আজকের আলোচনার বিযয় নেতৃত্বের বা নেতার গুণাবলি – যা নেতৃত্ব এর অর্ন্তভুক্ত, লক্ষ্যার্জনে নেতার কৌশলকেই নেতৃত্ব নামে অভিহিত করা হয় । এরূপ কৌশল প্রয়োগের সার্থকতা নেতার কতিপয় গুণের ওপর নির্ভর করে । নেতৃত্বের গুণভিত্তিক মতবাদ (Trait Theory of Leadership)-এ মনে করা হয় নেতার বিভিন্ন গুণ-বৈশিষ্ট্যই তাকে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করে । বিভিন্ন সমাজে ও পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের নেতা নেতৃত্ব দেন বিধায় নেতার গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মধ্যে মতের ভিন্নতা লক্ষ করা যায় ।
ইমাম গাজ্জালী (রঃ) বলেছেন, “নেতার অবশ্যই চারটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়; যথা- ন্যায়পরায়ণতা, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও নম্রতা । সেই সাথে নেতার চারটি দোষ পরিহার করা আবশ্যক; যেমন- পরশ্রীকাতরতা, অহমিকা, নীচতা (সংকীর্ণ মানসিকতা) ও অহিতেচ্ছা (বদনিয়ত)।”
Table of Contents
নেতৃত্বের বা নেতার গুণাবলি

অর্ডোয়ে টিড-এর মতে, “যে সকল গুণ একজন ব্যক্তিকে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করে তা হলো শারীরিক ও স্নায়ুবিক শক্তি, উদ্দেশ্যভিত্তিক ও নির্দেশনামুখী মনোভাব, উদ্দীপনা, স্নেহ ও বন্ধুবৎসল, সততা, কারিগরি জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাদানে দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা |
সি. আই. বার্নার্ড নেতৃত্বের গুণাবলিকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন; (১) অধস্তনদের প্রশংসা অর্জনের জন্য উত্তম স্বাস্থ্য, দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, চিন্তাশক্তি, স্মৃতি ও উত্তম বোধগম্যতা এবং (২) অনুসারীদের তুলনায় সাহস, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালানোর মানসিকতা ।” 5 ১৯৭৪ সালে স্টগডিল নেতৃত্ব সংক্রান্ত একটি গবেষণামূলক জরিপ চালান। এতে তিনি বিভিন্ন গবেষকের লেখা ও মতামত বিশ্লেষণ করেন। এতে তিনি দেখতে পান যে, নেতৃত্বের জন্য কয়েকটি গুণ অপরিহার্য বলে সবাই মোটামুটি একমতঃ
১. শারীরিক গুণাবলি – শক্তি, চেহারা ও উচ্চতা;
২. মানসিক গুণাবলি পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা, আক্রমণ প্রবণতা, আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস:
৩. সামাজিক গুণাবলি-সহযোগিতামূলক মনোভাব, যোগাযোগ দক্ষতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা; এবং
৪. কার্য সম্পর্কিত গুণাবলি -উদ্যোগ ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অনমনীয় ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ।
বিভিন্ন লেখকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে একজন সফলকাম নেতার যে সকল গুণ থাকা আবশ্যক বিবেচিত হয় তা নিম্নরূপ :
১. শক্তি ও সামর্থ্য (Energy & ability) :
একজন সফল নেতাকে যথেষ্ট শক্তি ও সামর্থ্যের অধিকারী হওয়া আবশ্যক । কারণ তাকে সব সময় অনুসারীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন এবং পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে পথ চলতে হয় । নেতা নেতৃত্ব দেন বিধায় সব কাজে তারই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তদুপরি প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন জটিলতা অনেক সময় তার ওপর মারাত্মক মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করে। তাই সব বিচারে একজন নেতাকে অবশ্যই যথেষ্ট দৈহিক ও মানসিক শক্তি- সামর্থ্যের অধিকারী হতে হয় ।
২. সাহস ও দৃঢ় মনোবল (Courage and determination) :
একজন নেতা কর্মীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপথে পরিচালনা করেন। এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেমনি তার দায়িত্ব, একইভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পন্থাও তাকেই নির্ধারণ করতে হয় । এক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে তার ঝুঁকি তার ওপরই বর্তে। তাই নেতা যদি সাহসী এবং তার কাজে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ না হয় তবে তার পক্ষে সঠিক নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব হয় না ।
৩. দায়-দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা (Mentality of taking responsibility) :
নেতা, অধস্তনদের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন বিধায় দায়-দায়িত্ব গ্রহণেও তাকে সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। একজন নেতা পূর্বানুমানের ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্য ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন এবং তদনুযায়ী অনুসারীদের পরিচালনা করেন। যে কারণে কাজের ঝুঁকি এবং দায়-দায়িত্ব যেমনি তার বেশি থাকে তেমনি ভালো ফলাফলের প্রশংসাও তারই অধিক প্রাপ্য । নেতার মধ্যে যদি কর্মীদের কাজের দায়-দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা না থাকে তবে কখনই তার পক্ষে অনুসারীদের আস্থা অর্জন সম্ভব হয় না ।
৪. শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা (Education and experience) :
নেতার কাম্যমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। এরূপ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অধস্তনদের মাঝে নেতার ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করে । ফলে আনুগত্য লাভ সহজ হয়। এ ছাড়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা দায়িত্ব পালনে একজন নেতাকে শক্তি যোগায়। ফলে যেকোনো পরিবেশে সঙ্গতি বিধান করে তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় ।
৫. সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা (General knowledge and intelligence) :
একজন আদর্শ নেতাকে পরিবেশ বুঝে কৌশলের সঙ্গে পথ চলতে হয়। নেতার দায়িত্ব পালনে তাকে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ-পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রয়োজন পড়ে। এরূপ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে নিজ যোগ্যতার প্রমাণ ও অনুসারীদের যথাযথ নেতৃত্ব দিতে হলে তার যথেষ্ট সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়া আবশ্যক।
৬. সাংগঠনিক জ্ঞান ও দক্ষতা (Organizational knowledge and skill) :
একজন সফল নেতাকে অবশ্যই যোগ্য সংগঠক হওয়া উচিত । এজন্য কাজকে বাস্তবতার নিরিখে যথাযথভাবে বিভক্তকরণ, কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মী বাছাই, দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের যথাযথ নিরূপণ ও বণ্টন, সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কার্যকর সমন্বয় সাধন এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতাকে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।
৭. অনুসারীদের সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge about subordinates) :
একজন সফল নেতার অবশ্যই তার অনুসারীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া-পাওয়া, শক্তি-সামর্থ্য, আনুগত্যের মাত্রা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা উচিত । নেতা যদি অনুসারীদের মন-মানসিকতা, ধ্যান-ধারণা বিবেচনায় এনে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে ঐ নেতৃত্ব কখনই কার্যকর হতে পারে না। অনুসারীদের চিন্তা-চেতনার বাইরে কোনো কাজ করার প্রয়োজন দেখা দিলে তখনও নেতাকে পূর্বেই কর্মীদের ধ্যান-ধারণায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়নের পদক্ষেপ নিতে হয় ।
৮. যোগাযোগ নৈপুণ্য (Communication skill) :
যোগাযোগ নৈপুণ্য নেতার আরও একটি অপরিহার্য গুণ । নেতা তার চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, আদেশ-নির্দেশ যত সহজ ও সুন্দরভাবে অধস্তনদের জানাতে পারেন ততোই তাদের নিকট থেকে অনুকূল সাড়া লাভ করা যায়। এ ছাড়া অধস্তনদের মনোভাব, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও নেতাকে অবহিত হওয়ার জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন পড়ে । এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ভিতরের ও বাইরের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও তাকে সব সময় যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হয় ।
৯. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা (Ability to take decision) :
যথাসময়ে যথাসিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য নির্ভর করে । নেতা বা নির্বাহী যদি যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হন বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন তবে অধস্তন জনশক্তিকে কখনই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না । তাই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুণ নেতার থাকা আবশ্যক ।
১০. শিক্ষাদানের ক্ষমতা (Teaching capacity) :
নেতার কাজ হলো অধস্তনদের লক্ষ্যপানে পরিচালিত করা । যে কারণে লক্ষ্যপানে চলার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অনুসারীদের মাঝে যাতে সৃষ্টি হয় এজন্য নেতাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা নিতে হয় । এজন্য নেতাকে একজন ভালো শিক্ষক হওয়ারও প্রয়োজন পড়ে । তাই বলা হয়, “A good leader is a good teacher”. অর্থাৎ একজন ভালো নেতা নিঃসন্দেহে একজন ভালো শিক্ষক ।
১১. অনুসন্ধিৎসু মন (Inquisitive mind) :
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য একজন নেতার অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী হওয়া আবশ্যক । এরূপ মন বলতে প্রকৃত তথ্য জানার আগ্রহ ও নতুনত্ব প্রবর্তনের প্রয়াসকে বুঝায় । সকল প্রকার আলাপ-আলোচনা ও কাজ-কর্মে তার জানার আগ্রহ যেমনি থাকা প্রয়োজন তেমনি কীভাবে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে উদ্দেশ্যার্জন নিশ্চিত করা যায় সে সম্পর্কেও তার মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ থাকা আবশ্যক ।
১২. বিশ্লেষণের ক্ষমতা (Ability to analyze) :
একজন নেতার মাঝে সকল ঘটনা, কথা ও কাজকে নিজের আঙ্গিকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার মতো ক্ষমতা থাকা অপরিহার্য । নেতা বা নির্বাহী অন্যের কথা শুনবেন ঠিকই কিন্তু তিনি নিজ মেধাশক্তি দিয়ে যদি তা বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হন তবে তার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মপন্থা অবলম্বন সম্ভব হয় না ।
১৩. ধৈর্য (Patience) : ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা নেতার একটি অপরিহার্য গুণ । প্রতিকূল পরিবেশে নেতা যদি ধৈর্যের পরিচয় দিতে না পারেন তবে তার পক্ষে অনুসারীদের সঠিক পথে পরিচালনা কখনই সম্ভব হতে পারে না । অধস্তনরাও সব সময় কাঙ্ক্ষিত আচরণ করবে এমনও নয় । সেক্ষেত্রে ধৈর্যের সাথে তা সংশোধনের জন্য নেতাকে উদ্যোগী হতে হয় ।
১৪. পরিশ্রম ও কষ্টসহিষ্ণুতা (Hard work and endurance) :
একজন নেতা অধস্তনদের পরিচালনা করেন । তাই নেতা যদি অলস হন, কাজ না করেন, অল্পতেই ভেঙে পড়েন তবে তার পক্ষে অনুসারীদের সঠিক পরিচালনা সম্ভব হয় না । একজন নেতাকে সব সময়ই স্মরণে রাখতে হয় যে, Industry is the mother of good luck”, অর্থাৎ পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ।
১৫. ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা (Ability to control emotion) :
একজন সফল নেতাকে অবশ্যই সব সময় ভাবাবেগের ঊর্ধ্বে উঠে যুক্তি ও বাস্তবতা বিবেচনায় চিন্তা-ভাবনা সহযোগে কাজ করতে হয়। চরম দুঃসময়েও তাকে যেমনি ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে মেজাজ ঠাণ্ডা রেখে অগ্রসর হতে হয় তেমনি সুসময়েও অতি উৎফুল্ল না হয়ে অধিক সফলতা অর্জনের কর্মকৌশল নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়ে ।
১৬. ন্যায়পরায়ণতা (Uprightness) :
একজন নেতাকে অবশই ন্যায়পরায়ণ হওয়া আবশ্যক । অধস্তনদের মাঝে যদি তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন বা সবাইকে সমান নজরে দেখতে না পারেন তবে তার পক্ষে কার্যকর নেতৃত্বদান কখনই সম্ভব হতে পারে না । ন্যায়পরায়ণতার গুণ অধস্তনদের মাঝে নেতার গ্রহণযোগ্যতা ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে ।
১৭. সততা ও আন্তরিকতা (Honesty and sincerity) :
একজন নেতাকে অবশ্যই সৎ, বিশ্বস্ত ও কাজের প্রতি আন্তরিক হওয়া আবশ্যক । নেতার মধ্যে যদি কপটতা থাকে, নেতা নিজেই যদি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন তবে অধস্তনরা তার প্রতি কখনই শ্রদ্ধাশীল হতে পারে না । নেতাকে মনে রাখা আবশ্যক যে,”Devotion to work leads man to the pinnacle of glory”. অর্থাৎ কাজের প্রতি নিষ্ঠাই একজন মানুষকে বিজয়ের চূড়ায় পৌছে দেয় ।
১৮. প্রজ্ঞা (Foresightness) :
একজন নেতাকে অবশ্যই প্রজ্ঞাবান বা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া আবশ্যক । অতীত ও বর্তমানকে বিবেচনা করে তিনি যদি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হন তবে তার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না। এতে লক্ষ্যার্জন যেমনি ব্যাহত হয় তেমনি অনুসারীদের মাঝে নেতার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয় ।
১৯. ব্যক্তিত্ব (Personality) :
একজন নেতাকে অবশ্যই মোহনীয় ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয় । ব্যক্তিত্ব বলতে অন্যের মনে শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করে তাদের ইচ্ছেশক্তির ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনকে বুঝায়। নেতার ব্যক্তিত্ব যদি বলিষ্ঠ ও মোহনীয় হয় সেক্ষেত্রে অনুসারীরা শ্রদ্ধাচিত্তে তার আদেশ-নির্দেশের অনুসরণ করে । ব্যক্তিত্ব হলো মার্জিত ব্যবহার, বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা, গাম্ভীর্যপূর্ণ আচরণ এবং মমতা, আন্তরিকতা ও কর্তৃত্বের সংমিশ্রণে এক বিশেষ গুণ ।

২০. নমনীয় মনোভাব (Flexible attitude) :
পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া নেতার পক্ষে একটি অপরিহার্য গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ জন্য নেতাকে একগুঁয়েমী মনোভাব সব সময়ই পরিহার করে চলা উচিত । অধস্তনদের ভালো পরামর্শ বা অধিকাংশের মতামত গ্রহণ করার মতো নমনীয় মনও নেতার থাকা আবশ্যক ।
উপসংহারে বলা যায়, একজন নেতার মধ্যে উপরোক্ত গুণাবলির সমাবেশ ঘটলেই সে যোগ্য নেতা হিসেবে নিজকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাই যারা মানুষ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে যথাসম্ভব উপরোক্ত সকল গুণ অর্জনে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক ।
