আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব।
Table of Contents
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব

প্রশিক্ষণ হল নিয়োজিত কর্মীদেরকে তার কাজ, দায়দায়িত্ব সম্পাদনের কলাকৌশল সম্বন্ধে অবহিত করার প্রচেষ্টা। কর্মী প্রশিক্ষণ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ। সুষ্ঠু কর্ম সম্পাদনের জন্য কর্মীদের নিয়মসম্মত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য এবং তা ব্যতিরেকে কর্মীদের ফলপ্রসূ কর্ম সম্পাদন আদৌ আশা করা যায় না।
সাধারণ অর্থে, কোন কিছু হাতেনাতে শিখানো বা পেশাগত শিক্ষাদানকে প্রশিক্ষণ বলে । ব্যাপক অর্থে, প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের নিকট হতে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ পাওয়ার লক্ষ্যে হাতে-কলমে যে পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির শিক্ষা দেয়া হয়, তাকে প্রশিক্ষণ বলে ।
নিম্নে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আলোচনা করা হল ঃ
১। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পরিচিতি ঃ
প্রশিক্ষণ নতুন নিযুক্ত কর্মীদেরকে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, উদ্দেশ্য ও কর্মধারা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান দান করে। ফলে নতুন কর্মী দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হয়ে উঠে।
২। দক্ষতা বৃদ্ধি ঃ
প্রশিক্ষণ নতুন ও পুরাতন সকল স্তরের কর্মীর কর্মস্পৃহা, কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি কর্মীকে অধিক দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তোলে।
৩। জটিল বিষয়ে জ্ঞান দান :
আধুনিক প্রযুক্তির জটিল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই একমাত্র সম্ভব। ফলে প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা কলাকৌশল ও জটিল যন্ত্রপাতি ইত্যাদির প্রয়োগ ও ব্যবহার সম্ভব হয়।
৪। উৎপাদন ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ঃ
প্রশিক্ষণের ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মান উন্নত উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীদের পারিশ্রমিকের পরিমাণ বেড়ে যায়।
৫। সহজ সমন্বয় ঃ
প্রশিক্ষণের দ্বারা শ্রমিক-কর্মীদের পারস্পরিক মানসিক সম্পর্ক উন্নত হয়। ফলে তাদের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং কাজের মধ্যে সমন্বয় সহজ হয়, যা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির সহায়ক।
৬। তত্ত্বাবধান পরিসর বৃদ্ধি ঃ
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তত্ত্বাবধান সহজ হয় এবং তারা কর্তৃপক্ষের আদেশ ও নির্দেশ পালনে অধিকতর সচেতন হয়। ফলে নির্বাহী কর্ম প্রচেষ্টা ও সময়ে অধিক সংখ্যক শ্রমিক-কর্মীকে তদারক করতে পারে।
৭। মিতব্যয়িতা ঃ
প্রশিক্ষণ শ্রমিক কর্মীদেরকে দায়িত্ব পালন ও কর্মসচেতন করে তোলে। ফলে শ্রম, সময় ও সম্পদের অপচয় হ্রাস পায়।
৮। দুর্ঘটনা হ্রাস পায় ঃ
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারখানার কর্মীদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান দান করা যায়। ফলে যথাসম্ভব দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এতে করে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা কম হয়।
৯। পদোন্নতি ঃ
প্রশিক্ষণ শ্রমিক কর্মীদের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করার কারণে পদোন্নতির সৃষ্টি হয়। ১০। অনুপস্থিতি ও কর্মী আবর্তন হ্রাস ঃ প্রশিক্ষণ কর্মীদের কর্মদক্ষতা বাড়ায়, আনুগত্য বৃদ্ধি করে, কর্মস্পৃহা জাগ্ৰত করে, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি করে। ফলে কাজে অনুপস্থিতি ও কর্মী আবর্তন হ্রাস পায় । ১১। নবতর চিন্তাচেতনার উন্নয়ন ঃ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীদেরকে সর্বশেষ তত্ত্ব ও তথ্য অবগত করানো যায়।প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা-অসুবিধা এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার ও মতবিনিময়ের সুযোগ পায় ।
১২। কার্যকরী নির্দেশনা ঃ
প্রশিক্ষিত কর্মী খুব সহজেই নির্দেশনা সম্পর্কে বুঝতে পারে বলে নির্দেশনার বাস্তবায়ন সহজ ও দ্রুততর হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর নির্দেশনা প্রতিষ্ঠিত হয়। বৃদ্ধি’ করা যায়।
১৩। কারিগরি নৈপুণ্য বৃদ্ধি ঃ
প্রশিক্ষণ প্রদান করে কর্মীদের কারিগরি নৈপুণ্য কার্যে গুণগত ও মানগত পরিবর্তন সাধনে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই।
উপসংহার ঃ পরিশেষে বলা যায়, শ্রমিক-কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের উভয়ের উন্নতিতে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে । আর তাই আধুনিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম নীতি হল- প্রতিষ্ঠানের কার্যকর প্রশিক্ষণ চালু করা ।

