আজকের আলোচনার বিযয় বাজেটারি বা বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণে নমনীয়তা অর্জনের উপায় – যা নিয়ন্ত্রণ এর অর্ন্তভুক্ত, বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ- পরিকল্পনা গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণের একটি সংখ্যাত্মক কৌশল । ভবিষ্যতের পটভূমিতে পূর্বানুমানের ওপর ভিত্তি করে বাজেট প্রণীত হয়, কিন্তু পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে বাজেটে অবশ্যই নমনীয়তা থাকা উচিত ।
J. P. Bose বলেছেন, “Budgeting being a part of planning it must have flexibility to changing conditions.” অর্থাৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজেটকে অবশ্যই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এরূপ নমনীয়তা অর্জন বিভিন্ন উপায়ে করা যায় । নিম্নে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

Table of Contents
বাজেটারি বা বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণে নমনীয়তা অর্জনের উপায়
১. আদর্শ ব্যয় পদ্ধতি (Standard costing method) :
বাজেটে নমনীয়তা প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম উপায় হলো সকল ক্ষেত্রে আদর্শ ব্যয় পদ্ধতি গড়ে তোলা । যেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে বৃহদায়তন উৎপাদন কার্য পরিচালিত হয়। তখন উৎপাদনের কোনো একটি উপকরণের ব্যয় হঠাৎ করে বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। অথচ এরূপ হ্রাস-বৃদ্ধি সামগ্রিক বাজেটের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ব্যাপক সংখ্যাত্মক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
সেক্ষেত্রে যদি প্রতিটা খরচের আদর্শ ব্যয় নির্দিষ্ট করা থাকে তবে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি মেনে নিয়ে বাজেটে দ্রুত সংশোধন করা যায়। অন্যান্য খরচে আদর্শ ব্যয় পদ্ধতি অনুসরণ করায় এ অবস্থায় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয় না বা কারো পক্ষে বাজেটে ব্যাপক পরিবর্তনের চিন্তা করারও সুযোগ থাকে না ।

২. বিকল্প বাজেট (Alternative budget) :
যেক্ষেত্রে ভবিষ্যত অবস্থাকে কোনো স্থির ভিত্তির ওপর ধরে নেয়া হয় না অর্থাৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে বাজেটারি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অনুসরণে জটিলতা দেখা দেয় । তাই সেঅবস্থায় এরূপ পদ্ধতির অনুসরণের জন্য বিকল্প বাজেট তৈরি করে বাজেট পরিকল্পনায় নমনীয়তা আনা সম্ভব হয় ।
এক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তিত অবস্থাকে চিন্তা করে তার আলোকে পৃথক পৃথক বাজেট তৈরি করা হয় এবং তার মধ্য থেকে সকল বিবেচনায় উত্তম বাজেটকে পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরবর্তীতে যদি অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে তবে কোন্ বাজেটটি ঐ অবস্থায় সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ধারণপূর্বক সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে ।
৩. পরিবর্তনশীল বাজেট (Flexible budget) :
বাজেটে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনশীল বাজেট তৈরি করে । এক্ষত্রে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি চিন্তা করে দু’টি বিকল্প দাঁড় করানো হয় এবং উক্ত অবস্থাকে পাশাপাশি রেখে তার মধ্যবর্তী একটা অবস্থাকে বাজেট হিসেবে প্রণয়ন করা হয়। এক্ষেত্রে যদি কোনো পরিবর্তন ঘটে তবে তা দুটি পরিবর্তনশীল অবস্থার যেকোনো একটির সাথে মিলে যায় বা অনেকটা অনুরূপ হয় ।
ফলে সেক্ষেত্রে উক্ত বাজেটকে বিবেচনায় এনে বাজেট পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা হয়। এটি অনেকটা বিকল্প বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতির মতো হলেও পূর্বাপেক্ষা পদ্ধতিগতভাবে ও নির্দিষ্টতার বিচারে তা যথেষ্ট ফলপ্রদ হয়ে থাকে ।

৪. পর্যায়ক্রমিক সমীক্ষা (Periodic Review) :
বাজেটারি নিয়ন্ত্রণে নমনীয়তা অর্জনের আরেকটি উপায় হলো গৃহীত বাজেটের কার্যকারিতা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়াত্তর পর্যালোচনা করা ও বাজেটে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধনপূর্বক বাজেটকে নতুনভাবে দাঁড় করা। বাজেটে আয়-ব্যয় বা পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে সকল সম্ভাবনা হিসাব করা হয় তা অনেকসময়ই পরিবর্তিত হয় ।
তাই উক্ত পরিবর্তনকে যদি যথাসময়ে বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করা না হয় তবে বাজেটকাল শেষে বড় ধরনের বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়। যা নিয়ন্ত্রণে তখন আর কিছুই করণীয় থাকে না । তাই বাজেটকালকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করে যদি প্রতিটা পর্যায় শেষে বাজেটকে পর্যালোচনা করা যায়, বিচ্যুতি নির্ণয়পূর্বক কার্যব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োজনে বাজেটে সংশোধনী আনা যায় তবে এরূপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর ফল দিতে পারে ।
পরিশেষে বলা যায়, নমনীয়তা অর্জনের লক্ষ্যে উপরোক্ত পদ্ধতিসমূহ সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করা হলে বাজেটে নমনীয়তা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা সম্ভব হয়। তবে এক্ষেত্রে নির্বাহীদের অবশ্যই কারিগরি মান বিবেচনায় দক্ষ ও যোগ্য হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ।
আরও দেখুনঃ
