আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মানবিক সম্পর্কের যুগ ।যা ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।
মানবিক সম্পর্কের যুগ

বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় যুগে ব্যবস্থাপনার কারিগরি দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয় কিন্তু মানবিক দিকটি উপেক্ষিত থাকে। যে কারণে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা হয়। অনেকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনাকে অবৈজ্ঞানিক বলে আখ্যায়িত করেন এবং তাঁরা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় মানবিক সম্পর্কের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আচরণের ভূমিকা ও মনোবিজ্ঞানের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চলতে থাকে।
বস্তুতপক্ষে, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অমানবিক দিকের কারণে মানবিক সম্পর্ক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় এবং বিশে শতাব্দীতে এসে এ আন্দোলন পরিপক্বতা লাভ করে। এ সময়ে যে সকল মনীষী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে অবদান রাখেন তাঁদের অধিকাংশই আচরণ বিজ্ঞানী ছিলেন। তাদের মধ্যে হুগো মুনস্টারবার্গ, লিলিয়ান গিলব্রেথ, ম্যাক্স ওয়েবার, অলিভার শেলডন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।নিম্নে তাঁদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করা হল ঃ
হুগো মুনস্টারবার্গ ঃ
হুগো মুনস্টারবার্গ ১৮৬৩ সালের ১ জুন জার্মানির ডানজিগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৮৫ সালে মনোবিজ্ঞানে পি.এইচ.ডি. এবং দু’ বছর পরে হাইডেলবার্গ থেকে এম.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৩ সালে নিউইয়র্ক হতে প্রকাশিত “Psychology and Industrial Efficiency” বইটির জন্য তিনি বেশি বিখ্যাত হন। এ গ্রন্থে ব্যবস্থাপনায় অধিকতর পরিমাণে বিজ্ঞানের প্রয়োগ বিশেষ করে মনোবিজ্ঞানের প্রয়োগ সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রাখা হয়। তিনি প্রস্তাব রাখেন যে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি তিনভাবে হতে পারে, যথা ঃ
১। কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত লোক খুঁজে বের করা;
২। কোন্ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থায় সর্বাধিক মাথাপিছু উৎপাদন লাভ করা যায় তা নির্ধারণ করা; ৩। ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মানুষের মনে অনুকূল প্রভাব সৃষ্টি করা ।
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তিনি প্রধানত মানবিক নৈপুণ্যের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মানবিক নৈপুণ্যতার দৃষ্টিকোণে উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের জন্য মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার উদ্ভাবন করেন। তাঁর মতে সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গের বাছাই প্রক্রিয়ায় মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সুফল প্রদান।
তিনি প্রস্তাব করেন যে, মনোবিজ্ঞানের প্রমাণিত কৌশলগুলো শিল্পীয় সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিক পার্থক্য পরিমাপের জন্যে প্রয়োগ করা যেতে পারে। তিনি মূলত বৈজ্ঞানিক মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার উদ্ভাবন করেন।হুগো মুনস্টারবার্গ বর্ণনা করেছেন কীভাবে বাহ্যিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো একজন ব্যক্তি ও তার কার্যদক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি মত প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর এ তত্ত্ব সংগঠনে ব্যবহার করা হলে মানবীয় সম্পদের অপচয় সবচেয়ে কম হবে এবং এটি ফার্ম ও শ্রমিক উভয়ের জন্য প্রচুর অর্থনৈতিক সুবিধা আনয়নে সক্ষম হবে।
• লিলিয়ান এম. গিলব্রেথ ঃ
টেলরকে যেমন একমাত্র ‘বিরাম ঘড়ি’ (Stop Watch) মানব বলা হয়, তেমনি গিলব্রেথকে একমাত্র ‘গতি পর্যবেক্ষণ’ প্রবক্তা বলে অভিহিত করা উচিত নয়। গিলব্রেথের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধ্যানধারণা তাঁর কর্মস্থলের গণ্ডিকে অতিক্রম করে বহুদূর অগ্রসর হয়েছিল। কার্যকর প্রশিক্ষণ, কর্মপদ্ধতি, উন্নত পরিবেশ ও যন্ত্রাদি এবং মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মানুষের মেধার ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

