সাংগঠনিক সম্পর্ক ও এর শ্রেণীবিভাগ নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। সংগঠনকে কাজ বা প্রতিষ্ঠান যে অর্থেই ব্যবহার করা হোক না কেন তা নিজে নিজেই কোনো ফল দিতে পারে না । এর মূলে থাকে এতে নিয়োজিত জনশক্তি । প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত জনশক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে সাংগঠনিক প্রয়োজন ও নিয়মে একটা বাধ্য-বাধকতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরূপ সম্পর্কের পিছনে আদেশ দান ও জবাবদিহিতার বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত।
মানুষ সামাজিক জীব । তাই মানুষ যেখানে কাজ করে সেখানে তার আশপাশের মানুষদের সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে । এরূপ সম্পর্ক শুধুমাত্র সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর বাইরেও স্নেহ, শ্রদ্ধা বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় । একের দুঃখে অন্যে দুঃখী হয়, একের চাওয়া-পাওয়াতেও অন্যেরা শরিক হয় । এভাবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া, আগ্রহ-অনাগ্রহ ইত্যাদি মিলে বিভিন্ন স্বার্থ চিন্তায় অনেকের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক এবং তা হতে এক সময়ে অনানুষ্ঠানিক দল গড়ে ওঠে । উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রতিষ্ঠানের জনশক্তির মধ্যেকার সম্পর্ককে নিম্নোক্ত দু’ভাগে ভাগ করা যায় :
Table of Contents
সাংগঠনিক সম্পর্ক ও এর শ্রেণীবিভাগ

১. আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক (Formal relationship) :
প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী বা সাংগঠনিক নিয়মে এর ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত নির্বাহী, কর্মী, বিভাগ, উপ-বিভাগ ইত্যাদির মধ্যে যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাই আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক । এরূপ সম্পর্ক বলে একজন ঊর্ধ্বতন অধস্তনকে আদেশ দেন, আদেশ পালনে বাধ্য করার ব্যবস্থা করেন ও জবাবদিহি করেন। এরূপ সম্পর্ককে নিম্নোক্ত তিনভাগে ভাগ করা যায়।
(ক) প্রত্যক্ষ আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক (Direct formal relationship) :
কোনো একজন ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত নির্বাহী বা কর্মীর যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তাকে প্রত্যক্ষ আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বলে ।
(খ) পার্শ্বিক আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক (Lateral formal relationship) :
পাশাপাশি কর্তব্যরত কর্মী ব নির্বাহীর মধ্যে সাংগঠনিক প্রয়োজনে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাকে পার্শ্বিক আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বলে। এরূপ সম্পর্ক মূলত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জন্য গড়ে ওঠে । ক্রয় বিভাগ, উৎপাদন বিভাগ ও বিজ্ঞ বিভাগের বিভাগীয় নির্বাহীদের মধ্যে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তাই পার্শ্বিক আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ।
(গ) আনুষ্ঠানিক কার্যিক সম্পর্ক (Formal functional relationship) :
প্রত্যক্ষ ও পার্শ্বিক সম্পর্কে বাইরেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ বা বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাহী বা বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্যদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে একে আনুষ্ঠানিক কার্যিক সম্পর্ক বলে । প্রতিষ্ঠানের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মেরামত কর্মকর্তার সাথে সৃষ্ট সম্পর্ক এর উদাহরণ।

২. অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক (Informal relationship) ) :
সাংগঠনিক কাঠামোগত বা সাংগঠনিক নিয়মে নির্দেশিত সম্পর্কের বাইরে প্রতিষ্ঠানে সমপর্যায়ে কর্মরত বা বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত নির্বাহী বা কর্মীদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাকে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বলে । এরূপ সম্পর্ক সাংগঠনিক সম্পর্কের ন্যায় বাধ্যবাধকতার ও আনুষ্ঠানিকতার দ্বারা গণ্ডিবদ্ধ হয় না। বরং এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া, শ্রদ্ধা-স্নেহ, মনের মিল ইত্যাদি মুখ্য বিবেচিত হয় ।
I. Barnard এ সম্পর্কেই বলেছেন, “Informal relationships help organizational members satisfy their social needs and get things done.”18 এরূপ অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক হতে অনেকসময় অনানুষ্ঠানিক দল (Informal Group) গড়ে ওঠে। R. M. Hodgetts বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও বন্ধুত্ব- এ দু’টি প্রধান বিষয়কে অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠানে অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গড়ে উঠতে দেখা যায় ।19 এরূপ গ্রুপ হতে আবার অনানুষ্ঠানিক সংগঠন (Informal Organization) গড়ে ওঠে ।
