ) অনুমানের পুনর্বিবেচনা (Re-consideration of assumptions) :

সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কারে ভবিষ্যতের যেসব সিদ্ধান্ত আঙিনা (Decision premises) বিবেচনা করা হয় সেগুলো হলো সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত অনুমান। ভবিষ্যৎ চাহিদা, কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য ইত্যাদি নানান অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থাপক সিদ্ধান্ত নেয়। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুমিত তথ্যগুলো ব্যবস্থাপক পুনর্বিবেচনা করে দেখেন । এতে সিদ্ধান্তের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম হয় ।

২.ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত (Consensus basis decisions) :

ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল অংশগ্রহণকারীর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্ত রূপরেখায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিমার্জন সাধন করতে হয় এবং যেখানে সকল সদস্য সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সম্মত হয় সেখানেই সিদ্ধান্ত স্থির করতে হয়। সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার এটি একটি পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা । সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কালে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে প্রয়োজনে সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে সংশোধন আনার প্রয়োজন পড়ে।

৩. অগ্রগামী পরিচালনা (Pilot runs) :

সিদ্ধান্তের সঠিকতা বা ফলপ্রদতা পরিমাপের একটি পরীক্ষামূলক ও কার্যকর পদ্ধতি হলো অগ্রগামী পরিচালনা। এ পদ্ধতিতে প্রথমে সিদ্ধান্তকে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় । অতঃপর সফলতা দেখা দিলে সিদ্ধান্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এ পরীক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ বিধায় বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের মূল্যায়নে এ পদ্ধতির প্রয়োগ সম্ভবপর ।

 

সিদ্ধান্ত যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি | সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৪. অনুক্রমিক সিদ্ধান্ত (Sequential decision) :

সিদ্ধান্তকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক সময় বিস্তৃত পরিসরে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় । গোটা সিদ্ধান্তকে কয়েকটি ধারাবাহিক পর্যায়ে বিভক্ত করে একটিকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করার পর অন্যটিকে গ্রহণ করা হয়। এভাবে ধারাবাহিকভাবে পুরো সিদ্ধান্তের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয় । পরিশেষে বলা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঠিক ভিত্তি নির্বাচন ও বিভিন্ন সংখ্যাত্মক ও আচরণগত কৌশলের

প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করলে এবং সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় আনলে গৃহীত পরিকল্পনা কার্যকর ও সফল হয়ে থাকে। এরপরেও গৃহীত সিদ্ধান্তের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য উপরোক্ত কৌশল বা পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে একজন নির্বাহী সিদ্ধান্তের সাফল্যের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারেন ।

Leave a Comment