উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অসুবিধা

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অসুবিধা এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” উদ্দেশ্য” বিষয়ক পাঠের অংশ। বহুবিধ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এদের মধ্যে কতকগুলো পদ্ধতিগত এবং কতকগুলো প্রয়োগজনিত । নিম্নে সুবিধাসমূহ তা আলোচনা করা হলো :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অসুবিধা

 

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অসুবিধা | উদ্দেশ্য | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

১. মূল দর্শন অনুধাবনে ব্যর্থতা (Failure of understanding main philosophy) :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আপাত দৃষ্টিতে সহজ বলে প্রতীয়মান হলেও বাস্তবে ততোটা সহজ নয় । যে ব্যবস্থাপক এটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে চান এর অন্তর্নিহিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তার ভালো ধারণা থাকা আবশ্যক । এর জন্য প্রয়োজন সমগ্র কর্মসূচির ব্যাপক ব্যাখ্যা প্রদান করা। যার অভাবে ব্যবস্থাপকগণের পক্ষে এর আবশ্যকতা যথার্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না ।

২. লক্ষ্যমাত্রা প্রতিষ্ঠায় সমস্যা (Problems in setting goals) :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মূল হলো প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে পরিমাপযোগ্য উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করা । কিন্তু পরিমাপযোগ্য উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করা বাস্তবিকই একটি কঠিন কাজ। কারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজকে যথাযথভাবে সংখ্যায় প্রকাশ করা প্রকৃতপক্ষেই সম্ভব নয় । ভিত্তি

৩. লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে যথাযথ নির্দেশিকা প্রদানে ব্যর্থতা (Failure of giving proper instruction determining goal) :

অধস্তন পর্যায়ে যারা উদ্দেশ্য নিরূপণ করেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাদানে অপারগ হলে উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ফলপ্রদ হয় না। একজন নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপককে জানতে হয় তার ব্যবসার সম্পর্কিত সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা কী এবং সেগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য ব্যবহার্য। গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যমাত্রাসমূহ যদি অস্পষ্ট, অবাস্তব অথবা অসঙ্গতিপূর্ণ হয় তবে তা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত করে।

 

৪. স্বল্পকালীন উদ্দেশ্যাবলির ওপর গুরুত্বারোপ (Giving importance on short-term objectives):

এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় সাধারণত মাসিক ও বাৎসরিক সময়ের জন্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে দীর্ঘকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিঘ্নিত হয় । যেমন- টার্গেট অর্জনে অনেক সময় বিক্রয়কর্মীগণ বিশেষ ক্রেতাদের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করে । এতে যদিও সাময়িক উদ্দেশ্য হাসিল হয় কিন্তু নতুন খরিদ্দার সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা এতে ব্যাহত হয়ে থাকে ।

৫. বাস্তবায়নে জটিলতা (Complexity in implementation) :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ধারণাটি মূলত জটিল না হলেও এর বাস্তবায়ন জটিল ও সময়সাপেক্ষ । একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক পর্যায়ে অধস্তনদের যখন এ ধরনের পদ্ধতি সম্বন্ধে ধারণা থাকে না তখন উদ্দেশ্যাবলি প্রতিষ্ঠা, প্রধান ফলাফল মানদণ্ডগুলো চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের ব্যবস্থাপনার স্বরূপ ও উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অধস্তনদের অবহিত করানো খুবই কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ।

৬. অনমনীয়তা (Inflexibility) :

বিদ্যমান চিন্তা ও কাজের বাইরে যেয়ে কিছু করার এক ধরনের অনমনীয় মনোভাব এরূপ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রয়োগ ও এর যথাযথ ব্যবহারে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে দেখা যায়, ব্যবস্থাপকগণ নতুন করে উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে একই ধরনের অনমনীয় উদ্দেশ্য পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে অসমর্থ হয় । যা কার্যক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে ।।

৭. সাময়িক উদ্দেশ্য সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ (Giving importance on the achievement of short- term objectives) :

যেহেতু MBO কর্মসূচি সর্বদা সমাপনী ফলাফলের ওপরই আলোকপাত করে, তাই তা অধস্তনদের মনে উপকরণাদির সাময়িক ব্যবহারের মাধ্যমে ফল লাভের প্রবণতার জন্ম দিতে পারে । যা সংগঠনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। যেমন- একজন উৎপাদন ব্যবস্থাপক যদি তার বিভাগের জন্য নির্ধারিত বাৎসরিক বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ না করেন তবে তা বার্ষিক বাজেটের উদ্দেশ্য সাধন করলেও অদূর ভবিষ্যতে তা কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।

 

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অসুবিধা | উদ্দেশ্য | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৮. অন্যান্য অসুবিধাসমূহ (Other disadvantages) :

উদ্দেশ্যেভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আরও কতিপয় অসুবিধা রয়েছে; যেমন-উদ্দেশ্যের পরিমাপযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপের ফলে হয়তো এমনও হতে পারে যে, যে সকল ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যকে সংখ্যায়িত করা যায় না, সেখানেও যদি তা করা হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান খর্ব হতে পারে । ব্যবস্থাপকগণ যোগ্য না হলে যথাযথ উদ্দেশ্য নির্ধারণে ও তা অর্জনে তাদের ভূমিকা এরূপ ব্যবস্থাপনার স্বার্থক প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করে।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে পরিশেষে বলা যায়, উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা ও অসুবিধা দুই-ই রয়েছে। বর্ণিত অসুবিধাসমূহ চিহ্নিত করে এর সমাধানে প্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় করা গেলে এরূপ ব্যবস্থাপনা ধারণার প্রয়োগ যথেষ্ট ফল দিত সম্ভব ।

Leave a Comment