কৌশলগত/সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু 

আজকের আলোচনার বিযয় কৌশলগত/সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু – যা নিয়ন্ত্রণ এর অর্ন্তভুক্ত, নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতপূর্বক কার্যকর নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তা নির্দিষ্ট করা হলে ঐ ক্ষেত্রসমূহকে কৌশলগত বা সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু বলে ।

একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের সকল কাজের যথার্থতা বিচার করবেন ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আরোপ করবেন তা প্রত্যাশা করা যায় না। কারণ তার মূল্যবান সময় ও সামর্থ্য ছোট ছোট কাজের নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তারপক্ষে যথাযথ নজর দেয়া সম্ভব হয় না । তাই ঊর্ধ্বতন নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের কোন্ কোন্ কাজের যথার্থতা মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করবেন তা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট করা হয়। নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট এরূপ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকেই কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বিন্দু বলা হয়ে থাকে।

 

কৌশলগত/সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু 

কৌশলগত/সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু

একজন ঊর্ধ্বতনের এরূপ কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বিন্দু বা এলাকা নির্ধারণের পর যাতে এরূপ নিয়ন্ত্রণকে কার্যকর করা যায় সেজন্য নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ মান নির্দিষ্ট করা হয় । যাতে করে নির্দিষ্ট কার্যফলকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক থেকে তুলনা পূর্বক প্রয়োজনীয় বিচ্যুতি নিরূপণের যথেষ্ট সুযোগ থাকে এবং একজন ঊর্ধ্বতন অর্জিত ফলাফলের ও বিচ্যুতির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হন। এরূপ মান শুধুমাত্র বিচ্যুতি নিরূপণেই সহায়তা করে না প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক উপায় নির্দেশের ক্ষেত্রেই তা যথাযথ সহায়তা করতে পারে । কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ মান নিম্নোক্ত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

১. ভৌত মান (Pysical standards) :

এটি কার্য সম্পাদনের পরিমাণের সাথে জড়িত । যেমন-ঘন্টা প্রতি উৎপাদন এককের পরিমাণ ।

২. ব্যয় মান (Cost standards) :

এটি একক প্রতি প্রত্যক্ষ ব্যয়, উৎপাদন ব্যয়, বিক্রয় ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয় ইত্যাদির সাথে সম্পৃক্ত।

 

৩. মূলধন মান (Capital standards) :

পুঁজি বিনিয়োগের কাম্য পরিমাণ কী-তা নির্ধারণের জন্য এরূপ মান ব্যবহার করা হয় । বিনিয়োজিত মূলধন ও নীট মুনাফার অনুপাত, চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের অনুপাত ইত্যাদি এরূপ মানের উদাহরণ ।

৪.আয় মান (Revenue standards) :

আয়ের যথার্থতা বিচারের জন্যও এ ধরনের মান নির্দিষ্ট করা হয় । প্রতি ইউনিট বিক্রয়ে আয়-ব্যয়ের অনুপাত; ক্রেতা প্রতি গড় বিক্রয় ইত্যাদি এর মধ্যে আসে । 

৫. কর্মসূচি মান (Programme standards) :

ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণকে বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণে সিদ্ধান্ত দিতে হয় বিধায় এর যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য কর্মসূচি মান নির্ধারণ করা হয় । নতুন বাজারজাতকরণ প্রসারে ব্যয় ও বিক্রয় বৃদ্ধির অনুপাত এরূপ মানের উদাহরণ ।

 

কৌশলগত/সংকটাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিন্দু 

 

৬. অস্পর্শনীয় মান (Intangible standards) :

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু বিষয় থাকে যার সংখ্যাত্মক প্রকাশ সম্ভব হয় না । অথচ প্রতিষ্ঠানে এরূপ ক্ষেত্রের উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠানে শিল্প সম্পর্কের মান, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের মান ইত্যাদি এরূপ মানের মধেও পড়ে । 

কৌশলগত নিয়ন্ত্রণবিন্দুর অধীন বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপরোক্ত মান প্রতিষ্ঠা করা যায়। ঊর্ধ্বতন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মানগুলোকে বিবেচনায় এনে অর্জিত কার্যফল মূল্যায়ন, মানের সাথে তুলনা করে বিচ্যুতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নির্দেশ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের মৌল বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সাথে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় । অন্যান্য বিষয়সমূহের নিয়ন্ত্রণের ভার অবস্থানুযায়ী নিচের পর্যায়ের নির্বাহীদের ওপর অর্পিত হয় ।

Leave a Comment