সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য

সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন” বিষয়ক পাঠের অংশ। বৃহদায়তন ও জটিল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য সরলরৈখিক সংগঠন খুব উপযুক্ত নয় । তথাপি প্রাচীনতম সংগঠন পদ্ধতি হিসেবে এরূপ সংগঠন কাঠামো এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যার ফলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন কাঠামো হিসেবেই বিবেচিত । নিম্নে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো :

সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য

 

সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য | সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. সরল ও সহজবোধ্য সংগঠন (Simple and easily comprehend organization) :

সরলরৈখিক সংগঠন একটি সরল ও সহজবোধ্য সংগঠন। এরূপ কাঠামোতে প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নিচে পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ও বিভাগের অবস্থান, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় । এ ছাড়া এরূপ সংগঠনে সহযোগী বা পদস্থ কর্মী (Staff assistant) না থাকায় কার্যক্ষেত্রে কোনো জটিলতা থাকে না ।

২. কর্তৃত্বের প্রবাহ (Flow of authority) :

এ ধরনের সংগঠন কাঠামোতে কর্তৃত্বরেখা উপর থেকে নিচের দিকে আড়াআড়ি বা সরলরেখার আকারে নেমে আসে । এতে কর্তৃত্বরেখার নিচের দিকে কর্মরত নির্বাহীর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা সর্বাপেক্ষা কম হয় এবং প্রতিটা উপরিস্তরে তা ক্রমানুযায়ী বাড়তে থাকে ।

৩. কর্তৃত্বের প্রকৃতি (Nature of authority) :

এরূপ সংগঠনে ঊর্ধ্বতন তার অব্যবহিত অধস্তনের ওপর অধিকমাত্রায় কর্তৃত্বশালী থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে এরূপ ঊর্ধ্বতন তার অধীনস্থ কর্মী বা নির্বাহীদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে গণ্য হয়। আর যে কারণে অধস্তনরা বিনা দ্বিধায় ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ মান্য করে। ও জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে ।

৪. স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ (Self-sufficient department) :

এরূপ সংগঠন কাঠামোতে সংগঠনের কাজকে প্রয়োজনমাফিক বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটা বিভাগের জন্য একজন বিভাগীয় প্রধান নিয়োজিত থাকে । উক্ত প্রধান তার বিভাগের ওপর সর্বময় কতৃত্ব প্রয়োগ করেন। এরূপ প্রতিটা বিভাগ অন্য বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে ।

 

৫. সম পদমর্যাদা (Equal position) :

এ ধরনের সংগঠন কাঠামোর প্রতিটা স্তরে কর্মরত নির্বাহী বা কর্মীগণ সমমর্যাদা ভোগ করে । ধরা যাক, একই স্তরে উৎপাদন বিভাগ, বিক্রয় বিভাগ, ক্রয়-বিভাগ ও শ্রমিক-কর্মী বিভাগ কর্মরত আছে। এক্ষেত্রে প্রতিটা বিভাগের ব্যবস্থাপক সমমর্যাদা সম্পন্ন হয়। ফলে কেউ কারো উপর কোনো কর্তৃত্ব আরোপ করতে পারে না ।

৬. আন্তঃবিভাগীয় যোগাযোগ (Inter-departmental communication) :

এ ধরনের সংগঠন কাঠামোতে বিভাগগুলো একজন সাধারণ ব্যবস্থাপকের অধীনে এবং উপবিভাগগুলো বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের অধীনে কর্মরত থাকে। বিভাগ ও উপবিভাগগুলো নিজেদের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা না করে সাধারণ ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বা বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করে ।

৭. নিয়মানুবর্তিতা (Discipline) :

সরলরৈখিক সংগঠনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এক্ষেত্রে অধিক নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। সামরিক সংগঠনের ন্যায় এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই অধস্তনদের ওপর উর্ধ্বতনদের অধিক কর্তত্ব লক্ষ করা যায়। দ্বৈত-অধীনতার সুযোগ না থাকায় এবং প্রত্যেক নির্বাহীর দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্দিষ্ট থাকায় জবাবদিহিতাও সহজ হয়। 

৮. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Quick decision making) :

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধাও এরূপ সংগঠনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। এর প্রত্যেক স্তরের নির্বাহী স্বপদে একক কর্তৃত্ব ভোগ করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক অধিকার ভোগ করে। পদস্থ বা উপদেষ্টা কর্মীর উপস্থিতি না থাকায় কারও পরামর্শ গ্রহণের কোনো নৈতিক বাধ্য-বাধকতাও তার থাকে না। ফলে এক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকে ।

৯.ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা (Individuality) :

এক্ষেত্রে প্রত্যেক বিভাগীয় নির্বাহী তার বিভাগে একক কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়ায় বিভাগের সকল দায়িত্বও তার ওপরই বর্তে। তার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে দায়িত্ব পালনের মত কোনো সহযোগী না থাকায় পুরো বিভাগের ভালো-মন্দ একক ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ব্যক্তির যোগ্যতা-অযোগ্যতার ওপরও বিভাগের কাজের ফলপ্রদতা নির্ভর করে ।

 

সরলরৈখিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য | সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১০. প্রয়োগ ক্ষেত্র (Field of application) :

সহজ ও সরল প্রকৃতির এরূপ সংগঠন-জটিল ও বৃহদায়তন কার্য পরিবেশে সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা যায় না। এক্ষেত্রে কাজকে কতকগুলো প্রধান বিভাগে ও সীমিত সংখ্যক উপবিভাগ বা স্তরে বিন্যস্ত করে কার্য সমাধা করা হয়। ফলে জটিলতামুক্ত ও সীমাবদ্ধ আয়তন বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এরূপ সংগঠন অধিক উপযোগী ।

উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে উপসংহারে বলা যায় সরলরৈখিক সংগঠন সরল ও সহজ প্রকৃতির পৃথক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ব্যবসায় সংগঠন। ক্ষুদ্রায়তন ও সহজ প্রকৃতির ব্যবসায় সংগঠন পরিচালনার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সংগঠন কাঠামোর যেমনি উদ্ভব ঘটেছিল প্রকৃত অর্থে অদ্যাবধি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কার্যত এর কোন বিকল্প এখনও গড়ে ওঠেনি।

Leave a Comment