আনুষ্ঠানিক সংগঠন/নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন

আনুষ্ঠানিক সংগঠন/নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পর্ক থেকে যে সংগঠন কাঠামোর সৃষ্টি হয় তাকে আনুষ্ঠানিক -সংগঠন বলে । এরূপ সংগঠনে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন পদ, প্রত্যেক পদে সম্পাদিত কাজ, দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করা হয় । এ ছাড়া ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কে কার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত থাকবে বা কার কাছ থেকে আদেশ লাভ করবে ও কাজের জন্য কার নিকট জবাবদিহি করবে তা পূর্ব হতেই নির্দিষ্ট থাকে ।

আনুষ্ঠানিক সংগঠন/নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন

 

আনুষ্ঠানিক সংগঠন/নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

I. Barnard আনুষ্ঠানিক সংগঠন সম্পর্কে বলেছেন, “Formal organization is an when the activities of two or more persons are consciously co-ordinated towards a given objective. ..20 অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক সংগঠন হলো এমন একটি সংগঠন যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির কাজকে সচেতনভাবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত করা হয় ।

organization Trewatha 3 Newport 4, “The formal organization is basically a goal – oriented social entity which exists to accomodate the efforts of individuals and groups.” সংগঠন হলো মূলত লক্ষ্যকেন্দ্রিক একটি সামাজিক সত্তা যেখানে ব্যক্তিক ও দলের সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর পরিবেশ বিদ্যমান থাকে । .”21 অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সম্পর্কে Terry ও Franklin তিনটা বিষয়ের উল্লেখ করেছেন : 

 

(১) কার্য বিভাজন, (২) কার্য বিভাগীয়করণ ও (৩) নিয়ন্ত্রণের পরিসর । 22 এগুলো নির্ধারণপূর্বক কোনো সংগঠন করা হলে লেখকদ্বয় ঐ সংগঠনকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলতে চেয়েছেন । Trewatha 3 Newport এ প্রসঙ্গে স্তনটা উপাদানের কথা বলেছেন; যেমন- (১) উদ্দেশ্যসমূহের সংজ্ঞায়িতকরণ, (২) ব্যক্তিদের বিভিন্ন কাজের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের ব্যবস্থা নির্দিষ্টকরণ এবং (৩) ব্যক্তি ও কাজের মধ্যে কর্তৃত্বগত সম্পর্কের সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুষ্ঠানিক সংগঠনের যে সকল উপাদান লক্ষণীয় তা নিম্নরূপ : 

১.একটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এরূপ সংগঠন ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অনেক ভেবে-চিন্তে দাঁড় করানো হয়;

২. এরূপ সংগঠনে কাজকে সুচিন্তিতভাবে ভাগ করা হয় এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগ-উপবিভাগ খুলে কাজগুলোকে বিন্যস্ত করা হয়;

৩. এক্ষেত্রে প্রত্যেক কাজের জন্য দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব পূর্ব হতেই নির্দিষ্ট করা হয় এবং নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব বুঝে দেয়া হয়; 

 

আনুষ্ঠানিক সংগঠন/নিয়মতান্ত্রিক সংগঠন | ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৪. এক্ষেত্রে ওপর হতে নিচ পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি ও বিভাগকে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয় এবং কে কার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত তা বলে দেওয়া হয় এবং

৫. এরূপ সংগঠনে কে কার ঊর্ধ্বতন (Boss) এবং কে কার অধস্তন (Subordinate) তা বুঝা যায় এবং সে অনুযায়ী নির্দেশনা প্রদান ও জবাবদিহিতা করা হয় ।

Leave a Comment