উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “ব্যবস্থাপনা নীতিমালা” বিষয়ের ” উদ্দেশ্য” বিষয়ক পাঠের অংশ। ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা যে নতুন ও সম্প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে তা বর্তমানে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সকল পর্যায়ে যথাযথ ও সমন্বিত উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ, কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা গেলে তা থেকে প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি সুফল পেতে পারে । নিম্নে এর সুবিধা বা সুফল তুলে ধরা হলো :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা

 

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা | উদ্দেশ্য | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

১. স্বচ্ছ ও সমন্বিত উদ্দেশ্যাবলি প্রতিষ্ঠা (Setting up clear and co-ordinated objectives) :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে নির্দিষ্ট সময়ে কার্য সম্পাদন করার জন্য কতকগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। অধিকন্তু প্রত্যেক কর্মীর উদ্দেশ্যসমূহ যাতে অপরাপর কর্মীদের উদ্দেশ্যাবলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় তার ওপরও জোর দেয়া হয়ে থাকে । ফলে সাংগঠনিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেক কর্মীর যথাযথ অবদান রাখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। উদ্দেশ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অধস্তনদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসাহ প্রদান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক 

২. কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ (Wider participation of employees) :

এ ধরনের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে : চাপিয়ে দেয়া উদ্দেশ্যের চেয়ে অধস্তনদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তারা স্বভাবতই অধিকতর উৎসাহ বোধ করে । কারণ সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অংশীদারিত্বের মানসিক তৃপ্তিবোধ জন্মে । 

 

৪. আত্মনিয়ন্ত্রণের সুবিধা (Advantages of self-control) :

এরূপ ব্যবস্থাপনায় যেহেতু প্রত্যেক বিভাগ উপবিভাগকে নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য উদ্দেশ্য অর্জনে চেষ্টা চালাতে হয় সেহেতু প্রত্যেকেই ঐ উদ্দেশ্যের নিরিয়ে আপন আপন সম্পাদিত কার্য মূল্যায়ন ও বিচ্যুতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এতে আত্মনিয়ন্ত্রণের সুবিধা অর্জন করা যায় ।

৫. নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা (Help to introduce proper controlling system) :

এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাতেও অধিক সহায়তা করতে পারে । কারণ এক্ষেত্রে প্রতিটা বিভাগ ও উপবিভাগ নির্দিষ্ট সময় শেষে তাদের কার্যফল মূল্যায়ন করে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সাথে তা মিলিয়ে বিচ্যুতি নিরূপণ করে । বিভাগীয় উর্ধ্বতন ও অধস্তনরা মিলে এ কাজটি করায় বিচ্যুতির কারণ নির্ণয় সহজ। হয় । ফলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে থাকে ।

 

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা | উদ্দেশ্য | ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

 

৬. উত্তম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (Better management practice) :

উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ফলাফলমুখ পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বলে ব্যবস্থাপনার মানও অধিকতর উন্নত হয়। এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় শুধু বাস্তবধর্মী উদ্দেশ্যই নির্ধারিত হয় না বরং ঐ সমস্ত উদ্দেশ্য কীভাবে অর্জন করা হবে এবং ঐগুলো অর্জন করতে কোন্ ধরনের সংগঠন, কোন্ ধরনের কর্মী ও কী পরিমাণ সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হবে তারও ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment