আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকসমূহ।
Table of Contents
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকসমূহ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়াদি অবশ্য প্রয়োজনীয় তাদেরকে (ক) মানবীয় ও (খ) অমানবীয় দিক- এ দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। নিম্নে এদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল-
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার দিকসমূহ মানবীয় দিক:
১। কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ
২। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন
৩। প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা
৪ । সময় নিরীক্ষণ
৫ । গতি নিরীক্ষণ
৬। শ্রান্তি নিরীক্ষণ
৭। সৌহার্দ্যপূর্ণ শ্রমিক ব্যবস্থাপনা
সম্পর্ক উন্নয়ন
অ-মানবীয় দিক
১। সর্বোত্তম কার্যপদ্ধতি
২। উন্নত মানের কাঁচামাল
৩। সঠিক মানের যন্ত্রপাতি
৪ । কার্যভিত্তিক কর্তব্য বণ্টন
৫। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা
৬। সুষ্ঠু কারখানা পরিবেশ
(ক) মানবীয় দিক (Human Aspects) :
১। কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ :
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ততার ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ করা হয়। এ উদ্দেশ্য প্রথমে কার্য বিবরণ প্রস্তুত করা হয় এবং প্রত্যেক কার্যের জন্যে দক্ষতা, শিক্ষা, মানসিক ও শারীরিক উপযুক্ততা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় গুণাগুণ ও সামর্থ্যের বিচার করা হয় এবং এগুলোর ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা হয় ।
২। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন : বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে শ্রমিক-কর্মী নির্বাচনের পর কার্য সম্পাদন বিষয়ে শ্রমিক-কর্মীদের
প্রশিক্ষণ ও পথনির্দেশনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৩। প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা :
শ্রমিক কারখানায় তার কায়িক শ্রম বিক্রয় করে অর্থের জন্য। বস্তুত শ্রমিক হচ্ছে কারখানার প্রাণবিন্দু । অতএব তাদেরকে কাজে উৎসাহদানের জন্যে উত্তম মজুরি প্রদান প্রথা চালু করতে হবে।
৪। সময় নিরীক্ষণ ঃ
এ ব্যবস্থায় কোন নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে একজন শ্রমিক-কর্মীর কি পরিমাণ সময় লাগে তাঅভিনিবেশ সহকারেপর্যবেক্ষণপূর্বক নির্দিষ্ট কার্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়।
৫। গতি নিরীক্ষণ ঃ
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকটি কার্য সম্পাদন করার সময় প্রয়োজনীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চালনার হিসেব রাখা হয় । কেননা কম সময়ে ও কম নড়াচড়ায় বেশি কার্য সম্পাদনই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ।
(খ) অ-মানবীয় দিকসমূহ (Non- human Aspects) :
১। সর্বোত্তম কার্যপদ্ধতি ঃ
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে যে পদ্ধতিতে কাজ করলে স্বল্পতম সম পরিশ্রম ও খরচে সর্বাধিক ফল লাভ সম্ভব তাই সর্বোত্তম কার্যপদ্ধতি বলে বিবেচিত।
২। উন্নতমানের কাঁচামাল :
কাঁচামালের গুণাগুণের উপরই উৎপাদিত পণ্যের উৎকৃষ্টতা বা নিকৃষ্টতা নির্ভর করে।বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেকটি পণ্যের জন্যে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করা হয়।
৩। সঠিক মানের যন্ত্রপাতি ঃ
নিম্নমানের বা গোলযোগপূর্ণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে শ্রমিক দক্ষ হলেও উৎপাদন ক্ষমতা আশানুরূপ হয় না। তাই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রতি জোর দেয়। ৪। কার্যভিত্তিক কর্তব্য বণ্টন : সমগ্র কার্যকে ক্রিয়াভিত্তিক বিভাগীয়করণ ও কর্তব্য বণ্টন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার আরেকটি মূল তত্ত্ব। এই ব্যবস্থাপনায় কার্য বিভাজন (Division of work) এবং ক্ষমতা অর্পণ সম্পূর্ণভাবে কার্য প্রকৃতি ও কৌশলের উপর নির্ভরশীল।
৫। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা :
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা বিভাগ থাকে, যা সমগ্র ব্যবস্থাপনার মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারণসহ এই বিভাগ বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এবং তথ্যাদি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে থাকে ।
৬। সুষ্ঠু কারখানা পরিবেশ ঃ
বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, উৎপাদন ক্ষমতা শ্রমিক-কর্মীর দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। সুস্থ কারখানা পরিবেশের উপর শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও দক্ষতা নির্ভর করে, যা উৎপাদন দক্ষতা অর্জনে সহায়ক।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সফল প্রয়োগ উপরোক্ত মানবীয় ও অ-মানবীয় দিকগুলোর উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

