আজকের আলোচনার বিযয় দলের প্রকারভেদ – যা সংগঠন কাঠামো এর শ্রেণিবিভাগ ও কমিটি সংগঠন এর অর্ন্তভুক্ত, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মেই সংগঠন কাঠামোর অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ কাজ করে । প্রতিটা বিভাগের বা উপবিভাগের অধীনে যারা কাজ করে তাদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ ও সাবগ্রুপের সৃষ্টি হয়।
Table of Contents
দলের প্রকারভেদ
এর বাইরে বিভিন্ন বিভাগের ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজনেই কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ গ্রুপ গঠন করতে পারে । এছাড়া প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিশেষ স্বার্থ, সমচিন্তা ইত্যাদি কারণেও অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গড়ে ওঠে । নিম্নের রেখাচিত্রে এর প্রকারভেদ তুলে ধরা হলো :

নিম্নে বিভিন্ন দল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :
১. আনুষ্ঠানিক দল (Formal group) :
একটা প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজনেই যে দলের সৃষ্টি করে তাকে আনুষ্ঠানিক দল বলে । প্রতিষ্ঠানের এরূপ দল নিম্নোক্ত দু’ধরনের হতে পারে :
ক) কার্যভিত্তিক বা আদেশকারী দল (Functional or command group) :
একজন ব্যবস্থাপক ও তার অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের অধস্তনদের সমন্বয়ে যে দল গড়ে ওঠে তাকে কার্যভিত্তিক বা আদেশকারী দল। বলে । উদাহরণস্বরূপ- একটা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বিভাগে বিক্রয় ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে তার অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত সকল অধস্তনের সমন্বয়ে সৃষ্ট দলকে কার্যভিত্তিক দল বলা যায় । একটা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মকাণ্ডের সকল কর্তৃত্ব ও দায় এই দল পালন করে । এভাবে একটা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন এরূপ আনুষ্ঠানিক দল গড়ে ওঠে। বিভিন্ন এরূপ দলের মধ্যে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ ব্যবস্থাপক । যাকে যোগসূত্র রক্ষাকারী (Linking pin) বলা হয়ে থাকে ।
খ) বিশেষ কার্যদল (Task group) :
বিশেষ উদ্দেশ্য গঠিত দলকেই বিশেষ কার্যদল বলে । এ ধরনের বিশেষ দল গঠনের উদ্দেশ্য হলো কার্যভিত্তিক বা আদেশকারী দলের কার্যকে সহায়তা করা। ক্ষেত্রবিশেষে এরূপ দল তৈরি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই প্রয়োজন পড়ে । কখনও কার্যভিত্তিক দলের কাজকে আরো ফলদায়ক করার জন্য বা এরূপ দলের কাজের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ কার্যদল গঠন করা হয় । সাধারণত বিভিন্ন কার্যভিত্তিক বিভাগের ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে বিশেষ কার্যদল (Task group) গঠন করা হয়ে থাকে । এরূপ দল নিম্নোক্ত দু’ধরনের হতে পারে:
i)স্থায়ী বিশেষ কার্যদল (Permanent task group) :
প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কার্যভিত্তিক দলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের সমন্বয়ে একটা বিশেষ কার্যদল গঠন করা যেতে পারে । একে স্থায়ী বিশেষ কার্যদল বলে । একে স্থায়ী কমিটি (Standing committee) বা স্থায়ী টিম (Standing team) ও বলা হয়ে থাকে । এরূপ কার্যদল নির্দিষ্ট সীমিত কার্যক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়মিত কার্যাদি সম্পাদন করে ।
ii) অস্থায়ী বিশেষ কার্যদল (Temporaray task group) :
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ কোনো কাজ সমাধার জন্য একাধিক ব্যক্তিবর্গের ওপর দায়িত্ব প্রদান করা হলে তাকে অস্থায়ী বিশেষ কার্যদল বলে। এরূপ দলকে অস্থায়ী কমিটি (Adhoc committee), টাঙ্কফোর্স (Taskforce), প্রজেক্ট দল (Project group), অস্থায়ী টীম (Adhoc team) বলে । প্রতিষ্ঠানে ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে বা মুনাফা অর্জন সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে এ ধরনের অস্থায়ী বিশেষ দল গঠন করা যায় । বাইরের কোনো একটা প্রজেক্টে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এটা সমাধানের লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয় থেকে একটা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এরূপ দল পাঠানো যেতে পারে ।
২. অনানুষ্ঠানিক দল (Informal group) :
একই বিভাগের বা বিভিন্ন বিভাগের সমমনা ও সমস্বার্থের কর্মীরা সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় বা তাদের স্বার্থে নিজেরা কোনো দল গড়ে তুললে তাকে অনানুষ্ঠানিক দল বলে । আনুষ্ঠানিক দলের যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা থাকে এক্ষেত্রে তা থাকে না। তবে এরূপ দলের সদস্যদের নিজেদের মেলামেশা (Interaction) এর মধ্য দিয়ে এক ধরনের একাত্মতার অনুভূতি, পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ও নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরূপ দল নিম্নোক্ত দু’ধরনের হয়ে থাকে :
ক) সমস্বার্থসম্পন্ন দল (Interest group) :
প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অনেক কর্মী চাকরি হারাতে পারে । এ চিন্তায় সমচিন্তার ও সমস্বার্থের ব্যক্তিবর্গ নিজেরা মিলে কোনো অনানুষ্ঠানিক দল গড়ে তুললে তাকে সমস্বার্থসম্পন্ন দল বলা যায়। এভাবে প্রতিষ্ঠানে কোনো নতুন কিছু প্রবর্তনের দাবিতে বা প্রবর্তনের বিরুদ্ধে এ ধরনের দল গড়ে উঠতে দেখা যায়। এ ধরনের দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর হতে পারে ।

খ) বন্ধসুলভ দল (Friendship group) :
সামাজিক প্রয়োজন বা একের সাথে অন্যের মিলে চলার সহজাত প্রবণতা থেকে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কারও কারও প্রতি কারও ভালো লাগা বা বন্ধুত্বের সৃষ্টি হতে পারে । এর ফলে পারস্পরিক মেলামেশা এবং এর মধ্য দিয়ে যে অনানুষ্ঠানিক দলের জন্ম হয় তাকে বন্ধুসুলভ দল বলে । একই বৈশিষ্ট্যের, একই চিন্তার, একই পটভূমি (Back ground) থেকে আসা ব্যক্তিবর্গের মধ্যে এরূপ দল গড়ে উঠতে দেখা যায়। এ ধরনের দল প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয় ।
