বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়  বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ  ।যা ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।

 বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ

 

 বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ

 

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা শিল্প শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। নিম্নে এর সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল-

১। অধিক উৎপাদন ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অধীনে প্রত্যেক শ্রমিককর্মী যোগ্যতার মাপকাঠিতে নিযুক্ত হয় এবং পর্যায়ক্রমে তাদের সম্পাদিত কাজের মূল্যায়ন করা হয়। এতে শ্রমিকদের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা অধিক উৎপাদন করতে পারে।

২। উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট মানের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ব্যবহার করতে হয়। অতএব উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ব্যবহার করলে উৎপাদিত পণ্যের মানও যে উন্নত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

৩। স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের ফলে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপক উভয় পক্ষেরই স্বেচ্ছাচারিতা
দূরীভূত হয়। কারণ এটি নীতি ও সত্যকে অনুসন্ধান করে ।

৪। ভুল-ভ্রান্তি ও অপচয় হ্রাস ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অধীনে প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মীর কার্য সূক্ষ্ম তত্ত্বাবধানে রাখা হয়যাতে ভুলত্রুটি, দুর্ঘটনা, অবহেলা, অবাঞ্ছিত ঘুরেফেরা ও অনিয়ম ইত্যাদি ঘটতে না পারে। ৫। কারখানার সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা সংগঠনের যন্ত্রপাতি ও অফিস বিন্যাস, রুটিন, সিডিউলিং, ক্রয়, মজুদ, গুদামজাতকরণ, হিসাবনিকাশ ইত্যাদি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করে।

৬। ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা সময়মাফিক নির্দেশনা, অবিরত তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যের নৈকট্য এবং পুরস্কার বা শাস্তি প্রদানের তড়িৎ ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে।

৭। শ্রমিক মালিকের যৌথ কল্যাণ ঃ

এ ব্যবস্থার অধীনে শ্রমিকদেরকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হয়। যাতে তারা কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে বর্ধিত হারে মজুরি পেতে পারে। অন্যদিকে এ বর্ধিত উৎপাদন হতে মালিকপক্ষও অধিক মুনাফা লাভ করতে পারে।

৮। প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের বিলোপ :

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাধীনে আদেশদাতার একক কর্তৃত্ব থাকে না। এক্ষেত্রে যদি রীতিসিদ্ধ (Formal) আদেশ প্রদান করা হয় তা হলে আদেশদাতাকে প্রভু ও আদেশ গ্রহীতাকে চাকর বলে মনে করা যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণ আদেশদাতা নিজেও মূলত একজন কর্মী মাত্র।

৯। সহজ কার্যপদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রণের সুবিধা ঃ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক শ্রমিক আগামীকাল কোন কাজ কীভাবে ও কোন বিশেষ পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে হবে তা আগেই জানতে পারে ।

১০। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের উন্নয়ন ঃ

এ ব্যবস্থাপনার প্রতি শ্রমিকদের ও শ্রমিকদের প্রতি ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। তারা পরস্পর পরস্পরকে বন্ধু বলে মনে করে। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নতির জন্যে শ্রমিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সুসম্পর্কের উপস্থিতি একান্তই অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, শ্রমিক-কর্মী ও ব্যবস্থাপনার সকল স্তরে মানসিক বিপ্লবের মাধ্যমে উপরোক্ত সুবিধাদি অর্জন সম্ভব ।

 বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ

Leave a Comment