সাংগঠনিক উন্নয়ন নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” ব্যবস্থাপনা পরিসর ও বিভাগীয়করণ” বিষয়ক পাঠের অংশ। কার্য বিভাজন, দায়িত্ব-কর্তৃত্ব নিরূপণ ও বণ্টন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের কাজকে সংগঠন বলে। সংগঠন কাঠামোতে যেহেতু এ বিষয়গুলো নির্দিষ্ট থাকে তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে কার্যকর সমন্বয় বিধানে সংগঠন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আবশ্যক বিবেচিত হয় । তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধান করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষার্জনের জন্য সংগঠন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন বা উন্নয়ন সাধনকেই সাংগঠনিক -উন্নয়ন বলে । নিম্নে এর দু’টি সংজ্ঞা প্রদত্ত হলো :
সাংগঠনিক উন্নয়ন

১. Weihrich, Cannice & Koontz এর মতে, ‘Organizational development (OD) is a systematic integrted and planned approach in improving enterprise effectiveness.” অর্থাৎ সাংগঠনিক- উন্নয়ন হলো প্রাতিষ্ঠানিক ফলপ্রদতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মমাফিক, সমন্বিত ও পরিকল্পিত একটা ধারণা ।
২. Bartol ও Martin লেখকদ্বয়ের মতে, “Organizational development (OD) is a change efion that is planned, focused on an entire organization or a large sub-system, monaged from the top aimed at enhancing organizational health and effectiveness and based on planned interventions অর্থাৎ সাংগঠনিক- উন্নয়ন হলো ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকগণ কর্তৃক পরিচালিত এমন একটা পরিকল্পিত পরিবর্তন প্রয়াস যার লক্ষ্য হলো সামগ্রিক সংগঠন বা এর বড়ো কোন উপপদ্ধতির সুস্থতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা ।
সাংগঠনিক উন্নয়নের ধারণা ব্যক্তি উন্নয়ন থেকে ভিন্নতর হলেও যেহেতু এরূপ উন্নয়নের সাথে ব্যক্তির কর্তৃত্ব- ক্ষমতা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কযুক্ত তাই ব্যক্তিক উন্নয়নের বিষয়টি এর দ্বারা প্রভাবিত হয় । সাংগঠনিক- উন্নয়নে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত
১. সংগঠন পুনঃকাঠামোবদ্ধকরণ;
২. নতুন কার্য ডিজাইন;
৩. কার্য পুনঃশক্তিকরণ:
৪. কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার পুনঃবিন্যাস;
৫. সাংগঠনিক রীতি-পদ্ধতির পরিবর্তন;
৬. নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের উন্নয়ন;
৭. কাজের ভার বিন্যাস ও ভারসাম্য স্থাপন;

৮. কাজে জবাবদিহিতার পদ্ধতিগত পরিবর্তন;
৯. যোগাযোগ ব্যবস্থার পদ্ধতিগত উন্নয়ন;
১০. ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সোপান নির্দিষ্টকরণ ইত্যাদি ।
