ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্ব ও Y তত্ত্ব

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্ব ও Y তত্ত্ব।

 

ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্ব ও Y তত্ত্ব

 

ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্ব ও Y তত্ত্ব

 

 

ডগলাস এম, ম্যাকগ্রেগরের মতে, একজন ব্যবস্থাপক তার অধঃস্তন কর্মচারীদের কি উপায়ে প্রেষণা দান করবেন তা নির্ভর করে কর্মীদের আচরণ ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের প্রতি ঐ ব্যবস্থাপকের মনোভাবের উপর। এ ধারণার উপর ভিত্তি করে ম্যাকগ্রেগর দুটি তত্ত্বের অবতারণা করেন। এগুলো X তত্ত্ব এবং Y তত্ত্ব নামে পরিচিত। নিম্নে ম্যাকগ্রেগরের তত্ত্ব দুটির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-

(ক) X তত্ত্ব (Theory X) এ তত্ত্বানুযায়ী মনে করা হয় :

১। অধিকাংশ মানুষ কাজ অপছন্দ করে এবং যথাসম্ভব কাজ এড়িয়ে চলতে চায় । সাধারণভাবে মানুষ নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।
৩। মানুষ অলস ও পরিবর্তনে অনুৎসাহী মনোভাব পোষণ করে।
৪। কঠোর নিয়ন্ত্রণ, শক্তির প্রয়োগ ও ভীতি প্রদর্শনের দ্বারা মানুষকে কাজ করাতে হয়।

৫। ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব হলো কর্মীদের উপর নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার করে জোরপূর্বক তাদের মাধ্যমে কাজ আদায় করা।

(খ) Y তত্ত্ব (Theory Y) : এই তত্ত্বের মূল ধারণাসমূহ নিম্নরূপ—

১। মানুষ কাজকে খেলাধুলা অথবা বিশ্রামের মতোই সহজ ও স্বাভাবিকভাবে আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে।
২। প্রকৃতিগত মানুষ অলস নয়। বরং কার্যের অনুপযুক্ত পরিবেশ তার মধ্যে অলসতার ভাব আনতে পারে। যেমন একই কাজ তৃপ্তিদায়ক অথবা বিরক্তিকর হতে পারে শুধুমাত্র কার্যের পরিবেশের ভিন্নতার উপর ।

৩। কোনরূপ বল প্রয়োগ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্ব-উদ্যোগে ও স্বনিয়ন্ত্রিভাবে মানুষ অর্পিত দায়িত্ব পালনে আগ্রহী থাকে।
৪। মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, দায়িত্বশীলতা ও সম্ভবনা আছে, যা সে উপযুক্ত পরিবেশে কর্ম সম্পাদন কালে ব্যবহার করতে ইচ্ছুক থাকে।
৫। ব্যবস্থাপকের কাজ হলো কর্মীদের মধ্যে সম্ভাবনার সৃষ্টি করা এবং লক্ষ্যার্জনে তা ব্যবহার করতে সহায়তা প্রদান করা ।

 

“Z” তত্ত্ব (Theory Z) :

১৯৮১ সালে জাপানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ William G. Owhi এ তত্ত্বের প্রবর্তন করেন। Z তত্ত্বে তিনি বলেন যে কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপনার আচরণ হবে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের অনুকূল ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের তুলনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্তরোত্তর সাফল্যের কারণ অনুসন্ধান কালে প্রফেসর অচি এ তত্ত্ব দেন। তার মতে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের জন্য এমন একটি স্থিতিশীল দলীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে করে একই সাথে কর্মচারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের চাহিদাগুলো পূরণ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও অর্জিত হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই অধিক মানবিক আচরণের নীতি গ্রহণ করতে হবে।
Z তত্ত্বের বৈশিষ্ট্যগুলো হল-

১। দীর্ঘকালীন চাকরির স্থায়িত্ব

২। অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ
৩। একক দায়িত্ব
৪। সমগ্র দলের জন্য সহমর্মিতা বোধ
৫। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ৬। ধীরগতির পদোন্নতি
৭। Nonspecialized careers ইত্যাদি ।

 

ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্ব ও Y তত্ত্ব

Leave a Comment